যশোর সনাক’র উদ্যোগে বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে মানববন্ধন

115

নড়াইল কণ্ঠ : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), যশোর’র উদ্যোগে কপ-২১ বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন ২০১৫ উপলক্ষে বাংলাদেশে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার দাবিতে শনিবার (২৮ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় চিত্রা মোড়ে এক ‘মানববন্ধন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সনাক সভাপতি আবু সালেহ্ তোতা, প্রবীণ শিক্ষক তারাপদ দাস, সনাক সহ-সভাপতি এ্যাড: সৈয়দা মাসুমা বেগম, সনাক সদস্য প্রফেসর ড. মো: মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক সুরাইয়া শরীফ, ইয়েস উপ-দলনেতা স্বপ্না দেবনাথ, বেিয়স সদস্য অনামিকা দেবনাথ আঁখি প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সনাক সদস্য আলহাজ্ব শেখ গোলাম ফারুক, স্বজন, ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডস সদস্যবৃন্দ। সঞ্চালনা করেন টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার এ. এইচ. এম. আনিসুজ্জামান।

আগামী ৩০ নভেম্বর ২০১৫ থেকে ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য কপ-২১ (ঈড়হভবৎবহপব ড়ভ ঃযব চধৎঃরবং-ঈঙচ) সম্মেলনে ১৯৫টি দেশের সরকারের প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দের উপস্থিতিতে ২১তম বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনকে সামনে রেখে সনাক- টিআইবি দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেব এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের পূর্বে সনাক অফিস হতে চিত্রা মোড় পর্যন্ত পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জলবায়ু অভিযোজন বাবদ ঋণ নয়, অনুদান দিতে হবে। দূষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্ষতির শিকার দেশগুলোর শুধুমাত্র অনুদান পাওয়ার কথা। শিল্পোন্নত দেশসমূহ কর্তৃক ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রদত্ত জলবায়ু তহবিল শুধুমাত্র সরকারি উৎস হতে অনুদান হিসাবে দেওয়ার কথা থাকলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে কপ-২১ এর খসড়া চুক্তির অনুচ্ছেদ ৬ এর প্যারা ৬(৪) এবং প্যারা ৬(৯)(ক) এ ঋণকেও অর্থায়নের উৎস হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা অগ্রহণযোগ্য। জলবায়ু তহবিলকে লাভজনক বিনিয়োগ বা ব্যবসা হিসাবে ব্যবহার করা অনৈতিকভাবে প্রতিশ্রুতির লংঘন।

তারা বলেন, ২০১৫ এর ৬-৭ সেপ্টেম্বরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত দেশসমূহের সভায় ২০১৬ সালের মধ্যে ৬০ বিলিয়ন ডলার (জাতীয় আয়ের ১%) জলবায়ু অর্থায়নের কথা বলা হলেও  এটি স্পষ্ট নয় যে, প্রস্তাবিত এ তহবিল প্রকৃতই ক্ষতিপূরণ হিসাবে না ঋণ হিসাবে প্রদান করা হবে। এটি উদ্বেগের বিষয় যে, জিসিএফ হতে অর্থায়নের অন্যতম উৎস হিসাবে ঋণ প্রদান এবং জিসিএফ’র অর্থায়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানকে (যেমন, বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, কেএফডব্লিউ ইত্যাদি) অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে জলবায়ু তহবিলের নামে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে জিসিএফ হতে ঋণ গ্রহণে সুকৌশলে উদ্বুদ্ধ, এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে বাধ্য করার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। বাস্তবে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অধিক তহবিল প্রয়োজন।

শিল্পোন্নত দেশগুলো (২০১০ সাল হতে ২০১৫ এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিলের বিপরীতে এ পর্যন্ত সর্বমোট মাত্র ২.৬ বিলিয়ন ডলার (৭.৫% তহবিল) ছাড় করেছে । তাছাড়াও সম্প্রতি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১৯ বিলিয়ন ডলার  এবং সর্বশেষ চীন কর্তৃক ৩.১ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি  দিলেও জলবায়ু পরিবর্তনে সম্ভাব্য ক্ষয়-ক্ষতির তুলনায় তা সামান্য হওয়ায় বাংলাদেশের মত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেকাংশেই অসম্ভব হবে।

বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু অভিঘাতে আক্রান্ত দেশসমূহের অগ্রাধিকার বিবেচনা করে অভিযোজন এবং প্রশমন বাবদ তহবিল প্রদান করা জরুরি। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে প্রশমনের চেয়ে অভিযোজন বাবদ তহবিল প্রদান করা অধিকতর প্রয়োজন। যদি কপ-২১ সম্মেলনে বিজ্ঞান-ভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে সার্বজনীন কার্বন হ্রাসের চুক্তি না করা যায় তাহলে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য শিল্পোন্নত দেশ কর্তৃক প্রতিশ্রুত উন্নয়নশীল দেশসমূহকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ‘অতিরিক্ত’ এবং ‘নতুন’ প্রয়োজনীয় জলবায়ু তহবিলের ঘাটতির পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে। এমনকি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অভিযোজনের জন্য প্রতিষ্ঠিত অভিযোজন তহবিল এবং এলডিসিএফ বর্তমানে তহবিল শূণ্য হলেও প্যারিস চুক্তির খসড়ায় এ বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। উল্লেখ্য, অভিযোজন অগ্রাধিকার দিয়ে শুধুমাত্র অনুদান প্রদানকে প্রাধান্য দেওয়া হবে এরকম আইনী বাধ্যতামূলক কোন বিধান প্যারিস চুক্তির খসড়ায় উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় শিল্পোন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশসমূহ প্রাক-শিল্পায়ন সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির গড় হার  সর্বোচ্চ ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে আইনী বাধ্যতামূলক চুক্তি বাস্তবায়ন, প্যারিস চুক্তিতে আইনী বাধ্যতার আওতায় ‘দুষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ’ নীতি মেনে কোনো অবস্থাতেই ঋণ নয়, উন্নয়ন সহায়তার “অতিরিক্ত” ও “নতুন” শুধুমাত্র অনুদানকে স্বীকৃতি দিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের সর্বসম্মত সংজ্ঞা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবি মানববন্ধনে তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ।