নড়াইলে বাপের বিরুদ্ধে মেয়ের সংবাদ সম্মেলন

702
SONY DSC

নড়াইলকণ্ঠ ॥ নড়াইলে পিতা ও দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে বসত বাড়ি ভাংচুর ও বাড়ি থেকে উচ্ছেদ চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্কুল শিক্ষিকা লাভলী ইয়াসমিন। মঙ্গলবার (৩০ মে) দুপুরে নড়াইল প্রেসক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে শহরের ভওয়াখালী এলাকার লাভলী ইয়াসমিন বলেন, তার বোন ফারহানা রহমান ও ভগ্নিপতি এসএম শরিফুর রহমানের নামীয় পাঁচ শতক জমির উপর ১০ বছর চুক্তিতে ঘর করে দির্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। সেই ভিটা থেকে তার পিতা মো: খায়ের মিয়া, ভাই জাহিদুল ইসলাম জুয়েল ও শাহারিয়ার পারভেজ রাসেল তার বোন ও ভগ্নিপতির জায়গায় থেকে ভিটা বাড়ি উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তিনি এ সম্পত্তিতে ২০০৩ সাল হতে বর্তমান (২০১৭) পর্যন্ত একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বসবাস করে আসছে। বাবা ও ভাইয়েরা তার ছেলেকেও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। তিনি স্থানীয় একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
তার বোন ও ভগ্নিপতির সম্পত্তিতে ঘর তুলে বসবাস করা সত্ত্বেও বিভিন্ন কৌশলে এবং ভয়ভীতি দিয়ে ওই ভিটা-বাড়ি থেকে তারা বাবা-ভাইয়েরা বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে। গত ২৪ মে তার ভাইয়ের নেতৃত্বে বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। তার বসবাসরত টিনসেডের উপরের টিন খুলে ফেলেছে এবং মুল্যবান জিনিসপত্র ভাংচুর করায় গত এক সপ্তাহ ধরে ভাঙ্গা ঘরে বাস করছেন তিনি। রমজান মাসে খোলা ঘরে ছেলে নিয়ে ভয়-ভীতির মধ্য দিনযাপন করছে।
প্রচন্ড তাপদাহ ও ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দূর্বিসহ যন্ত্রনার মধ্যদিয়ে ভাঙ্গাঘরে বাস করতে হচ্ছে। বিষয়টি নড়াইলের পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলামকে মৌখিক ভাবে এবং সদর থানায় বহুবার লিখিত ও ওভার মোবাইল ফোনে জানানোসহ থানায় জিডি করা হলেও কোন প্রতিকার হয়রি।
লাভলী ইয়াসমিন আরো বলেন, ‘আমার একটি সন্তান রয়েছে। আমি একজন সচেতন নারী। ভালমন্দ বুঝতে পারি। স্বাধীনভাবে সন্তান নিয়ে বসবাস করতে চাই। আমাকে বিতাড়িত করে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেও হয়রানী করা করা হয়েছে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে গত ২৯ মে বাড়ি ভাংচুর ও অমানসিক নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে আমি নড়াইল সদর চীপজুডিশিয়াল আদালতের মামলা করেছি।’
লাভলী ইয়াসমিন মনে করেন, বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। অথচ তিনি একজন নারী হয়ে এবং মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থেকেও বাবা মায়ের সম্পত্তি হতে বিতাড়িত হচ্ছেন। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে লাভলী ইয়াসমিনের পিতা খায়ের মিয়ার সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, তার ছেলে বিল্ডিং করার জন্য ঘরটি ভেঙ্গে ফেলেছে। বিল্ডিং এ তাকে থাকতে দেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে তার বোন ফারহানা রহমান ও ভগ্নিপতি এসএম শরিফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, লাভলী ইয়াসমিন আমাদের বোন, সে তার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে নড়াইলে আমাদের খরিদ করা জমির উপর বসবাস করার লিখিত অনুমতি দেয়া আছে। সেই মোতাবেক তিনি ২০০৩ সাল হতে বসবাস করে আসছেন। ঐ জমির উপর তার বসবাস করার পূর্ণাঙ্গ অধিকার দিয়েছি। অন্যায়ভাবে বাপবেটা মিলে উচ্ছেদ ও ঘর ভাংচুরের বিরুদ্ধে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি।