ঈদ রাজনীতি : বড় দু’দলে যুক্ত হচ্ছে নির্বাচনি প্রচারণা

168

নড়াইলকণ্ঠ ॥ বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে প্রায় দেড় বছর পর। নির্বাচনের আগে বাকি আছে আরও তিনটি ঈদ। তবে এবারের ঈদুল ফিতর থেকেই অনানুষ্ঠানিক নির্বাচনি গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
তাই এবার ঈদ আয়োজনে যুক্ত হয়েছে নির্বাচনি আমেজ। সব রাজনৈতিক দলের নেতারাই ছুটছেন নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায়। রমজান মাসজুড়ে ইফতার মাহফিলসহ নানা কৌশলে প্রচার ও গণসংযোগ শুরু হয়ে গেছে শহর, নগর ও গ্রাম গঞ্জে। কর্মীদের জন্য পাঞ্জাবি সমর্থকদের মধ্যে জাকাতের কাপড়, সেমাই, চিনি ও টাকা বিতরণ করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কেউ কেউ নিজের ছবি সংবলিত পোস্টার, ডিজিটাল ব্যানার, দেয়াল লিখন বা তোরণ নির্মাণ করে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এলাকাবাসীদের।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ঈদের পর নতুন মাত্রায় সারা দেশে প্রচার ও গণসংযোগ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে আবারও সরকার গঠনের মাধ্যমে জনগণের সেবা করার সুযোগ দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের হাতে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি হচ্ছে। এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের আবারও সরকারে থাকা দরকার। দেশবাসীকে বলব, আওয়ামী লীগকে আবারও দেশসেবা করার সুযোগ দিন।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এবারের ঈদকে নির্বাচনি প্রচারণার কৌশল হিসেবে নিলেও জনগণ তাদের অপকর্ম, অন্যায়, লুট-পাট, নির্যাতন ভূলে গিয়ে তাদেরকেই ফের ক্ষমতায় বসাবে তেমনটা মনে হয় না; বরং জনগণ রূখে দাঁড়াবে।
ওদিকে, মামলা-হামলার ভয়ে অনেকটা নিভৃতে কৌশলে গণসংযোগ চালাচ্ছেন বিএনপির নেতারা। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও এবার নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকারে’র দাবি তোলার পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার আর নির্বাচন বর্জন করার সুযোগ নেই বিএনপির। কারণ প্রথমত, নির্বাচন কমিশনের গণপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী পরপর দুটি নির্বাচন বর্জন করলে দলের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়ার বিধান রয়েছে। দ্বিতীয়ত, এবারও নির্বাচনের বাইরে থাকলে সাংগঠনিকভাবে দলের আরও ক্ষতি হতে পারে। এসব কারণে সরকার ‘সামান্য ছাড়’ দিলেও নির্বাচনে যেতে হবে বিএনপিকে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এরইমধ্যে চিঠি পাঠিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী ও সিনিয়র নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে নির্দেশ দিয়েছেন ।
তাছাড়া, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য ছোটো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও এবার ঈদের রাজনৈতিক ময়দানে বেশ সক্রিয়।