ব্র্যাকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ছাটাই হওয়া কর্মীর!

381

নড়াইলকণ্ঠ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশে সুদভিত্তিক ক্ষুদ্র ঋণ যে দুইজন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন তারমধ্যে একজন হলেন ব্র্যাকের ফজলে NK_July_2017_02394হাসান আবেদ। তার প্রতিষ্ঠিত এনজিও ব্র্যাকের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ উঠে। দারিদ্র বিমোচনের কথা বলে ফজলে হাসান আবেদ ব্র্যাকের মাধ্যমে সারাদেশে ক্ষুদ্র ঋণের প্রচলন করলেও ব্রাকের ঋণ গ্রহণ করে হাজার হাজার মানুষ নিঃস্বও হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্র্যাকের ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে অনেকে ভিটেমাটি, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, স্বর্ণালঙ্কারসহ সহায় সম্পত্তি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি ২০১৩ সালে জয়পুরহাটের কালাইগ্রামে মোহাম্মদ মোখতার ও মোকাররম নামে দুই ব্যক্তি ব্র্যাকের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে নিজের কিডনি পর্যন্ত বিক্রি করেছেন।এরপর সামান্য ঋণ দিয়ে অতিরিক্ত সুদ আদায়তো করছেই। এভাবেই সারাদেশের হতদরিদ্র মানুষের রক্তচুষে সারাবিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছেন ফজলে হাসান আবেদ।
এছাড়া কর ফাঁকি, আড়ং দুধে পঁচা গুড়া দুধ মিশানো, পুরনো বীজ দিয়ে প্যাকেট করে নতুন বীজ বলে কৃষকের মাঝে বিতরণ ও বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে মুরগি এনে ব্র্যাক মুরগি বলে চালিয়ে দেয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে ফজলে হাসান আবেদের প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের বিরুদ্ধে।
শেষোক্ত অভিযোগগুলো করেছেন সম্প্রতি ব্র্যাক থেকে ছাটাই হওয়া কর্মী শরীফ তসলিম রেজা নামের এক কর্মকর্তা। তিনি তার ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি তার স্ট্যাটাসে ব্র্যাকের নানান অনিয়ম-দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারি তুলে ধরেছেন। আজ সেমাবার (৩ জুলাই) দুপুর ৩টা ৫মিনিটে নড়াইলকণ্ঠ প্রতিনিধি ০১৭১১৩৩৪৪৮ নম্বরে শরীফ তসলিম রেজা যোগাযোগ করলে তার বড় ছেলে মোবাইল ধরেন। ছেলের কাছে জানাতে চাওয়া হলো আপনার বাবার দেয়া ফেসবুকে স্ট্যাটাস আজ দেখতে পাচ্ছি না কেন? সে (শরীফ তসলিম রেজা র ছেলে) জানান আমার বাবার দেয়া স্ট্যাটাস মুছে ফেলা হয়নি। আমরা তো দেখতে পাই। এ কথা অনেকে ফোন করে জানতে চেয়েছেন। এসব কারনে এবং নানা জঠিলতায় বাবা হাইপ্রেসারে মানুষ উনি ঔষুধ খেয়ে ঘুমাচ্ছেন। আমরা কিছুটা হলেও নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমার বাবার কিছু হয়ে গেলে তখনতো আপনারা কেউ দেখবেন না আমার পরিবারকেই দেখতে হবে। এ বিষয়টি নিয়ে এইমূর্হুতে আমরা এর বেশি কিছু বলত চাচ্ছি না।
