যশোর ছাত্রলীগের সম্মেলনে দুই পদে প্রার্থী ৪০

145

নড়াইল কণ্ঠ : যশোর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি বেশ চলছে জোরেশোরে। ১০ জুলাই সম্মেলন ঘিরে যেমন উৎসাহ উদ্দীপনা আছে তেমনি সংশয়ও রয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। সরাসরি ভোট নাকি সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন হবে সেটি নিয়ে চলছে আলোচনার ঝড়।
গত সম্মেলনের সহিংসতার বিষয়টিও ঘুরপাক খাচ্ছে নেতাকর্মীদের মাঝে। শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সম্মেলন হবে কি না সেটিও আলোচনা উঠে আসছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেউ সন্ত্রাসের চেষ্টা করলে ছাড় দেওয়া হবে না। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
উৎসাহ উদ্দীপনা ও সংশয়ের মধ্যে দিয়েই সভাপতি ও সম্পাদক পদে ৪০ জন প্রার্থী কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। প্রার্থীরা জেলা, উপজেলা, পৌর ও কলেজ ইউনিটগুলোতে চষে বেড়াচ্ছেন। ১৫টি ইউনিটে মতবিনিময়, ব্যানার পোস্টার ও মিছিলে সরগরম হয়ে উঠেছে। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দুই গ্রুপ সক্রিয় থাকায় ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনেও প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আর্শিবাদ ছাড়া শীর্ষ দুই পদ পাওয়া কঠিন। বিষয়টি মাথায় রেখেই তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।
সূত্র মতে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের বিভাজনে ২০১০ সালের ১৪ মার্চ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সম্মেলন স্থগিত করতে বাধ্য হন। এ ঘটনার পরদিন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক দাদা রিপনকে হত্যা করে দলীয় প্রতিপক্ষরা। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ১০ জুলাই সমঝোতার ভিত্তিতে কেন্দ্র থেকে আরিফুল ইসলাম রিয়াদকে সভাপতি ও আনোয়ার হোসেন বিপুলকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে যশোর জেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
বর্তমানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এবারও গ্রুপিংয়ের প্রভাব সম্মেলনে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের অনুসারী দুটি গ্রুপে সভাপতি ও সম্পাদক পদে ৪০ জন মনোনয়নপত্র কিনেছেন। সম্মেলন ঘিরে যেমন উৎসাহ উদ্দীপনা রয়েছে। তেমনি ভয় ও সংশয়ও আছে। সব মিলিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানতে চাইলে নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জামাল হোসেন শিমুল পরিবর্তন ডটকমকে জানান, সভাপতি পদে ১৮ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ২২ জনসহ মোট ৪০ জন মনোনয়নপত্র কিনেছেন। এরমধ্যে সভাপতি পদের প্রার্থীরা হলেন- রওশন ইকবাল শাহী, সজিবুর রহমান সজিব, মেহেদী হাসান রনি, মাসুদুর রহমান মিলন, রিয়াজুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম বনি, মাহমুদ হাসান, সাগর রহমান, ওসমানুজ্জামান চৌধুরী সাকিব, মাসুদ রানা, আবদুল আওয়াল, সুমন অধিকারী, আশরাফুল আলম, আরিফুর রহমান সাগর, শরীফ মাসুদ হিমেল, তরিকুল ইসলাম জনি, সাঈদ সরদার ও জাকির হোসেন জুম্মান।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা হলেন- ছালছাবিল ইসলাম জিসান, সালাউদ্দিন কবীর, সাব্বির রহমান মিলন, তৌফিকুর রহমান পিয়াস, হাফিজুর রহমান, ইয়াসিন মোহাম্মদ কাজল, রাশেদ খান মেনন, সোহাগ বিশ্বাস, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সাগর দত্ত, আব্দুল হালিম, শাহিনুর রহমান শাহীন, সজীব হোসাইন, ইমরান হোসেন, সাঈদুর রহমান শাহীন, জসিম উদ্দীন, রিফাতুর রহমান, কেফায়েতুল্লাহ প্রিয়, জাবেদ উদ্দিন, আমানুর রহমান আমান, মাহমুদ হাসান ও শেখ সোয়েব আহমেদ।
একাধিক প্রার্থী জানান, গণতান্ত্রিকপন্থায় নেতৃত্ব নির্বাচন হোক সেটাই তারা চান। এতে তৃণমূলের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। প্রকৃত মেধাবীরাই নির্বাচিত হবেন। সমঝোতা হলে তৃণমূলের মতামতের প্রতিফলন সব সময় ঘটে না। উৎসবমুখর পরিবেশে সম্মেলন সফল করার পক্ষে সবাই। তবে শেষ পর্যন্ত কী উপায়ে নেতৃত্ব নির্বাচন হবে সেটি এখনও পরিষ্কার নয়।
শিমুল আরো জানান, ছয় বছর পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলন ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের দাবি গণতান্ত্রিক পন্থায় নেতৃত্ব নির্বাচন করা। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছি।
জানতে চাইলে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. নেয়ামতউল্লাহ বলেন, ‘সম্মেলন সফল করার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি চলছে। সম্মেলনের প্রধান অতিথি এখনও নির্ধারণ হয়নি। খুব তাড়াতাড়ি অতিথি চূড়ান্ত হবে বলে আশাবাদী। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন সফল করার জন্য সবার সহযোগিতা চাই।’