এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং রিভিশন

185

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য শুভ কামনা। আশা করি ভালোভাবেই পরীক্ষার প্রস্তুতি হয়েছে। এ মুহূর্তে তোমাদের প্রতি একটিই অনুরোধ থাকবে, রুটিন মাথায় রেখে পড়াশোনা করবে। তবে এর বাইরেও পরীক্ষার্থী হিসেবে আরও কিছু বিষয় জানা দরকার। সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো।

★ পরীক্ষার আগে প্রবেশপত্র হাতে পাওয়ামাত্র এর ফটোকপি করে নিতে হবে। বাড়ী থেকে পরীক্ষার হলের উদ্দ্যেশ্যে বের হওয়ার আগে দরকারি জিনিসপত্র যেমনঃ প্রবেশপত্র, রেজিষ্ট্রেশন কার্ড, কলম, পেনসিল, ঘড়ি ইত্যাদি সঙ্গে আছে কি না, তা দেখে নেবে। প্রথম দিন পরীক্ষা শুরু হওয়ার অন্তত এক ঘন্টা আগে হলে পৌঁছার চেষ্টা করবে। পৌঁছেই প্রথমে সিটপ্ল্যান দেখে নেবে।
★ আশে পাশের কারো কাছ থেকে সহায়তা পাবে এমন আশা নিয়ে পরীক্ষার হলে না যাওয়াই ভাল। নিজের ওপর শতভাগ বিশ্বাস রাখো তুমি পারবে। এর আগে নির্বাচনি, প্রাক নির্বাচনি, অনেক পরীক্ষায় সফল হয়ে এসেছো। তাই এই চূড়ান্ত পরীক্ষায় তোমাকে পারতে হবে, তুমি পারবে।
★ পরীক্ষার কেন্দ্রে কী কী নেওয়া যাবে বা কী কী করা যাবে না – এসব নিয়ম লেখা আছে প্রবেশ পত্রের পেছনের অংশে। পরীক্ষা কেন্দ্রে যে উত্তরপত্র দেওয়া হয় তাতেও কিভাবে উত্তরপত্রে লিখতে হবে, অতিরিক্ত পাতা নিলে তা কোথায় উল্লেখ করতে হবে, এসব বিষয়ে বিস্তারিত লেখা আছে। খাতায় মার্জিনের জন্য স্কেল ব্যবহার করবে।

আরো কিছু কথা বলে রাখি:
১. প্রস্তুতি এবং রিভিশন। এই দুটি ভালো ফল অর্জনের পূর্বশর্ত। তাই যাদের সমগ্র বছরের একাডেমিক কার্যক্রম ভালো তাদের পক্ষে ভালো ফল অর্জন খুব সহজ হবে।
২. আশানুরূপ ফল পেতে প্রত্যকটি বিষয়ে ভালো নম্বর পাওয়া জরুরি। তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হিসেবে আংশিক পড়া বিষয়গুলো আবারও পুনরালোচনা কর।
৩. পরীক্ষার্থীকে বিষয়বস্তুর ওপর পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তরগুলো বারবার নজরে আনতে হবে। ভালো ফলের জন্য উত্তরপত্রে অবশ্যই নিজ প্রতিভার স্বাক্ষর দেখাতে হয়। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি প্রশ্নের উত্তরে রেফারেন্স দিলে লেখা সমৃদ্ধ হবে।
৪. প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। যেসব বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরের সঙ্গে চিত্র আঁকা প্রাসঙ্গিক সেখানে সংশ্লিষ্ট চিত্রটি অঙ্কন করলে বেশি নম্বর পাওয়া যাবে। তবে প্রশ্নের উত্তরকে অহেতুক বড় করে সময় নষ্ট করা যাবে না।
৫. প্রশ্নের উত্তর লেখার ক্ষেত্রে প্রথমেই প্রশ্নটি বুঝে নিতে হবে। বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নের উত্তরের ক্ষেত্রে তথ্য ঠিকমতো সাজিয়ে লিখতে হবে। প্রয়োজনে তথ্যের উৎস বা পাদটীকা দেয়া যেতে পারে।
৬. খাতায় এমনভাবে লিখতে হবে যেন পরীক্ষক খাতা দেখতে গিয়ে বিরক্ত না হন। এই ক্ষেত্রে কৌশল হচ্ছে প্রথম এবং শেষের দিকের প্রশ্নের উত্তরগুলো অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন এবং পরিপূর্ণ দেয়া।
৭. ভালো ফল অর্জনে উত্তরপত্রের উপস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মার্জিন রাখা, এক অনুচ্ছেদ থেকে অন্য অনুচ্ছেদের ব্যবধান রাখতে হবে। উত্তরপত্রে লাল বা অতি বেগুনি কালি ব্যবহার ঠিক হবে না।
৮. পরীক্ষার খাতায় মার্জিন দিতে হবে পেন্সিল দিয়ে। মার্জিনটি হবে সিঙ্গেল লাইনের। খেয়াল রাখতে হবে, মার্জিন টানার সময় উত্তরপত্র যেন ছিঁড়ে না যায়। খাতার ওপর এবং পাশে কমপক্ষে এক ইঞ্চি জায়গা রেখে লেখা শুরু করতে হবে।
৯. পরীক্ষার আগের রাতে উদ্বিগ্ন বা সারারাত জেগে থাকা ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় রিভিশন সেরে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লে ভালো। এই সময় সুষম খাদ্য গ্রহণ ও বিশ্রাম মনকে প্রফুল্ল রাখবে, যা ভালো ফল অর্জনে শিক্ষার্থীকে আরও যোগ্য করে তুলতে পারে।
১০. এক্ষুনি পরীক্ষা ভীতিকে জয় কর। আত্মবিশ্বাস বাড়াও। মনে রাখতে হবে, আত্মবিশ্বাস ও মনোবল সফলতার পূর্বশর্ত।