ভারতের ডাকে বাংলাদেশের ‘না’

139

নড়াইলকণ্ঠ : আগামী অক্টোবরের শেষদিকে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে ঘরের মাটিতে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করতে চেয়েছিলো ভারত। এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণও পাঠিয়ে রেখেছে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)। কিন্তু ভারতের এই ডাকে সাড়া দিতে পারছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
ব্যস্তু সূচির কারণে এই ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ অংশ নিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে থাকবে বাংলাদেশ। যে কারণে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগের সম্ভাব্য সূচি পরিবর্তন না করলে বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজটিতে অংশ নিতে পারবে না।
আইসিসির সভা শেষে দেশে ফিরে রোববার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি। এ সময় ত্রিদেশীয় সিরিজের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘একটি প্রপোজাল এসেছিলো আমাদের কাছে। দূর্ভাগ্যবশত কোনোভাবেই এটা আমরা মেলাতে পারছি না। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৩০ অক্টোবর আমাদের দল ফিরবে। ওরা চাচ্ছে ২৮ তারিখের আগে।’
বিপত্তিটা এখানেই। কারণ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরই শেষ হবে ২৯ অক্টোবর। কোনোভাবেই সময় দেয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের। এছাড়াও আছে ঝামেলা। বিসিবি সভাপতি বলছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর বিপিএল, ওটা চেঞ্জ করলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সমস্যায় পড়তে হবে। সবকিছু মিলিয়ে সমাস্যাটা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ধরে নিচ্ছি ওটা সম্ভব নয় যদি ওরা তারিখ পরিবর্তন না করে।’
টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ১৬ বছরের মধ্যে ভারত একবারো তাদের মাটিতে আমন্ত্রণ জানায়নি বলে আক্ষেপের শেষ ছিলো না বাংলাদেশের। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সেই আক্ষেপ ঘুচেছে। বিরাট কোহলিদের বিপক্ষে হায়দরাবাদে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সেই ভারতই আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কিন্তু মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে যাওয়া বাংলাদেশের এবার সময় নেই!
বিসিবি থেকে এরআগে জানানো হয়েছিলো, ইংল্যান্ড এবং ভারতের বিপক্ষে বেশি ম্যাচ চায় বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে নাজমুল হাসান বলছেন, ‘সুযোগ আছে। কিছু কিছু চূড়ান্ত, আবার কিছু কিছু এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কিছু কিছু জায়গা থেকে আমাদের কাছে অফারও এসেছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা চিন্তা করছি। বাট কোনো কিছুই এখনো চূড়ান্ত নয়।’

ওয়ানডের জন্য নতুন অধিনায়ক খোঁজা শুরু করেছে বিসিবি
নড়াইলকণ্ঠ : টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে বিদায় বলেছেন বেশিদিন হয়নি। মার্চ-এপ্রিলে শ্রীলঙ্কা সফরে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে সবাইকে অবাক করে হঠাৎ অবসরের ঘোষণা দিয়ে বসেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। মুহূর্তেই ওলট পালট হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট। বাংলাদেশ দলের পথ প্রদর্শককে টি-টোয়েন্টিতে ফেরাতে দেশের বিভিন্ন জয়াগায় মানব বন্ধন পর্যন্ত হয়েছে।
ফেরেননি মাশরাফি। বলে দেন ওটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে ওয়ানডে নিয়ে এখনো অনেক পরিকল্পনা তার। খেলে যেতে চান যতোদিন ভালো লাগে। যদিও সেটা যে লম্বা সময়ের জন্য হবে না, তা নিজেও ভালোভাবে জানেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।
বয়স চলছে ৩৩। সেই সাথে লড়াই চালাতে হচ্ছে আটবার অস্ত্রোপচার করানো হাঁটু নিয়ে। এসব ব্যাপারগুলো বিবেচনায় আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরও (বিসিবি)। তাই তো ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ওয়ানডের জন্য নতুন অধিনায়ক নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে বিসিবি।
অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে সরাতে নয়, সে দায়িত্ব ছাড়লে কার হাতে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দেয়া যায় সেই ব্যাপারে ভাবতে শুরু করেছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। অন্যভাবেও বলা যায়, নতুন অধিনায়ক খোঁজার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে বিসিবি।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সভা শেষে দেশে ফিরে এমনই জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব নিয়ে কথা উঠেছিলো বলেই মাশরাফির সাথে আলোচনা করেছিলেন বিসিবি সভাপতিসহ বোর্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তারা। এবার বিসিবি সভাপতির কথায় মনে হয়েছে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক পরিবর্তন করে একটা প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিসিবি। যেটা ভবিষ্যতে অন্যান্য ফরম্যাটেও কার্যকর করতে চায় বিসিবি।
২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত মাশরাফি খেলতে পারবেন কি না সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা ছিলো না বলেই নতুন অধিনায়ক আনা হয়েছে। কারণ কাউকে হঠাৎ করে অধিনায়ক না বানিয়ে আগে থেকেই তৈরি করলে সেটাতে ভালো ফল আসে বলে বিশ্বাস নাজমুল হাসান পাপনের। এ পথে ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা বিবেচনায় রেখেছে বিসিবি।
টি-টোয়েন্টিতে নতুন অধিনায়ক দেয়া একটা পদক্ষেপ জানিয়ে নাজমুল হাসান বলেন, ‘অলরেডি এটা নিয়ে একটা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আপনারা দেখেন টি-টেয়েন্টি অধিনায়কত্ব নিয়ে একটা কথা উঠেছিলো। ২০২০ এ মাশরাফি খেলতে পারবে কিনা তা আমরা জানি না। সে জন্য কিন্তু আমরা তখন ওর সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেছিলাম।’
একইভাবে ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মাশরাফি খেলতে পারবেন কি না সেটাও বলা যাচ্ছে না। যে কারণেই ভবিষ্যত ওয়ানডে অধিনায়কের ব্যাপারে ভাবা হচ্ছে। বিসিবি সভাপতি বলছেন, ‘আলোচনার পর টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ডিক্লেয়ারেশন ও নিজে থেকেই দিয়েছে। আমরা বলিনি কবে কখন এটা হবে। আলাপ করার পর সে নিজেই ডিক্লেয়ার দিয়েছে। আমরা প্রসেস (ওয়ানডের নতুন অধিনায়ক প্রক্রিয়া) নিয়ে আলোচনা করছি এটাও তো বিরাট উদাহরণ।’