উল্লেখ্য, তাকে জোরপূর্বক অবসরে পাঠানো রিটায়ারমেন্ট লেটারটি তিনি পোষ্টের সাথে জুড়ে দিয়েছিলেন। লেটারটি এখানে যুক্ত করে দেয়া হলো-
তিনি তার স্ট্যাটাসে পয়েন্ট আকারে ব্র্যাকের কিছু দুর্ণীতির চিত্র তুলে ধরেছেন। পাঠকদের জন্য সেগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো- তিনি তার স্ট্যাটাসে পয়েন্ট আকারে ব্র্যাকের কিছু দুর্ণীতির চিত্র তুলে ধরেছেন। পাঠকদের জন্য সেগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো :-
“ব্র্যাকের বছরের বাজেট ৪৫০০ কোটি টাকা, উদ্বৃত থাকে ১৩০০ কোটি টাকা, সুদের ব্যবসায় লাভ গতবছর ২০০০ কোটি টাকা, এর থেকে কর্মীদের বেতন দেয়া লাগে মাত্র ১০-১২ কোটি টাকা, কিসের অভাব ব্র্যাকের? সকলকে অনুরোধ আমরা এই বয়সে চাকরির জন্য কেন ঘুরবো? পরিবারে, সমাজে, বন্ধুদের কাছে, আত্মীয়স্বজনের কাছে কেন আজ এত ছোট হলাম, কি দোষ ছিল আমার ও আমাদের? ১টা দোষ ব্র্যাক যদি দেখাতে পারে তবে মাথা হেট করে মাফ চাব। তাই সবাইকে অনুরোধ
১. বিনা কারনে ত্যাগী, সৎ কর্মীদের ছাটাই করে আবেদ ভাইয়ের ছেলেমেয়ে ও মেয়ের জামাইয়ের আত্মীয়স্বজন নিয়োগে প্রতিবাদ করুন, কেউর কোন ক্ষমতা থাকলে বন্ধের ব্যবস্থা নিবেন।
২. টেক্স ভ্যাট ফাকি দেয়া গরীব লোকের ৫০০ টাকার জিনিষ ৫০০০ টাকায় বিক্রিত আড়ং এর শপিং আজ হতে বন্ধ করুন।
৩. আমি নিজে দেখেছি, ঘন করার জন্য আড়ং দুধে বস্তাভরা দুই নাম্বার গুড়া দুধ মিশায়। এজন্য ব্র্যাকের কোন কর্মী আড়ং দুধ বিনা পয়সায়ও খায় না। আমার ইচ্ছা ছিল গাজীপুরের আমার দোস্ত ডিসি এসএ আলমকে দিয়ে হাতে নাতে ধরাবো। ও আবার বদলি হয়ে গেল। এটা ধরুন।
৪. পুরাতন বীজ নতুন প্যাকেটে ভরে বেচে। এটা এবার করলে মেজিস্ট্রেট দিয়ে বেধে ধরা হবে।
৫. হাট বাজার থেকে দালাল দিয়ে ব্রয়লার মুরগি কিনে ব্র্যাক মুরগি নামে বেচে। এটা খাবেন না।
আমি বিভিন্ন এম্বাসিতে লেখবো। এখন এই ৪ জনের কাজ হলো মাসে ২০ দিন খালি বিদেশে যাওয়া এবং ব্র্যাকের টাকা পাচার করা, যাতে এদের ভিসা না দেয়।”

শরীফ তসলিম রেজার  ফেসবুক স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো:

আজ আমি আমার ২৬ বছরের কর্মময় জীবন ব্র্যাক নিয়ে লিখছি দয়া করে পড়বেন ও লেখাটা শেয়ার করবেন। বিষয়টি না লিখে পারলাম না, কারণ এক হলো কষ্টের মনটা হালকা করা আর হলো পৃথিবীর এক নাম্বার এনজিও ব্র্যাক সম্বন্ধে সকলকে ধরণা NK_July_2017_02393দেয়া। ১৯৯১ সনের ফেব্রুয়ারি মাস, ২৬ বছর আগে ব্র্যাক থেকে চিঠি পেলাম ২৩ শে ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার অজপাড়াগায়ে অফিস, ডাকবাংলাবাজারে যোগদানের জন্য। আমি তখন বর্তমান শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলে সিংগেল রুমে থাকি, মাসে মাত্র ১২ টাকা ভাড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বতম এবং বর্তমান ভিসির (তখন হল তত্ত্বাবধায়ক) স্নেহ ও ভালবাসার প্রশ্রয়ে বিশাল