নড়াইলে স্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলছে জমজমাট বাণিজ্য!

412

নড়াইলকণ্ঠ : নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কল্যানখালী গ্রামের হাসিনা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূর স্বাভাবিক মৃত্যুকে পূজিকরে প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে নিহতের পরিবার ও একটি কুচক্রি মহল। ময়না তদন্তের রিপোর্টে স্বাভাবিক মৃত্যকে হত্যা বলে বের করার জন্য নড়াইল সদর হাসপাতলের ডাক্তারকে ম্যানেজ করতে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার কাছে মোটা অংকের অর্থ লেনদেন করেছে বলে একটি সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানাগেছে। এমনকি যে কোন মূল্যে এ ঘটনাকে হত্যা হিসাবে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে হত্যার অভিযোগ এনে এলাকার অর্ধশতাধিক সাধারণ মানুষের নামে নড়াইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিহতের পরিবার। ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার কয়েক গ্রামের মানুষ সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনসহ কর্মসূচি পালন করেছেন।
ওই সময়ে ঘটনাস্থলে আইন শৃংখলা রক্ষার্থে নিয়োজিত ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী নড়াইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন জানান, ঘটনার দিন তিনি ঘটনা স্থলেই উপস্থিত ছিলেন। তার চোখের সামনেই নিহত হাসিনা বেগম হঠাৎ পাকা রাস্তার উপর পড়ে যায়। ঘটনা স্থলে কোন মানুষ না থাকায় তিনি (এস আই ফারুক) পাশের বাড়ির এক মহিলাকে ডেকে অসুস্থ্য হাসিনা বেগমকে নড়াইল সদর হাসপাতলে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার পরামর্শদেন এবং নিহতের স্বামী জালাল উদ্দিন মন্টুকে ফোন করে জানান তার স্ত্রী হাসিনা বেগম অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় চিকিৎসার জন্য নড়াইল সদর হাসপাতলে পাঠানো হয়েছে। জালাল উদ্দিন মন্টু তখন নড়াইলের এক নেতার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন। হাসিনা বেগমের অসুস্থ্য হওয়ার বিষয়টি তিনি তাৎক্ষনিক নড়াইলের পুলিশ সুপার ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে ও অবহিত করেন। অসুস্থ্য হাসিনা বেগমকে হাসপাতলে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। পরে তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পুন:রায় বিকেলে সদর হাসপাতালে নিয়ে এসে হাসিনা বেগমের লাশের ময়নাতদন্ত করানো জন্য। পরদিন লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট লাশ হস্তান্তর করে। শুরু হয় লাশ নিয়ে রাজনিতী। এলাকার প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে লাশের ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে আঘাতে হত্যা করা হয়েছে এমন প্রতিবেদন পেতে একটি কুচক্রী মহলের সাথে আতাত করে মোটা অংকের অর্থের লেনদেনও সম্পন্ন হয়েছে বলে সূত্র জানায়। ময়না প্রতিবেদন পক্ষে নিতে ওই চক্রটি চিকিৎসকদেও নানান ভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে প্রতিপক্ষের অভিযোগ।
জানাগেছে, গত ১ জুলাই সকালে সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের জালাল উদ্দিন মন্টুর ছেলে জুয়েলকে প্রতিপক্ষ রুহুল গ্রুপের লোকজন মারধর করে। এ ঘটনার পরে জালাল উদ্দিন মন্টুর লোকজন প্রতিপক্ষের আব্দুল হামিদ মোল্যাকে মারধর করে। একই দিনে মন্টুর স্ত্রী হাসিনা বেগম হৃদযন্ত্রের ক্রীয়াবন্ধ হয়ে নড়াইল সদর হাসপাতলে নেওয়ার পথে মৃত্য বরন করেন। মৃত্যুর পর প্রথমে নিহতকে বাড়িতে নিয়ে যান পরিবারের লোকেরা। পরে স্থানীয় কিছু কুচক্রীমহলের পরামর্শে প্রতি পক্ষকে ফাসানোর জন্য লাশ পুনরায় বাড়ি থেকে নড়াইল সদর হাসপাতলে নিয়ে ময়না তদন্ত করান। ময়না তদন্ত করার পর থেকেই হত্যার প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ডাক্তারদের বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকে। পরে নড়াইল সদর হাসপাতলের ডাক্তারদের ম্যানেজ করতে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার কাছে মোটা অংকের টাকা দেন। প্রভাবশালী এই নেতা নিহতের পরিবারকে আশ্বস্থ্য করেছেন ডাক্তারদের ম্যানেজ করে হত্য হিসাবেই ময়না তদন্ত রিপোর্ট বের করে দিবেন তিনি।
এ ব্যাপারে নড়াইল সদর হাসপাতলের ডাক্তার মশিউর রহমান বাবু জানান, ময়না তদন্ত রিপোর্টে কি আছে সেটা রিপোর্ট না বের হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না। তিনি আরও জানান, প্রকৃতপক্ষে সত্য ঘটনাই ময়না তদন্তের রিপোর্টে পাওয়া যাবে। কোন প্রকার লেনদেন করার কোন সুযোগ এখানে নেই। অল্প দিনের মধ্যেই রিপোর্ট দেওয়া হবে বলে আশা করেন তিনি।
নিহতের স্বামী জালাল উদ্দিন মন্টু বলেন, ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। নড়াইলের এক নেতার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন। তিনি শুনেছেন একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তার প্রতিপক্ষের লোকেরা তার স্ত্রীকে ধাক্কা দিলে তার স্ত্রী অসুস্থ্য হয় পরে তার স্ত্রী মারা যান।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খান জানান, বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ্যা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, নিরাপরাধ কাউকে এই বিষয় নিয়ে হয়রানি করা হবে না।
এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। গত ৪ জুলাই সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এলাকাবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হামিদ মোল্যা, আক্তার হোসেন, আলমগীর কবীর, রুহল আমিন প্রমূখ। মানববন্ধনে মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী, মাগুরা, তাড়াসি, মাইজপাড়া, গড়েরহাট ও মনখালী গ্রামসহ এলাকার কয়েক শত নারী-পুরুষ অংশ নেয়। পরে এক সংবাদ সম্মেলন করেন এলাকাবাসী।