আওয়ামী লীগ ক্ষমতার দম্ভ দেখায় না -ওবায়দুল কাদের

166

নড়াইলকণ্ঠ : আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘যারা ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতার দাপট দেখায়, তারা দ্রুত ক্ষমতাচ্যুৎ হয়। আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় থাকলেও অনেক কর্মীরা অসহায় জীবনযাপন করছেন। তাদের অনেকের ঘরের চালা নেই। এক ঘরে গাদাগাদি করে আস্তাবলের মতো পরিবেশে বসবাস করে। তবুও তারা ক্ষমতার দম্ভ দেখায় না।’
রবিবার (৯ জুলাই) খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ৪টি নির্দেশনা দিয়েছেন। যার অন্যতম প্রধান হচ্ছে তৃণমূলে থাকা অসুস্থ, অসহায় ও অস্বচ্ছল কর্মীদের তালিকা তৈরি করে কেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা। তাদেরকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া। এখন ঢাকায় ৫০ জনের মতো কর্মীর চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।’
সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেসব এলাকায় দলীয়, নিজস্ব বা ভাড়া অফিস আছে এবং যেসব এলাকায় নিজস্ব অফিস নেই সে তালিকা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। ওয়ার্ড পর্যন্ত এ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। নির্বাচন কেন্দ্র এলাকায় নির্বাচনি কমিটি গঠন করতে হবে। এ কমিটিতে শিক্ষিত ও বয়স্কদের প্রাধান্য দিতে হবে। এরা দলীয় কোনও নেতা হবে না। তবে অবশ্যই দলীয় কর্মী সমর্থক হতে হবে। এরাই কেন্দ্র ভিত্তিক দলের নির্বাচন পরিচালনায় ভূমিকা রাখবে। গ্রামে গ্রামে নির্বাচন কেন্দ্রভিত্তিক উঠান বৈঠক আয়োজন করতে হবে।’
সেতুমন্ত্রী তরুণদের উদ্দেশে বলেন, মোটরসাইকেলে ৩ জন নয়, হেলমেটসহ ২ জন চড়তে হবে। ছোটদেরকে মোটরসাইকেলে নেওয়া বন্ধ করতে হবে। ইয়াবাকে না বলতে হবে। ইয়াবা তরুনদেরকে নষ্ট করছে।’
নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন,‘ আমরা রাজনীতি করি জনগণের জন্য। জনগনই হচ্ছে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার কেন্দ্রেবিন্দু। তাই আপনারা গ্রামে গ্রামে যান, মানুষের ভালোবাসা অর্জন করুন। এটাই হচ্ছে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার শিক্ষা।’
আওয়ামী লীগের প্রেসিয়াম সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্যর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তৃতা দেন আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কেন্দ্রীয় নেত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, বেগম পারভিন জাহান কল্পনা, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক, বাগেরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান টুকু, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেনের পরিচালনায় সম্মেলনে খুলনার ৩৭টি আসনের সংদস্যেও অধিকাংশই উপস্থিত ছিলেন।
এসময় আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘ঈদের পর আন্দোলন, ঈদ শেষে পরীক্ষার পর আন্দোলন- এভাবে খালেদা জিয়া কেবল তর্জন গর্জনই করছেন। তার আন্দোলনের ঘোষণা আর শেষ হচ্ছে না। দিন যায়, মাস যায়, বছরও যায়- যেতে যেতে ৮টি বছর চলে গেল, কিন্তু কোথায় খালেদার আন্দোলন? যারা আন্দোলনে ব্যর্থ, তারা নির্বাচনেও পরাজিত হবে। আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ থেকে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করতে হবে। আর এই নির্বাচনের মাধ্যমেই খালেদার রাজনীতি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।’