আরামেই থাকি। তখনকার শ্রদ্ধেয় সকল শিক্ষক (৬৩ জন) আমাকে সন্তানের মত ভালবাসতেন এবং শিক্ষকগণ সহ সকল বন্ধুবান্ধব এক বাক্য ব্র্যাকে যোগদান না করতে অনুরোধ করেন। বন্ধুরা তখন বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত। এখন তারা ১ জন রাষ্ট্রদূত, ৯ জন জয়েন্ট বা বা ডেপুটি সেক্রেটারি, ৩ জন পুলিশের ডিআইজি, ১ জন ট্যাক্স ডিভিশনের জেয়েন্ট কমিশনার, ১৭ জন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি সম্পাসারণ অধিদপ্তরের ডিডি বা এডিডি। তারা আমাকে প্রচন্ড ভালবাসে, আমাকে ব্র্যাকে যোগদান না করে বিসিএসে চেষ্টা করতে বললো। আমি যাতে গোপনে চলে না যাই, কয়েকজন আমার রুম রীতিমত পাহারা দিত। মাথায় ভুত চাপলো, সকলকে উপেক্ষা করে অতি ভোরে সংগোপনে রুমে তালা দিয়ে প্রিয় হল ত্যাগ করলাম। ব্র্যাকের অজ পড়াগায়ে অফিস, ঝিনাইদহে ব্র্যাকের মাঠ পর্যায়ের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার পদে যোগদান করলাম। তবে এখানে যোগদানে আমার আম্মা খুব উৎসাহ দিলেন। এরপর ওই অফিস থেকে আঞ্চলিক অফিস যশোর, জোনাল অফিস বগুড়া হয়ে ঢাকায় এলাম। এসব অফিসের সকলে আমাকে খুবই ভালবাসতো। ঢাকা এসে তখনকার সময়ে ডাইরেক্টর, পরে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক এবং ব্র্যাকের কারিগর আমিন ভাইয়ের স্নেহের ধন্য হলাম। উনি পোষ্ট গ্রাজুয়েশনের জন্য হল্যান্ড পাঠালেন, দেশে তখনকার সময়ের ব্র্যাকের কৃষি প্রোগ্রামের দায়িত্ব দিলেন এবং পরিস্থিতি বুঝে অর্থনৈতিক ভাবে আরেকটু উন্নতির জন্য আফগানিস্তান, পরে তানজানিয়া এবং সাউথ সুদান পাঠালেন। আমি দেশে থাকতে NK_July_2017_02395স্ত্রী সন্তান ঢাকায় রেখে বাংলাদেশের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াই, ৯৬-এর বন্যায় ব্র্যাকের মোহম্মদপুর ইউনিটের দায়িত্ব দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়। আমার ১ম ছেলের বয়স দুদিন, আমার স্ত্রী তখন পুরোপরি বিছনায় সজ্জাশায়ী। আমি বন্যাদূর্গতদের রুটি বানানো শুরুর জন্য ভোর ৫টায় বাসা হতে বের হই, রাত ১১ টায় আসি। সকলে আবেদ ভাইকে খুশী করার জন্য উনার বানিয়াচং এলাকায় ব্র্যাকের ২০-৩০ লাখ টাকা খরচ করে হাওড়ে দুই বছর ধান লাগায়। একট্রাক ধান চোর খোঁজ করতে গিয়ে আম্মার ফোন পেয়েও রাতে রওয়ানা না হয়ে, ভোরে রওয়ানা হওয়ায় আব্বার লাশটা ঠিকমত দায়িত্ববান ছেলের মত দাফন করতে পারিনি। যা আজও বুকটা খচ খচ করে। এভাবেই জীবনময় ব্যস্তততায় সততার সঙ্গে গত ২৬ বছর দেশ বিদেশে কাজ করে যাচ্ছিলাম। গত ৪-৫ বছর হলো ব্র্যাকেরর মানবসম্পদ বিভাগে একটা অপরিণত গ্রামের মেয়ে তাহিয়া হোসেন ডাইরেক্টর হিসাবে যোগদান করে।যে কিনা আবেদ ভাইয়ের ৪র্থ স্ত্রীর ভাইয়ের মেয়ে। ব্র্যাক কর্মকর্তাদের এতদিনের সুশৃংখল লেভেল বা ধাপ কি এক আজব পদ্ধতি বের করে সবাইকে ইচ্ছামত নতুন গ্রেডে পদায়ন করেন তিনি। এতে সকলে মারাত্বক অসন্তুষ্ট হলে তাহিয়াকে আবেদ ভাই রিজাইন করতে বললে, আবেদ ভাইয়ের ৪র্থ স্ত্রী আবেদ ভাইকে ত্যাগ করার হুমকি দেন, যা সকলকে আবেদ ভাইয়ের আপন এককজন জানিয়ে দেন। এই মেয়ে তাহিয়ার আগের সংস্থাও কর্মীদের এরূপ আচরণ করায় সংস্থার ৭২০ জনের ৬০০ লোক নাকি এক সাথে সংস্থা ছেড়েছিল। সে আরেকটা কাজ হাতে নেয়, আবেদ ভাই বেচে থাকতে থাকতে পুরাতন সব বিশেষ করে ত্যাগী কর্মীদের বিদায় করা। এভাবে প্রথমে সকলের অতি প্রিয় ডাইরেক্টর বাবর ভাই, রাবেয়া আপা এরপর নিজ আত্বীয় মৌসুমী খান, ড. ইমরান মতিন, মো: রুমি আলী, ফুসতিনা পেরেয়ারা, তানভির রহমান সহ অনেক অনেক প্রোগ্রাম হেডসহ সকল স্তরের আর সর্বশেষে ব্র্যাকের নিবেদিত হিসাব বিভাগের ঈঋঙ এস এন কৌরিকে গতকাল বিদায় দেন। ব্র্যাককে বর্তমানে তিনটি ভাগ করা হয়েছে, ১টা ভাগ হলো ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে ব্র্যাকের ১৭ টি সরাসরি ব্যবসা, এখানে এনজিও টার্মে এটাকে বলে এন্টারপ্রাইজ, এই অংশ দেখেন আবেদ ভাইয়ের অর্ধশিক্ষিত এক মেয়ে তামারা আবেদ। যে কিনা অত্যন্ত বদরাগী, বয়োজ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূর্ব্যবহার করে। সে ভারতের এক হিন্দু ছেলেকে সব আত্বীয়স্বজন ত্যাগ করে বিয়ে করে নিরুদ্দেশ হয়েছিল। ২য় অংশ দেখেন আবেদ ভাইয়ের একমাত্র ছেলে মাইক্রোক্রেডিট সহ সকল লোন ব্যবসা। তবে আবেদ ভাইয়ের এই ছেলেটা অনেক ট্যালেন্ট ও বুদ্ধিমান। ব্র্যাকের এক মেয়েকে কোন এককারণে বিয়ে করলেও তাকে এখনও ডাইরেক্টর বানায়নি। ৩য় অংশ বাকী সব দেখে তামারার (হিন্দু স্বামী পরিত্যাগের পর নতুন স্বামী) স্বামী আসিফ সালেহ। যে কিনা নিজের বড় বড় ছেলেমেয়ে বউ ফেলে তামারা আবেদকে বিয়ের শর্তে একলাফেই সিনিয়র ডাইরেক্টর। আর ছাগলের চার নাম্নার বাচ্চার মত জোকার টাইপের নির্বাহী পরিচালক আবু মুসা, সে নাকি মানুষের ডাক্তার। হুসবোধহীন লোকটাকে নাকে দড়ি দিয়ে ৩ জন ঘোরায় আর সার্কুলার সই করায় আর উনার একমাত্র কাজ হলো বেক্কলের মত খালি হাসেন, মাসের শেষ কর্মদিবসে ১০০-২০০ লোককে বিদায়ের চিঠি দেয়ার স্বাক্ষর করেন। গত এপ্রিল মাসের ২৭ তারিখ বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ ব্র্যাকের এন্টারপ্রাইজের মানব সম্পদ দেখেন ছেলের বয়সীর এক ছেলে কিবরিয়া, তাকে আবার সিস্টেমে ভাই ভাই করতে হয়, সে বলে তসলিম ভাই, আপনি একটু আজিজ ভাইয়ের রুমে আসেন, আজিজ হলো কৃষিবিদ কিন্তু কৃষিবিদের বাঁশ দেয়ার সিদ্ধহস্ত ও দাঁড়ীটুপি পরা মারাত্বক অসৎ এক লোক। নিজে প্রোগ্রামে কিভাবে একক মাতবরী করবে মাথায় সারাক্ষণ সেই কুটবুদ্বি। তার রুমে ঢুকলে বলা হলো, আমাকে নাকি রিটেয়ারমেন্ট দিয়েছে, এই বলে একটা চিঠি আমার হাতে দেয়। আমার মাথায় যেন বর্জপাত হলো, বউ আম্মা দুজনই মারাত্বক অসুস্থ, তাদের ও আমারসহ মাসে প্রচুর টাকার ঔষধ, দুইবাবুর পড়াশুনার অসম্ভব খরচ, বাসার খরচ কি হবে। বুকটা ভেংগে কান্না এলো, বউকে হালকা করে বললাম, সেও দেখলাম চুপ বনে গেল, হয়ত কাঁদছে। বুকটা হাহাকার করে উঠলো, এতদিনের পরিচিত অঙ্গন এক নিমিষে শেষ? প্রোগ্রামের সহকর্মীদের মধ্য খবর চলে গেল, সকলের চোখে পানি, আজিজ পরদিনই যাতে আমার বিদায় অনুষ্ঠান হয়, তোড়জোর শুরু করলো। সে হয়ত আগে থেকে জানতো। আমি আমার বাসায় আসা অনেক দিনের পরচিত গাড়ীতে বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছি আর গাড়ীর সহকর্মীদের আমার চিঠি দেখাছি, কেও কেও চোখ মুছলো। বাসায় আসলাম, দুই ছেলে আমাদের রুমে পারতোপক্ষে আসে না, আর এলেও আমাদের বিছানায় বসে না। আজ দেখলাম বাবার এই কঠিন মুহুর্তে ওরা বিছানায় এসে বসলো, সবাই আমাকে করুণার চোখে দেখছে, আমি চিঠিটা ওদের পড়তে দিলাম, আমি অনেক কষ্টে কান্নাটা চেপে রাখছি, বড়বাবু বললো, আম্মু আর আমাদের দিকে না দেখে সারাজীবন ব্র্যাক ব্র্যাক করলা আর আজ এক কাগজে চাকরী শেষ? কই আমি হাত খরচ একটু বাড়ার চাপ দিব, এখন তো কি যে হয়? সবচেয়ে অবাক হলাম ব্র্যাকের এক সময়ের এক কম্পিউটার টাইপিস্ট আমার ঞড় যিড়স পড়হপবৎহ পেপারে স্বাক্ষর করেছে। ব্র্যাকের বছরের বাজেট ৪৫০০ কোটি টাকা, উদ্বৃত থাকে ১৩০০ কোটি টাকা (২০১৫ সালের বার্ষিক রিপোর্ট) , সুদের ব্যবসায় লাভ গত বছর ২০০০ কোটি টাকা, এর থেকে কর্মীদের বেতন দেয়া লাগে মাত্র ১০-১২ কোটি টাকা, কিসের অভাব ব্র্যাকের? সকলকে অনুরোধ আমরা এই বয়সে চাকরীর জন্য কেন ঘুরবো? পরিবারে, সমাজে, বন্ধুদের কাছে, আত্বীয়স্বজনের কাছে কেন আজ এত ছোট হলাম, কি দোষ ছিল আমার ও আমাদের? ১টা দোষ ব্র্যাক যদি দেখাতে পারে তবে মাথা হেট করে মাফ চাব। তাই সবাইকে অনুরোধ ১. বিনাকারণে ত্যাগী, সৎ কর্মীদের ছাটাই করে আবেদ ভাইয়ের ছেলেমেয়ে ও মেয়ের জামাইয়ের আত্বীয়স্বজন নিয়োগে প্রতিবাদ করুন, কেহর কোন ক্ষমতা থাকলে বন্ধের ব্যবস্থা নিবেন। ২. ট্যাক্স ভ্যাট ফাঁকি দেয়া গরীব লোকের ৫০০ টাকার জিনিস ৫০০০ টাকায় বিক্রীত আড়ং এর শপিং আজ হতে বন্ধ করুন। ৩. আমি নিজে দেখেছি, ঘন করার জন্য আড়ং দুধে বস্তাভরা দুই নাম্বার গুড়া দুধ মিশায়। এজন্য ব্র্যাকের কোন কর্মী আড়ং দুধ বিনা পয়সায়ও খায় না। আমার ইচ্ছা ছিল গাজীপুরের আমার দোস্ত ডিসি এসএ আলমকে দিয়ে হাতে নাতে ধরাবো। ও আবার বদলি হয়ে গেল। এটা ধরুন। ৪. পুরাতন বীজ নতুন প্যাকেটে ভরে বেচে এটা এবার করলে মেজিস্ট্রেট দিয়ে বেধে ধরা হবে। ৫. হাট বাজার থেকে দালাল দিয়ে ব্রয়লার মুরগী কিনে ব্র্যাক মুরগী নামে বেচে। এটা খাবেন না। আমি বিভিন্ন এম্বাসিতে লেখবো। এখন এই ৪ জনের কাজ হলো মাসে ২০ দিন খালি বিদেশে যাওয়া এবং ব্র্যাকের টাকা পাচার করা, যাতে এদের ভিসা না দেয়। সরি ফর অল, আমার এই ক্রান্তিকালে সকলে দোয়া করবেন, আর লেখাটা সবাই শেয়ার করবেন।

তথ্য সূত্র :
শরীফ তসলিম রেজা , মোবাইল : ০১৭১১৮৩৩৪৪৮ :https://www.facebook.com/sharif.t.reza , ব্র্যাকরে পণ্যে ভজোল, গরবিরে রক্ত চুষছনে ফজলে হাসান আবদে http://ekhon.net/nationals/62732