ভিক্ষুক পুনর্বাসন বিষয়ে খুলনা বিভাগের সাথে মূখ্য সমন্বয়কের ভিডিও কনফারেন্স

167

ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রম স্থায়ীত্বশীল রূপ দিতে উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন 

নড়াইলকণ্ঠ ॥ ভিক্ষুকমুক্তকরণ সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ -এসডিজি (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল) খুলনা বিভাগের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করেছেন।
মূখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ পুনর্বাসিত ভিক্ষুক্ষদের উন্নয়নের মুল¯্রােতধারায় সম্পৃক্ত করতে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রম স্থায়ীত্বশীল রূপ দিতে উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এসময় তিনি আরো কিছু পরামর্শ দেন। পরামর্শের মধ্যে ছিল, প্রথমেই তাকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেরিয়ে আনতে প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ করা, প্রশিক্ষণ দিয়েই কাজ দেয়া, পুনর্বাসিত ভিক্ষুক্ষ পরিবারে বা কর্মস্থল আকস্মিত পরিদর্শন, জেলায় একটি স্ট্রং টীম করা, নিয়মিত রিপোর্টিং পদ্ধতি চালু করা, তহবিল অডিট করা, কেইস স্ট্যাডি তুলে ধরা, প্রচার প্রচারণা করা। মোটামুটি এগুলো করতে পারলেই ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রম সাসটেইন করবে।
সোমবার (০৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মূখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ সরাসরি খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার কর্মকর্তাগণ, ভিক্ষুক পুনর্বাসনের সাথে যুক্ত সংস্থা, দানশীল ব্যক্তিগণ, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সাথে ভিক্ষুকমুক্তকরণ প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ভিডিও কনফারেন্সকালে এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আব্দুস সামাদ সহ ১০ জেলার জেলা প্রশাসক, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক, স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবা অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ, নারীসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের নিকট জানতে চান যে, কিভাবে তিনি এবং তারা জেলা সমূহে ভিক্ষুকমুক্তকরণের সাথে সহযোগিতা করছেন।
এ প্রসঙ্গে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আব্দুস সামাদ মূখ্য সমন্বয়ককে জানান, প্রাথমিকভাবে খুলনা বিভাগের সকল জেলাকে স্ব স্ব জেলার ভেতর ভিক্ষুক সনাক্তকরণ করে একটি ডাটা বেইজ করতে বলা হয়। এরপর স্থানীয়ভাবে তাদেরকে ( ভিক্ষুক) সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনিতে অন্তর্ভূক্ত করা। ভিক্ষুক পুনর্বাসনের জন্য জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায় কমিটি গঠন করতে বলা হয়। একই সাথে প্রতিটি জেলায় একটি করে আলাদা ব্যাংক হিসাবও খুলতে পরার্মশ দেয়া হয়। এভাবে পুনর্বাসনের জন্য জেলার কর্মকর্তাগণ, স্থানীয় এনজিও সংস্থা, দানশীল ব্যক্তিগণ, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সাথে ভিক্ষুকমুক্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে দফায় আলোচনা, যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। একই সাথে একটি বাড়ি একটি কামার, সমাজসেবা অধিদপ্ত, মহিলা অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সমবায় বিভাগসহ সকলকে সম্পৃক্ত করে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কাজ আমার ১০ জেলার জেলা প্রশাসকের তাদের স্ব স্ব নেতৃত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা যাদের ঘরবাড়ি নেই এমন ব্যক্তিদের জন্য প্রতিটি জেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে একটি করে আনন্দ ভুবন করারও চিন্তা করেছি। আমরা সমাজসেবার রেজিস্ট্রিশন নিয়ে ভিক্ষুকমুক্ত সংস্থাও করেছি। আমার খুলনা বিভাগে ২১ হাজার ১৩০ জন ভিক্ষুক চিহ্নিত করা গেছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৬শত জনকে পুনর্বাসনের আওতায় নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ৩ হাজার ৫শত জন, নড়াইলে ৭শত ৯৮ জন, সাতক্ষিরায় ৩ হাজার ৬১ জন, যশোরে ৩ হাজার ৩৮১ জন, মেহেরপুরে ৬শত ৮২ জন, ঝিনাইদহে ২ হাজার ৩১ জন, মাগুরায় ১ হাজার ৮১ জন, চুয়াডাঙ্গায় ১ হাজার ৫৯৫ জন, কুষ্টিয়ায় ২ হাজার ২৭৩ জন এবং বাগেরহাটে ২ হাজার ২৬ জন ভিক্ষুককে চিহ্নিত হয়েছে। ইতিমধ্যে নড়াইল জেলাকে সম্পূর্ণভাবে ভিক্ষুক করা হয়েছে।