নড়াইলে শিশুদের ক্যানভাসে ছবি আঁকা বিশ্বে প্রথম হতে যাচ্ছে

443

নড়াইলকণ্ঠ ডেস্ক : বাংলাদেশে তথা বিশ্বে শিশুদের ক্যানভাসে এতো বড় ছবি আঁকা এই প্রথম হতে যাচ্ছে। যা এক সময় হয়তো গ্রিনস বুকে নাম লেখা হতে পারে। এমনটি মনে করছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক চিত্রশিল্পী বিমানেশ বিশ্বাস। তার তত্বাবধায়নে সম্পূর্ণ নতুন ধারার প্রায় দুই শতাধিক নড়াইলের আদিবাসি ও হতদরিদ্র পরিবারের শিশু চিত্রশিল্পীরা কার্টিস পেপারে ১ হাজার ফুট লম্বা ও ৩৫ ইঞ্চি চওড়া ক্যানভাসে ছবি আঁকছেন। তিনি আশা করছেন ২০১৭ সালের মধ্যে এ ছবি আঁকা শেষ হবে।
জানা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক চিত্রশিল্পী বিমানেশ বিশ্বাসের তত্বাবধায়নে সম্পূর্ণ নতুন ধারার দুই শতাধিক নড়াইল গ্রামের আদিবাসি শিশু শিল্পীরা কার্টিস পেপারে এ ছবি আঁকছেন।
নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামে এই শিল্পীর নিজ বাড়িসহ হাতে গড়া ৫টি আর্ট স্কুলের শিশু চিত্রশিল্পীরা এ কাজটি করছে। এসব শিশুদের অর্ধেকেরও বেশী আদিবাসি ও অতিসাধারণ পরিবারের সন্তান।
NK_July_2017_02432খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক বিমানেশ বিশ্বাস নড়াইলকণ্ঠকে জানান,‘শিশুরা এক হাজার ফুট লম্বা এবং ৩৫ফুট চওড়া (২ হাজার ৯শ ১৬ বর্গফুট) অ্যামেরিকান কার্টিস পেপারে ২০১৬ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে এ ছবি আঁকা শুরু করেছে। শিশুরা ওদের ইচ্ছামত নিজের ভাবনায় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ছবি আঁকছে। ছবি আঁকার বিষয় বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে-মুক্তিযুদ্ধ, গ্রামীণ জীবন, মসজিদ-মন্দির, নৌকাবাইচসহ বিভিন্ন লোকজ উৎসব, বর-কনে, পালকি, রাখাল, কৃষক-শ্রমিক, কম্পিউটার, মোবাইল টাওয়ার, মাছ শিকার, ঈদের নামাজ ইত্যাদি। শিল্পীর ইচ্ছা, বিশাল এ ছবি ডিজিটাল প্রিন্ট করে বিভিন্ন স্কুলে দেখানোর ব্যবস্থা করবেন, যাতে শিশুরা চারুকলা ও ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহী হয়।
শিশুদের নিয়ে এত বৃহৎ ক্যানভাসে ছবি আঁকার ধারনা কিভাবে পেলেন এ প্রশ্নে তিনি আরো বলেন,‘দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ছবি আঁকা শেখাই। ওরা এফোর সাইজের ছোট কাগজে ছবি আঁকে। এ ছবি সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সে জন্য ভেবেছি এভাবে বৃহৎ ক্যানভাসে বড় ছবি আঁকলে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এ বছরের মধ্যেই এ ছবি আঁকা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এটা আমার গুরু শিল্পী এসএম সুলতানের আশির্বাদ। বাংলাদেশে মতান্তরে বিশ্বে শিশুদের এতো বড় ক্যানভাসে ছবি আঁকা এই প্রথম বলে তিনি মনে করেন।’
প্রসঙ্গত, চিত্রশিল্পী বিমানেশ বিশ্বাস ২০০৫ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রথমে নড়াইল শহরের শিবশংকর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে দক্ষিন নড়াইল দিঘির পাড় এলাকার আদিবাসী শিশুদের নিয়ে চিত্রকলার কাজ শুরু করেন। এরপর খুলনা বটিয়াঘাটা হাটবাড়ি মন্দিরে এবং খুলনা খালিসপুর প্রাইমারী স্কুলে কয়েক বছর শিশুদের ছবি আঁকা শিখিয়েছেন। ২০১৫ সালে শিশুদের জন্য নড়াইলে ‘শিল্পাঞ্জলি ভ্রাম্যমান অবৈতনিক আর্ট স্কুল’ প্রতিষ্ঠান করেছেন।
NK_July_2017_02433এছাড়া নিজ বাড়ি, সদরের কলোড়া ইউনিয়নের গোবরা বাজার এলাকা, নলদীর চর, বড়েন্দার গ্রাম এবং ভদ্রবিলা ইউনিয়নের চন্ডিতলা পালপাড়া এলাকায় মোট ৫টি স্কুল পরিচালনা করছেন।
উল্লেখ্য, বিশ্ব বরেণ্য চিত্র শিল্পী এস এম সুলতানের ছবি মানেই বিশাল বিশাল ক্যানভাসে পেশিবহুল মানুষের শরীর। বাঙালি জাতিসত্তার গভীরতম অন্তরভূমিতে যে অমিত শক্তি সুপ্ত ছিল হাজার বছর ধরে, তারই নান্দনিক-শৈল্পিক প্রকাশ ঘটেছে সুলতানের দূর্লভ চিত্রকলায়। এবার তাঁরই যোগ্য উত্তরসুরি নড়াইলের আদিবাসি শিশু চিত্রশিল্পীরা সুলতানের আশির্বাদ ও অনুপ্রেরণা নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী দীর্ঘ ২ হাজার ৯শ ১৬ বর্গফুটের (১ হাজার ফুট লম্বা ও ৩৫ ইঞ্চি চওড়া) বিশাল ক্যানভাসে ছবি আঁকছেন। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮শ ৯৫ বর্গফুট (সাড়ে ৬শত ফুট লম্বা ও ৩৫ ইঞ্চি চওড়া) ছবি আঁকা সম্পন্ন হয়েছে।