নড়াইলে এডিপি’র অর্থআত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, প্রকৌশলীসহ ৬জনের নামে দুদকের মামলা ॥ প্রকৌশলী গ্রেফতার

371

নড়াইলকণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়ায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) থোক বরাদ্দের ৫৪ লাখ ৪৬৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমীর, সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: সেলিম রেজা, উপজেলা প্রকৌশলী মো: ওসমান গণি ও তিন ঠিকাদারসহ ৬জনের নামে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মামলার পরপরই উপজেলা প্রকৌশলী মো: ওসমান গণিকে গ্রেপ্তার করে দুদক।
শুক্রবার (৭ জুলাই) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মো: আলী আকবর বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় এ মামলা করেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি)’র ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে চাচই ওয়াপদা হতে কালনা সিএন্ডবি রাস্তা পর্যন্ত ইটের সোলিং নির্মাণে পৃথক ৩টি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ১ কোটি ৩৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ টাকার কাজের মধ্যে আংশিক কাজ করে ১১ লাখ ৪৬৮ টাকা পরস্পর যোগসাজসে আত্মসাত করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ, ইমাম ও কাজীদের মাঝে পোশাক বিতরণ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে আসবাবপত্র, ক্রীড়া সামগ্রী, সিলিং ফ্যান, জার্সি, বাদ্যযন্ত্র বিতরণসহ ২৪টি প্রকল্পে এডিপি’র ৪৩ লাখ টাকা অপ্রত্যাশিত বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পে ভুয়া কিছু লোকের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করে সৈয়দ ফয়জুল আমীর, মো: সেলিম রেজা ও মো: ওসমান গণি যোগসাজশে ৪৩ লাখ টাকাই আত্মসাৎ করেছেন।
মো: আলী আকবর বলেন, ব্যাপক অনুসন্ধান করে আত্মসাতের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়ে এই দু’টি মামলা করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ওসমান গণির কাছে লোহাগড়া থানায় বসে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মো: আলী আকবর বাদি হয়ে লোহাগড়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন এবং মামলার অন্যতম আসামী লোহাগড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো: ওসমান গনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।