গোপালগঞ্জ হাসপাতালে দালালদের দৈরাত্ব-জনজীবন অতিষ্ঠ

142

শিমুল খান গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে অনিয়মই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ইতিপুর্বে ওই হাসপাতালের অনিয়মের সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকা ও মিডিয়াতে প্রকাশের পরও কোন প্রকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অনিয়মকারীদের দৌরাতœ দিন দিন বেড়ে চলছে। অনিয়মকারীদের মনে এমন একটা প্রবনতা সৃষ্টি হয়েছে যে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও কোনো লাভ নেই, বর্তমানে অনিয়মকারীরা বহাল তবিয়তেই তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এমন চিন্তা ভাবনা সাধারন মানুষের ভেতরে বদ্ধমুল হওয়ায় অপ্রিয় হলেও সত্য যে অনিয়মকারীদের টিকিটিও কেউ ছুতে পারছে না।

সাইক্লোজিক্যালী মানুষ এখন অনিয়ম করার প্রতি ঝুকছে আগের চেয়ে বেশী। অনিয়ম, দূর্নীতি, অন্যায় এবং বিধি বর্হিভুত কাজ মানুষ করতে এখন অভ্যস্থ হয়ে পড়ছে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং অনিয়মের কারনে। যে কর্তৃপক্ষ অনিয়ম বন্ধ করবে সেই কর্তৃপক্ষই অনিয়ম করছে এবং অধিনস্তদের অনিয়ম করার সুযোগ করে দিচ্ছে।

গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করতে আসা সালেহা বেগম জানায় সিটি স্ক্যান করিয়ে ২০০০ টাকা জমা দিলেও সঠিক সময়ে সে রিপোর্ট তিনি হাতে পান নাই। মৌখিক ভাবে আরএমও ডা: তপন কুমার মজুমদারকে জানানোর পর তিনি সিটি স্ক্যান রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সালেহা বেগম সিটি স্ক্যান রিপোর্ট হাতে পান নাই বলে জানিয়েছেন। সিটি স্ক্যান করাতে গেলে কর্মকর্তাদের চাহিদা মতো টাকা না দিলে তা করা হয় না। এক্স্ররে, ইজিসি বা যে কোনো প্রকার প্যাথলজিক্যাল টেষ্ট করাতে গেলে ক্লিনিকের চেয়ে বেশী অর্থ আদায় করা হয়। ফলে রোগীরা ক্লিনিকে চলে যায়। এটিও একটি কৌশল ক্লিনিকে রোগী পাঠানোর জন্য।

ইতিপুর্বে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেক গভবর্তী মহিলার মৃত্যু হয়েছে। মেডিকেল তদন্ত বোর্ডও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু কোন ফল পাওয়া যায়নী। ব্যাপক তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে সদর উপজেলার কংশুর গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী লাভলী বেগম মৃত্যুর পূর্বে বারবার দায়িত্ব পালনরত ডাক্তারদের নিকট সাহায্য চাচ্ছিলেন। কিন্ত দায়িত্ব পালনরত গাইনি বিভাগের চিকিৎসকগন বা নার্সদের কেউ লাভলী বেগমের সাহায্যের আবেদনে কর্নপাত করে নাই। এমনকি রক্তের প্রয়োজন দেখা দিলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাভলীকে রক্ত সরবরাহ করে নাই।

বর্তমানে গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড হাসপাতাল এমনই একটি অনিয়মের ক্ষেত্র হিসাবে পরিনত হয়েছে যে প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাভাবিকতায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, অন্যান্য ষ্টাফসহ সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা এখন মুক্ত বিহঙ্গের মতো একের পর এক দূর্নীতি অনিয়ম করছে কর্তৃপক্ষের ছত্রছায়ায়।

ব্যাপক তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা গেছে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ফিজিক্যাল অ্যাসল্ট রোগী আসলে অর্থের বিনিময়ে দূর্ঘটনা বা শারীরিক অসুস্থতা লিখিয়ে ভর্তি করা হয়। বিসস্থ সূত্রে জানা গেছে বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার খোলা গ্রামের নুর সিকদারের স্ত্রী রাশিদা স্বামী কর্তৃক শারিরীক নির্যাতনের শিকার হয়ে গোপালগঞ্জ সদর ২৫০ বেড হাসপাতালে ভর্তি হয়। কিন্ত রেজিষ্টারের প্রথমে জন্ডিস তারপর অ্যাকিউট অ্যাবডোমেন লেখা হয়। এক পর্যায়ে ফিজিক্যাল অ্যাসল্ট লেখা  হয়। রাশিদা হাসপাতালে কি কারনে চিকিৎসা নিতে এসেছিলো তা সঠিক ভাবে কেউ বলতে পারে নাই। পরে রাশিদার মৃত্যু হয় হাসপাতালের বেডে। কিন্তু তার পক্ষে কেউ আর আইনের আশ্রয়ে গিয়ে সুবিচার পাওয়ার সুযোগ হয়তো পাবে না কর্তৃপক্ষের এমন নিয়ম বর্হিভুত কর্মকান্ডের কারনে। হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের একটি সূত্র বলছে রাশিদার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিলো।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতাইল গ্রামের ৬৫ বছরের বৃদ্ধ জাহাঙ্গির শেখ প্রতিপক্ষের শাবলের আঘাতে মাথা ফেটে যাওয়ায় ঘটনার দিন মারা যায়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ভর্তি রেজিষ্টারে লেখা হয় দূর্ঘটনায় আহত হিসাবে। গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড হাসপাতালে গর্ভবতী মায়েদের ডেলিভারি করাতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা গ্রহন করা হয় নিয়ম বহির্ভুত ভাবে। অন্যান্য ছোট খাটো অপারেশন করা হয় বড় অংকের টাকার বিনিময়ে। তা নাহলে পাঠিয়ে দেয়া হয় বাহিরের ক্লিনিকে।

গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড হাসপাতালের অনিয়ম বা দূর্নীতি প্রতিরোধ করা মানবিক কারনে জরুরী। এ প্রসংগে সিভিল সার্জন ডা:এস এম সিরাজুল ইসলাম বা সহকারী পরিচালক ডা: ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর সাথে আলাপ করে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায় নাই। হাসপাতালের অভ্যন্তরে কোনো প্রকার দূর্নীতি বা অনিয়ম করা ওই দূজন কর্মকর্তার প্রচ্ছন্ন মদদ ছাড়া সম্ভব নয়।

সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ দূর্নীতি আর অনিয়মের করাল গ্রাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ ধারনা সাধারন মানুষের মনে বদ্ধ মুল ভাবে জন্ম নিয়েছে। তাই এখই গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে দুর্নীতি উৎখাত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।