নড়াইল পৌরসভার বিভিন্ন কক্ষের তালাভেঙ্গে রহস্যজনকভাবে কাগজপত্র তছনছ

318

নড়াইলকণ্ঠ ॥ নড়াইল পৌরসভার বিভিন্ন দপ্তরের কমপক্ষে ৭টি কক্ষের তালা ভেঙ্গে আলমিরা, ফাইল কেবিনেটে রাখা কাগজপত্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস ও মালামাল ফেলে দিয়ে তছনছ করা হয়েছে। মেয়র ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষ বাদে ৭টি কক্ষের তালা ভেঙ্গে কোন মালামাল না নিয়ে রুমের ভেতরের আলমারী, ফাইল ক্যাবিনেট, টেবিলের ড্রয়র এর ভেতরে রাখা ডকুমেন্টস, ফাইলপত্র, বিভিন্ন অফিসিয়াল কাগজপত্র তছনছ করে ফেলে রেখে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (২৯ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে।
বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে নড়াইল সদর ওসি দেলোয়ার হোসেন খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে পৌরসভার নৈশপ্রহরী ফারুক আহম্মদ জানান, আমি পৌরসভার কাউন্সিলরদের রুমে রাতে ঘুমিয়েছিলাম। এ ঘটনা কখন ঘটেছে আমি তা জানি না, তবে আমি ভোর ৪টার দিকে টের পাই। টের পেয়ে আমি রুম থেকে বেরতে চেষ্টা করলে বুঝতে পারি আমার ঘুমিয়ে থাকা রুমের বাইরে থেকে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পরে অনেক চেষ্টা করে বেরিয়ে দেখি বাইরে থেকে গুণাদিয়ে রুমের কড়া বেঁধে রাখা হয়েছে। এরপরই প্রথমে পৌরসভার হিসাবরক্ষক সাইফুজ্জামান (জামান), পরে পৌর মেয়র মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাসকে এবং পরে সদর থানার ওসি সাহেবকে মোবাইল ফোন করে জানায়। কিন্তু আমি এর আগে কিছুই বুঝতে পারিনি।
এসময় পৌরসভার হিসাবরক্ষক সাইফুজ্জামান (জামান) এর আপন ভাইগ্না পৌর কর্মচারী লাভলু জানান, সম্ভবত কে কাহারা রেডক্রিসেন্ট ভবনের পাশে পৌরসভার অফিসের নীচতলার জানালার রড তুলে ফেলে দিয়ে ডুকে এ কাজ করেছে।
অফিস সূত্রে জানাগেছে , এ ঘটনায় পৌরসভার মেয়র ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষ বাদে ৭টি কক্ষের তালা ভাঙ্গা হয়। এ ৭টি কক্ষের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য কক্ষ হলো হিসাবরক্ষক, প্রধান সহকারী, সহকারী প্রকৌশলী , সাধারণ শাখা, পানির বিলের কক্ষের তালা ভেঙ্গে তছনছ করা হয়।
এদিকে পৌর কাউন্সিলর শরফুল আলম লিটু, কাজী জহিরুল হক ও ইপি রানী বিশ্বাসের নিকট এঘটনার রহস্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সকলেই জানান বিষয়টি আমরা বুঝতে পারছিন। কোন কিছু নেইনি এবং কোন মালামাল নষ্ট করেনি। হয়তো কোন যড়যন্ত্র থাকলেও থাকতে পারে। তবে আমরা এখনও কোন বিষয় নিশ্চিত হতে পারিনি।
পৌর মেয়র মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস জানান, বিষয়টি আমরা বুঝতে পারছি না। কোন মালামালের ক্ষতি করেনি। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি জিডি করার প্রস্তুতি চলছে।
নড়াইল সদর থানা ওসি দেলোয়ার হোসেন খান জানান, নড়াইল পৌরসভার ৭টি কক্ষের তালা ভাঙ্গা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষের ভেতরে থাকা আলমিরা, ফাইল ক্যাবিনেট, টেবিলের ড্রয়র আলতোভাবে খুলে বিভিন্ন ফাইল ও কাগজপত্র তছনছ করে ফেলে রেখে গেছে। আমার দেখা ও বুঝামতে কোন মালামাল খোয়া যায়নি।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনাটি সম্পর্কে সকাল ৭টার দিকে পৌরসভার নৈশপ্রহরী ফারুক আহম্মদ আমাকে (ওসি) মোবাইল করে জানালেই আমি তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে যেয়ে পরিদর্শন করি। এদিকে নৈশপ্রহরী ফারুক ঘটনার বিষয় আমাকে আরো জানান, সে নাকি রাতে পৌরসভার কাউন্সিলরদের রুমে ঘুমিয়ে ছিল। এ ঘটনা কখন ঘটেছে সে তা জানে না, তবে সে ভোর ৪টার দিকে টের পেয়ে রুম থেকে বেরতে চেষ্টা করলে বুঝতে পারে তার ঘুমিয়ে থাকা রুমের বাইরে থেকে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পরে অনেক চেষ্টা করে বেরিয়ে দেখে বাইরে থেকে গুণাদিয়ে রুমের কড়া বেঁধে রাখা আছে। এরপরই সে প্রথমে পৌরসভার হিসাবরক্ষক সাইফুজ্জামান (জামান), পরে পৌর মেয়র মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাসকে এবং পরে আমাকে মোবাইল করে জানায়। সে নাকি এর আগে কিছুই বুঝতে পারিনি।
ওসি সাহেব জানান, বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। এখনও পৌরসভা থেকে কোন মামলা করেনি।