নড়াইলে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু ॥ অংশ নিয়েছে সাড়ে ৯হাজার পরীক্ষার্থী

234

নড়াইলকণ্ঠ ॥ বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) একযোগে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে শুরু হওয়ার প্রথমদিনে নড়াইলে শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলায় কোথায় কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেনি। জেলা প্রশাসক মো: হেলাল মাহমুদ শরীফ সকাল সাড়ে ১১টায় নড়াইল সরকারী মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করছেন। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টায় পর্যন্ত।
সারা দেশে ন্যায় নড়াইল জেলায় এবার ২১টি পরীক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ৯ হাজার ৫২৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েচ্ছে।
জেলায় ২১টি পরীক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৯ হাজার ৫২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫হাজার ৪৯জন ছাত্র, ৪হাজার ৪৭৬জন ছাত্রী; এরমধ্যে এসএসসিতে মোট ৭হাজার ৬৬জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে; এরমধ্যে ৩হাজার ৮৮৬জন ছাত্র এবং ৩ হাজার ৭৮০জন ছাত্রী। ভোকেশনালে (কারিগরি) মোট ৬৯১জন; এরমধ্যে ছাত্র ৫০০জন এবং ছাত্রী ১৯১জন। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে মোট ১হাজার ১৬৮জন; এরমধ্যে ৬৬৩জন ছাত্র এবং ছাত্রী ৫০৫জন। নড়াইলে দুইজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, সারাদেশে প্রথম দিন এসএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্র, সহজ বাংলা প্রথমপত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে প্রথম দিন কোরআন মাজিদ ও তাজবীদ এবং কারিগরিতে বাংলা-২ বিষয়ে পরীক্ষা হয়।
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ৯ লাখ ১০ হাজার ৫০১ জন ছাত্র এবং ৮ লাখ ৭৬ হাজার ১১২ জন ছাত্রী।
এ বছর থেকেই পরীক্ষা বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) প্রশ্নপত্রে ১০ নম্বর কমছে, অপরদিকে সৃজনশীল বা রচনামূলকে (তত্ত্বীয়) ১০ নম্বর বাড়ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার আট বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৯০০ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ ও এসএসসি ভোকেশনালে (কারিগরি) এক লাখ ৪ হাজার ২১২ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে।
তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২ মার্চ শেষ হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪ মার্চ হতে শুরু হয়ে ১১ মার্চ শেষ হবে।
এবার ৩ হাজার ২৩৬টি কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৩৪৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দিচ্ছে।
এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৭ হাজার ১২৪, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৭৬ হাজার ১৯৮ ও বিশেষ (১ থেকে ৪ বিষয়ে পরীক্ষা দেবে) পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৪৫ হাজার ২৯৮ জন।
বিদেশে আটটি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ৪৪৬ জন।
বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এ বছর থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা নামে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
আগের মতোই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসি জনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী স্ক্রাইব (শ্রুতিলেখক) সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারছে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীদের এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে।
এছাড়া অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বৃদ্ধিসহ শিক্ষক, অভিভাবক বা সাহায্যকারীর বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা দেওয়ারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এবার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, কেউ মিথ্যা ফাঁস হওয়া প্রশ্নের পেছনে ছুটলে ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ হবে না। কেউ ফেসইবুকে ভুয়া প্রশ্ন তুলে দিলে বিটিআরসি সঙ্গে সঙ্গে সেই লিংক বন্ধ করে দেবে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে একমাত্র কেন্দ্র সচিবরাই ফোন বহন করতে পারেন। স্মার্ট ফোন নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছবি তোলা যায় না এমন ফোন ব্যবহার করবেন তারা।