খুলনার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ

341

নড়াইলকণ্ঠ ॥ খুলনার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বলতে কিছুই নেই। বড় বড় গালভরা বুলি আর ধর্মীয় উক্তি ছাড়া ছাড়া নুন্যতম মানসম্মত চিকিৎসা সেবার কোন আলামত এ হাসপাতালে নেই। রোগিরা হচ্ছে প্রতিনিয়ত প্রতারণা ও হয়রানির স্বীকার। এ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ রুগি ভর্তি হওয়ার সময় বলেন রুগির সব দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। রোগিদের ওষুধ খাওয়ানো থেকে শুরু করে সব কিছুরই দায়িত্ব হাসপাতালের কর্মরত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, আয়া, ওয়ার্ড বয়দের। এর কোনটাই এখানে নিয়ম মেনে করা হচ্ছে না। এরা প্রতিনিয়ত মানুষকে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিশেষ একটি গোষ্টিকে প্রতিপালন করছে। রবিবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল খুলনায় ৭০২ নম্বর কেবিনে ভর্তি এক রোগি ও তার সাথে আসা লোকজন অভিযোগ করে আমাদের প্রতিনিধিকে এসব কথা জানান।
রোগি ও তার সাথে আসা লোকজন আরো জানান, গত শনিবার (১৩ মে) বেলা ১১টার দিকে নড়াইল আধুনকি সদর হাসপাতালের ১ নং কেবিন থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নড়াইল সদর উপজেলার ৩নং চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আজিজুর রহমান ভূঁইয়া (৬৫) খুলনার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি করার সময় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের প্রতিশ্রুতি শুনে মনে হলো এখানে চিকিৎসা সেবা ভালো পাবো। কিন্তু বাস্তবে পেলাম তার সম্পূর্ণ উল্টোটা। এখন এখান থেকে রোগিকে সুস্থ্য করাতো দুরের কথা দ্রুত সরে পড়তে পারলে আমরা বাঁচি।
রোগির সাথে থাকা কাজী আব্দুল কাদের জানান, গত ১৩ মে রাত ১২টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা: সিরাজুল ইসলাম নিয়মিত দায়িত্ব হিসেবে রোগিকে দেখতে আসেন। তখন রোগির উপসর্গ দেখা দেয়। ডাক্তার রোগিকে কোনরুপ শান্ত বা পরামর্শ না দিয়ে তাচ্ছিলতার সাথে ওনার সিটিস্ক্যান করা লাগবে বলে কেবিন ত্যাগ করেন। রোগির সাথে অন্য আর একজন জানান, ডাক্তারটা চিকিৎসক না চামার বুঝতে পারলাম না। যে আসে সে শুধু এ টেষ্ট ও টেষ্ট করতে এ বলে চলে যায়। তারা আরো জানান, এর আগে একই দিনে রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গ্রাস্ট্রোএন্টারোলজি’র সহকারী অধ্যাপক ডা: মো: শহিদুল হাসান (শাহীন) রোগিকে দেখতে আসেন। মনে হলো জমিদার বাবু তার পাইক পিয়াদা নিয়ে খাজনা আদায়তে এসেছে। তিনি এলেন হাতে একখানা ছাতা ঝুলানো এবং একটি ছোট টাকায় আদায়ের ব্যাগ। কেবিনে এসে দাঁড়ালেন, তাচ্ছিলতার সাথে রোগির পুর্বের কয়েকটি ফাইল দ্রুতার সাথে নাড়াচড়া করে রোগির কোন কথা না শুনেই চলে যাবেন এমন সময় শুধু বললেন সবই শুনেছি ডা: জাহিদের কাছ থেকে। রোগির সাথে থাকা অন্যান্য সঙ্গিয়রা বলতে চেষ্টা করলেন যে, ডাক্তার সাহেব রোগি তো ১৫মিনিট/১ঘন্টা পর পর মাথায় হাল্কা ব্যাথা অনুভব হয়েই বুকে চাপ দিয়ে গ্যাসে উর্দ্ধমুখি চাপ দিচ্ছে, নি:শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে, আমাদের রুগি খুবই কষ্ট পাচ্ছে। দুপুর ১২টা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০/২৫ বার এ ঘটনা ঘটেছে। কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। ডাক্তার সাহেব কোন কথা কর্ণপাত না করে কেবিন ত্যাগ করলেন। কেবিন থেকে কে জেন বলে উঠলেন এরা চিকিৎসক না চামার? এদেরকে চিকিৎসক বলা যাবে কিনা জানি না। এদের মধ্যে কোন মনুষ্যত্ববোধ বলতে কিছুই নেই। এরা শুধু টাকার নেশায় পাগল হয়ে গেছে।
আরো জানাযায়, রবিবার (১৪ মে) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে কর্তব্যরত এক নার্স এসে রোগি ও রোগির সাথে থাকা লোকদের জানিয়ে গেলেন, ১০টা সাড়ে ১০টায় রোগির আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হবে। রোগি পানি ছাড়া অন্য কোন খবার খাবেন না। একটু প্রেসার বাড়িয়ে রাখতে হবে। নার্সের কথা মতো রোগির প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সকাল ১১টা, সাড়ে ১১টা সময় পার হয়ে যায় নার্স বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন লোকের খবর মেলে না। উপায়ান্ত না পেয়ে রোগি সাথে থাকা কাজী আব্দুল কাদের নার্সের কাছে বেলা ১২টার দিকে জানতে গেলে নার্স জানায় এখনতো রোগির আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হবে না, সন্ধ্যায় করা হবে। রোগির লোকজন অভিযোগ করে বলেন, এ নাকি ইসলামিক ব্যাংক হাসপাতাল, কথা কাজের সাথে কোন মিল নেই। প্রতিনিয়ত প্রতারণা করেই চলেছে। এদেরকে দেখার কি কেউ নেই? ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে মানুষ ঠকানোর ব্যবসা পেতে বসে আছে। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে অনিয়ম আর প্রতারণা করছে এ হাসপাতাল।
খুলনার ইসলামিক ব্যাংক হাসপাতাল সম্পর্কে খুলনার বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মচারী জানান, আমার এক মেয়েকে ভর্তি করে একই বিপদে পড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার শুধু পরীক্ষা নিরিক্ষা এবং এখানকার কষাই ডাক্তারদের ফি দিতে হয়েছে। অথচ আমার মেয়ের কোন চিকিৎসা হয়নি। এদিকে রূপসা এপ্রোস রোড়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজকর্মী মো: ওবায়দুল্লাহ নামের একজন জানান, এরা কোন চিকিৎসাই দিতে জানে না। এরা ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে মানুষ ঠকানো ব্যবসা করছে। এরা প্রতিনিয়ত মানুষকে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিশেষ একটি গোষ্টিকে প্রতিপালন করছে। সরকারে উচিৎ এদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা।
এদিকে এই হাসপাতালের এক চিকিৎসকের নিকট এসব অভিযোগের কথা জানতে চাইলে তিনি সরাসরি জবাব না দিয়ে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, নার্স-নার্টসরা ভাল বোঝে না। আমি দেখছি কি করা যায়।
উল্লেখ্য, নড়াইল সদর উপজেলার ৩নং চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আজিজুর রহমান ভূঁইয়া (৬৫) গ্যাসের কারনে খুলনার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি এ হাসপাতালের ৭০২ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ সোমবার (১৫ মে) সকাল ৬টা ২২মিনিটে রোগির সাথে থাকা কাজী আব্দুল কাদের জানান, গতকাল ( রবিবার) সিটিস্ক্যান করার পর আরো বেড়েছে। আজিজ ভাইয়ের পূর্বের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি।