ফরিদপুরে দুর্ঘটনায় নিহতের বাড়ি নড়াইলে চলছে শোকের মাতম

1559

নড়াইলকণ্ঠ ॥ নড়াইল থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি কোচ ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩জনের অনেকের বাড়ি নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায়। নিহতের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এদিকে পুড়ে চেহারা বিকৃত হওয়ায় অনেকেই তাদের স্বজনদের চিনতে পারছেন না। দুর্ঘটনায় আহত ১৪ জনের চিকিৎসা চলছে নড়াইল সদর হাসপাতালে।
জানাগেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় নড়াইল ও লোহাগড়া থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় হানিফ পরিবহনের একটি কোচ। ভাঙ্গা এলাকায় পৌছানোর পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে সামনের চাকা ফেটে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এসময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বাসটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১৩ জন নিহত এবং অন্তন্ত ২৫ জন আহত হয়। দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ জনের অধিকাংশই নড়াইলের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
হানিফ পরিবহনের রূপগঞ্জ কাউন্টারের ম্যানেজার আকবর হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে রূপগঞ্জ কাউন্টার থেকে ১১ জন যাত্রী ওঠে। এসব যাত্রীর মধ্যে পৌরসভার ভাটিয়া গ্রামের জালাল, লোহাগড়া উপজেলার মিঠাপুর গ্রামের বায়েজিদ, ঢাকার ইবনে সিনার চিকিৎসক গোলাম রসুল মারা গেছেন।
এছাড়া বাসের ড্রাইভার বাশগ্রামের দাউদ মোল্যার ছেলে হেমায়েত মোল্যা (৪০), হেলপার বগুড়া গ্রামের ইয়াকুব মোল্যার ছেলে জুয়েল মোল্যা (৩৫)।
হানিফ পরিবহনের লোহাগড়া কাউন্টারের ম্যানেজার হাবিব জানান, লোহাগড়া কাউন্টার থেকে শুক্রবার রাতে ১৯ জন যাত্রী ওঠে। এদের মধ্যে ৪/৫ জনের খবর পাওয়া যাচ্ছে না। লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪জন আহত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকে নড়াইল চৌরাস্তার হানিফ পরিবহনের কাউন্টার বন্ধ রয়েছে। সারাদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীদের সম্পর্কে তথ্য নিতে আসলেও কাউন্টার বন্ধ থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন স্বজনরা। মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন সংস্থা ও স্বজনরা তথ্য নিতে পারেনি। সকাল সাড়ে ৮টার নির্ধারিত ট্রিপ বাতিল করে যাত্রীদের টাকা ফেরত দিয়ে দেয়া হয়েছে বলে কয়েকজন যাত্রী জানান।
নড়াইল সদর হাসপাতালসূত্রে জানাগেছে দুর্ঘটনায় আহত ১৪ জনকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হলেন সদর উপজেলার ফুলশ্বর গ্রামের পিয়ারী বেগম (৪৫), আখি (২৩), হাটবাড়িয়ার আঃ মালেক, শিরিনা (২৩), অজ্ঞাত যুবক (২৫), ডুমুরতলার তফসির (৩০),আলআমিন (২২), শারমিন (২৭), দূর্গাপুরের আরিফ, সীতারামপুরের সমর (৩৮), মহিষখোলার জহিরুল (৩৫), চরবিলার মোহনা (১৪), জঙ্গলগ্রামের মনিরুল ইসলাম (৩২) ও বাকেরগঞ্জের সাব্বির (২৫)।
আহত মনিরুল জানান, তাদেরকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নড়াইল সদর হাপসাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন মৃতের সংখ্যা আরো বেশি হবে।
এদিকে দুর্ঘটনায় নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নড়াইলবাসী শোকাহত হয়ে পড়েন। সারাদিন নড়াইলের প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।