দুর্নীতি হলেই অভিযোগ, চালু হবে হটলাইনে

127

নড়াইলকণ্ঠ : যখনই দুর্নীতির ঘটনা, তখনই অভিযোগ এমন সুবিধা নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চালু হচ্ছে কলসেন্টার বা হটলাইন।
আগামি ২৬ জুলাই যাত্রা শুরু হচ্ছে এই হটলাইনের। এরই মধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে নেওয়া হয়েছে হটলাইন নম্বর ‘১০৬’।
অভিযোগকারী ঐ নম্বরে যেকোনো অপারেটর থেকে সার্ভিস চার্জ ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট অপরাধের সরাসরি অভিযোগ করতে পারবেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনি পরামর্শ নিতে পারবেন।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় চলছে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই কলসেন্টার স্থাপনের কাজ। মোট ১৩ সদস্যের জনবল নিয়ে কলসেন্টারের যাত্রা শুরু হবে। সার্বক্ষণিক কল রিসিভ করতে সহকারী পরিচালক ও উপ-সহকারী পরিচালক পদমর্যাদার চার থেকে পাঁচ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামালের সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলছে কলসেন্টার স্থাপনের কাজ। এসব তথ্য নিশ্চত করে রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, দুদক হটলাইন চালু হলে জনগণ অবশ্য উপকৃত হবে। নতুন হটলাইনে চাইলেই দুর্নীতির স্বীকার যে কেউ মোবাইলে বা ফোনে অভিযোগ দিতে পারবে কিংবা পেতে পারেন এ সংশ্লিষ্ট যে কোনো সেবা।
দুদক সচিব বলেন, আশা করছি কলসেন্টার চালু হলে জনগণ দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে আরো এগিয়ে আসবে। জনগণকে দুদকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রদানে উৎসাহিত করতে হটলাইন নম্বরসহ বড় আকারে ১০ হাজার স্টিকার ছাপানো হবে। যা সরকারি বিভিন্ন অফিসের সামনে বিলবোর্ড আকারে রাখা হবে। যাতে যে সরকারি অফিসে সেবাগ্রহিতা বা ভুক্তভোগীরা দুর্নীতি ও অনিয়মের স্বীকার হবেন সেখানে বসেই আমাদের হটলাইনে অভিযোগ করতে উৎসাহিত হবেন। অর্থ্যাৎ যখনই দুর্নীতির ঘটনা তখনই অভিযোগ। এতে দুর্নীতি প্রতিরোধে জনম্পৃক্ততা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আমি মনে করি।
দুদকের কলসেন্টারে যা যা থাকছে- প্রাথমিকভাবে ন্যূনতম চার থেকে পাঁচজন প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা দ্বারা কলসেন্টার পরিচালনা করা হবে। কলসেন্টারে নিযুক্ত কর্মীবৃন্দ দেশের যে কোন প্রান্ত হতে দুর্নীতি সংক্রান্ত যে কোন কল গ্রহণ করার পর তাৎক্ষণিকভাবে সফটওয়্যার ডেটাবেইজে তথ্য লিপিবদ্ধ করবেন। কলসেন্টার কর্মীর জন্য ১০টি ডেস্কটপ কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক প্রিন্টার, ভয়েস রেকর্ডার, নয়েজ রিডাকশন হেডসেট, সার্ভারের সাথে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক কানেকশন থাকবে। থাকবে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা।
দুদক সূত্রে আরো জানায়, অভিযোগকারীর যে সব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান দেয়া সম্ভব হবে না সেক্ষেত্রে কলসেন্টার কর্মী সরাসরি ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তার (এক বা একাধিক) সঙ্গে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আর ওই ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হবেন উপপরিচালক কিংবা পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা।
সূত্র জানায়, কলসেন্টারের সফটওয়্যারের প্রথম অংশে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমের আওতায় বেশি কিছু তথ্য যে কোন অভিযোগকারীর কল করার সাথে সাথেই চলে আসবে। যেমন- অভিযোগকারীর ফোন নম্বর ও যে নামে তার রেজিস্ট্রেশন করা আছে, যে স্থান থেকে তিনি কলটি করছেন তার অবস্থান।
এসব তথ্য নিশ্চিত করতে ও টোল ফ্রি শর্টকোড বরাদ্দের জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি), বিটিসিএল, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেলসহ সব মোবাইল অপারেটরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
কলসেন্টারের দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন দুদকের সিস্টেম এনালিস্ট রাজিব হাসান ও দুদক উপপরিচালক মো. সামিউল মাসুদ।
এ প্রসঙ্গে রাজিব হাসান রাইজিংবিডিকে বলেন, কমিশন থেকে গত বছরের অক্টোবরে হটলাইন বিষয়ে অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। এখন কলসেন্টার স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। ‘১০৬’ হটলাইনে যে কেউ সহজে যাতে অভিযোগ করতে পারেন সেই সুবিধা দিয়ে কলসেন্টারের কাজ এগিয়ে চলছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের আগেই কলসেন্টার স্থাপনের কাজ শেষ হবে।
দুদক উপপরিচালক মো. সামিউল মাসুদ বলেন, চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কলসেন্টার স্থাপন করেছিলাম। যার সুফল এখনো সেখানকার মানুষ ভোগ করছে। দুদকে যোগদান করার পর থেকে আমি সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবার চেষ্টা করছি।
এর আগে দুর্নীতি প্রতিরোধে তিন স্তরের পরিকল্পনার তথ্য উপস্থাপন করে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, দুর্নীতি সংঘটিত হওয়ার পরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার চেয়ে দুর্নীতি সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করাই উত্তম। তাই বর্তমান কমিশন স্বল্প-মেয়াদি, মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে কাজ করবে। একই সঙ্গে সংস্কারের মাধ্যমে দুদকে সেবাদান পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হবে।