অনলাইন সংবাদ মাধ্যম সম্প্রচার কমিশনের অধীনে

150

নড়াইলকণ্ঠ : গত সোমবার (১৯ জুন) মন্ত্রিসভা ‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা-২০১৭’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে। এ নীতিমালায় বেতার, টেলিভিশনের মতো অনলাইন সংবাদ মাধ্যমকেও সম্প্রচার কমিশনের অধীনে আনা হয়েছে। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। পরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, গণমাধ্যম নীতিমালার আলোকেই অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা করা হয়েছে। সুনিয়ন্ত্রিতভাবে কাজ করার লক্ষ্যে নীতিমালায় এ মাধ্যমটির জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে। অনলাইন সংবাদ মাধ্যম পরিচালনার জন্য সম্প্রচার কমিশনের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। এ কমিশন গঠিত হবে জাতীয় সম্প্রচার আইনের অধীনে, যা প্রণয়নের কাজ চলছে। জাতীয় সম্প্রচার কমিশন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের জন্য নির্দেশনা তৈরি করবে। বিজ্ঞাপনের হার ও ফি সে অনুযায়ী নির্ধারণ হবে। আর কমিশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত তথ্য মন্ত্রণালয় অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের দেখভাল করবে। সম্প্রচার আইন পাস হলে কমিশন গঠন করা হবে।
মুদ্রিত পত্রিকা বা টেলিভিশনের অনলাইন সংস্করণ চালাতে নতুন করে নিবন্ধন নিতে হবে না বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান। তিনি বলেন, ১৯৯৩ সালের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী যারা নিবন্ধন নিয়েছে, তাদের নতুন করে আর নিবন্ধন নিতে হবে না। তবে পত্রিকা ও টেলিভিশনের অনলাইন সংস্করণ চালাতে হলে কমিশনকে তা অবহিত করতে হবে।
মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, অনলাইন গণমাধ্যম বলতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে বাংলা, ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে রেডিও, টেলিভিশন বা সংবাদপত্রের প্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহূত স্থির ও চলমান চিত্র, ধ্বনি, লেখা ও মাল্টিমিডিয়ার অন্য কোনো রূপে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ বা সম্প্রচারকারী বাংলাদেশী নাগরিক বা বাংলাদেশী নিবন্ধিত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে।
এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ অনলাইন পত্রিকা নিবন্ধনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যেসব অনলাইন চলছে, সেগুলো যদি প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী নিবন্ধন নিয়ে থাকে, তবে ওই নিবন্ধন বহাল থাকবে। যারা এ নিবন্ধন নেয়নি, তাদের নতুন করে নিবন্ধন নিতে হবে। কোনো অনলাইন গণমাধ্যম রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করলে কীভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অনলাইন নীতিমালায় এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা নেই। এ-সংক্রান্ত অন্যান্য আইন এখানে প্রযোজ্য হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো বলেন, অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধনের জন্য সম্প্রচার কমিশনে নির্ধারিত ফি দিতে হবে। কোনো বিষয়ে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে কমিশনের কাছে অভিযোগ করা যাবে। এক্ষেত্রে কমিশন ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করবে। অনলাইন গণমাধ্যমের কোনো তথ্য-উপাত্তের কারণে নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে কমিশন শুনানি করে নির্দেশনা জারি বা জরিমানা আরোপ করতে পারবে। জরিমানা কত হবে তা সম্প্রচার আইনে বলা থাকবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুভূতি, সংবাদ ও তথ্যমূলক অনুষ্ঠান, উন্নয়ন ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড, ক্রীড়া ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বক্তব্য, পণ্য, পণ্যের মান ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, শিশু ও নারীর অধিকার বিষয়ে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার বিধান এখানেও প্রযোজ্য হবে। বিজ্ঞাপনের বিষয়ে কমিশন কোড অব গাইডলাইনস তৈরি করবে। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটা করা হবে।