নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ মোয়াজ্জম হুসাইনের স্মরণসভা

155

NK_March_2017_0214নড়াইলকণ্ঠ ॥ নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ মোয়াজ্জম হুসাইনের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০ঘটিকায় নড়াইল সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজের মাল্টিপারপাস হল এ কলেজের অধ্যক্ষ মো: সামদউল্লাহ মজুমদারের সভাপতিত্বে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণসভায় বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, সহকর্মীবৃন্দ স্মৃতিচারণ করেন।
এ সময় অধ্যক্ষ মোয়াজ্জম হুসাইনের সুযোগ্য উত্তরসূরি ডা: জাহিদুল হাসান কুমার তার বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, আমাদের বাবা সব সময় চিন্তা করতেন ভিক্টোরিয়া কলেজকে কিভাবে বড় করা যায়। সংসারের প্রতি তেমন নজর ছিল না। বহু কষ্টে আমাদের জীবন যাপন করতে হয়েছে। ‘৭১ সালে শান্তিবাহিনী প্রধান মাওলানা সুলায়মানের আদেশে বাবাকে মাজায় দড়ি বেঁধে যশোর ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা জানতাম বাবাকে ওরা নিশ্চিত মেরে ফেরবে। পরে নড়াইলবাসি সোচ্চা হওয়াতে আমাদের বাবাকে ফিরে পাই। এ রকম বহু ঘটনা রয়েছে বাবার। আমার মা বেঁচে আছেন। তিনি আমার মাধ্যমে একটি অনুরোধ পাঠিয়েছেন, তাহলো ওনাকে নিয়ে যেন কোন রাজনীতি না হয়, পারলে ভিক্টোরিয়া কলেজে “অধ্যক্ষ মোয়াজ্জম হুসাইন” স্মৃতি স্বরূপ করলে তিনি চিরকাল কলেজেই থাকবেন। তাঁর আত্মা শান্তি পাবে।
অন্যান্যের মধ্যে স্মৃতিচারণ করেন, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, প্রফেসর মুন্সি হাফিজুর রহমান, পলিট ব্যুরোর সদস্য বিমল বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, অ্যাডভোকেট গোলাম নবী, শরীফ হুমায়ূন কবীর, অ্যাডভোকেট সিদ্দিক আহম্মেদ, অ্যাডভোকেট এসএ মতিন, সহযোগি অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো: মনিরুজ্জামান রোজ, কলেজের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী অজিত দাস প্রমুখ।
“অধ্যক্ষ মোয়াজ্জম হুসাইন স্মৃচিারণ করতে গিয়ে বক্তরা বলেন, ষাটের দশকের শেষ ভাগের প্রথম অংশে প্রতিথযশা শিক্ষাবিদ সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ পরিদর্শনকালে উপস্থিত সুধিজনদের বলেছিলেন “সমগ্র ইষ্ট পাকিস্তানে দু’তিনজন লোক ইংরেজি লেখাপড়া জানেন, তাদের একজন “অধ্যক্ষ মোয়াজ্জম হুসাইন”। তিনি আরও বলেছিলেন, তুই চল রাজশাহীতে আমি তোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের প্রধান পদে অধিষ্ঠিত করে দেবো। ঐ সময়ে ভাইস চ্যান্সেলরের উত্তরে স্যার বলেছিলেন, আমার জীবনের সাধনা এই কলেজকে আদর্শ কলেজে পরিণত করা। আমরণ এখানেই থাকব। আমাদের দূর্বৃত্তায়নের কারনে তাঁর সে আশা আমরা পূর্ণ হতে দিইনি।
বক্তরা আরো অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, মোয়াজ্জাম হুসাইন মহান চিত্রশিল্পী এস, এম সুলতানের অকৃত্রিম বন্ধু, অপ্রতিদ্বন্ধি ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন বিদগ্ধ সফল শিক্ষকের সংস্পর্শে ,স্নেহ সিক্ত হয়ে যারা নিজেদের জীবন গঠনের দুর্লভ সুযোগ পেয়েছিলাম, তারা কম বেশী অব্যক্ত সুপ্ত অহংকার লালন করি। এ মহান শিক্ষকের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে অকৃতজ্ঞতার দায়ভার হতে নিজেদের মুক্ত করার মানসে আজ “মোয়াজ্জম হুসাইন স্মরণসভা” করছি।
এসএ মতিন একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, মুর্শিদাবাদ (ভারত) থেকে এসে প্রথমে এম.এম. কলেজ এবং পরবরর্তিতে ১৭ বছর নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজে (১/১১/১৯৬৩) আদর্শ শিক্ষক রুপে নড়াইলবাসীকে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করলো যে মানুষটি সে নড়াইলের কতিপয় মানুষের কারনে কলেজ সরকারীকরণের পূর্বে ১/৮/১৯৭৯ নড়াইলকে কাঁদিয়ে খুলনা ভাইয়ের বাসায় চলে যান। পরে তিনি খুলনা সুন্দরবন কলেজে যোগদান করেন।
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ মোয়াজ্জম হুসাইন ১৯২৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জগদল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ২০০১ সালে ১৯ জুলাই বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি ১৯৬৩ সালে ১ নভেম্বর নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। তিনি স্ত্রী প্রফেসর জাহানারা বেগম, ছেলে ডা: জাহিদুল হাসান, মো: খালিদ হাসান কুশল ও এক মেয়ে রেখে যান।