গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর সফল কৃষি খামারী সুমন

134

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : যে দিকেই চোখ যায় শুধু শাক-সবজি ও ফল-ফলাদির গাছ আর গাছ। গোপালগঞ্জের উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রত্যন্ত গ্রাম ফুকরা। আর এ গ্রামে মধুমতি নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে কৃষি খামার করে বিপ্লব সৃষ্টি করেছেন শিক্ষিত যুবক সুমন খান (২৮)। পেশায় একজন ওষুধ কোম্পানীর মার্কেটিং অফিসার হলেও তিনি একজন সফল কৃষি খামারী। কৃষি খামার করে সফল হয়েছেন তিনি। শুধু সফলই নয়, তিনি এলাকায় বেকার যুবকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। উপজেলার ফুকরা গ্রামের বাসিন্দা ও ফুকরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল আলমের ছেলে সুমন খান। ২০০৩ সালে বিএ পাশ করার পর দুই বন্ধু মিলে গাজীপুরের টঙ্গী গোয়ালিনী কনডেন্স মিল্ক ফ্যাক্টরীতে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে চাকরি নেন। কিন্তু সামান্য বেতনের ওই চাকরিতে দু’জনের পোষায় না। পরে নিরুপায় হয়ে বাড়িতে ফিরে এক বন্ধুর কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নিয়ে পৈত্রিক জমিতে মূলাচাষ করেন। কিন্তু অসময়ে মূলা চাষে লাভের মুখ দেখতে পাননি তিনি। তবুও তিনি নিরাশ না হয়ে পরের বছর নিজস্ব ৭ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজির চাষ করে সফল হন। বর্তমান নিজস্ব জমিসহ অন্যের জমি লিজ নিয়ে ৩৩ বিঘা জুড়ে করেছেন ব্যাপক আবাদ। ছোটবেলা থেকেই কৃষি কাজের প্রতি সুমনের ছিল প্রচন্ড ঝোঁক। কঠোর পরিশ্রম আর দক্ষতায় কৃষি খামার করে সুমন দেখেন সফলতার মুখ। শুরুর দিকে খামারের জায়গা ৭ বিঘা হলেও এখন প্রায় ৪৭ বিঘা নিয়ে বিস্তৃত। তার কৃষি খামারে বিভিন্ন ধরণের ফলমূল, শাক-সবজি ও আখ রয়েছে। খামার নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছেন একজন সুপারভাইজার। প্রতিদিন ১০/১২ জন বেকার নারী-পুরুষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এতে এলাকার বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি খামারে উৎপাদিত শাক-সবজি বিক্রি করে সব খরচ বাদে বছরে তিনি প্রায় ৮/১০ লাখ টাকা আয় করছেন। সুমনের দেখাদেখি উপজেলার অসংখ্য চাষী ও বেকার যুবকেরা কৃষি খামারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সরেজমিনে খামারে গিয়ে দেখা গেছে, কলা, পেঁপে, লেবু, লালশাক, পালংশাক, উচ্ছে, বাঁধা কপি, ওল কপি, ফুল কপি, কচু, টমেটো, শিম, বরবটি, পটল, মরিচ, গাজর, বেগুন, পেয়ারা, আখসহ বিভিন্ন জাতের শাব-সবজি ও ফলের আবাদ। উৎপাদিত সবজি ক্রয় করতে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন তার খামারে আসেন। এছাড়া কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, নড়াইল, যশোর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত সবজি সরবরাহ করা হচ্ছে। সফল কৃষি খামারী সুমন খান বলেন, খামার দেখা শোনার পাশাপাশি তিনি গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস্ নামে একটি ওষুধ কোম্পানীতে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে চাকরি করছেন। ভবিষ্যতে চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি কৃষি খামারে আত্মনিয়োগ করবেন বলে পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দেশের বেকার যুবকদের সরকার যদি সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে কৃষি কাজে উৎসাহিত করেন তাহলে অসংখ্য বেকার যুবক নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। খামারের সুপারভাইজার আশরাফ আলী মোড়ল জানান, গাছের পুষ্টি, বৃদ্ধি ও পোকামাকড় দমনের জন্য আমরা সব সময় জৈব সার ব্যবহারের চেষ্টা করি। ফুকরা গ্রামের আসাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষিত ও উদ্যোমী যুবক সুমন খান কৃষি ক্ষেতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেকার যুবকদের পথপ্রদর্শক। কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রসময় মন্ডল বলেন, সুমন খান খামার করে শুধু নিজে সাফল্য নয়, তিনি ওই এলাকার বেকার যুবকদের মাঝে সাড়া ফেলেছেন। আমরা তাকে সব সময় সার্বিক সহযোগিতা করছি।