নড়াইলে বাঁশের ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে চলাচল

108

নড়াইলকণ্ঠ ডেস্ক ॥ নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের সরশপুরে মৃত চিত্রা নদীর উপর দিয়ে চলাচলের একমাত্র উপায় একটি বাঁশের সাঁকো। ৫০ বছর ধরে এলাকার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো পারাপারে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত ওই সাঁকো দিয়েই চিত্রা নদীর উত্তর দিকে শাহাবাদ ইউনিয়নের চরবিলা, ইলিন্দি, হৈদেরখোলা, ফালিয়া, আতশপাড়া, আড়ংগাছা ও বলরামপুরসহ সাত গ্রামের আনুমানিক ১৫ হাজার পরিবারের প্রায় ২০ হাজার সাধারণ মানুষসহ শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। ওই সাঁকোই তাদের পারাপারের একমাত্র ভরসা। স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী সহজে বাজারজাত করতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এটি দিয়ে চিত্রা নদীর দক্ষিণ দিকে (নড়াইল শহরে) আসা-যাওয়া করেন উত্তর দিকের ওই ৭ গ্রামের লোকজনের হাটবাজার, ছেলে মেয়েদের স্কুল কলেজে যাতায়াতসহ সব ধরণের কাজ করতে হয়।
এসব সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা বাঁশের সাঁকো দিয়ে খুব স্বল্প সময়ে খাল পার হয়ে নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ হাটসহ সদর উপজেলা ও জেলা শহরে যাতায়াত করেন। আর এর বিকল্প হিসেবে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মাইজপাড়া সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু দূরত্ব কমাতে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা মূলত এ সাঁকোটিই ব্যবহার করেন। এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য মৃত নদীর ওপর বাঁশের তৈরি একমাত্র সাঁকোটি প্রায় দশ ফুট পরপর দুটি করে বাঁশের খুঁটি ১৮টি স্থানে বসানো হয়েছে। বাঁশের ওপর দিয়ে চলাচলের সময় ওপরে ধরার জন্য আড়াআড়ি বাঁশ বাধা হয়েছে। ৫০ বছর ধরে এলাকার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই চলাচল করছে। সরশপুর গ্রামের বাসিন্দা সলেমান,বরকত ও ছাব্বির বলেন,‘ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাকোর ওপর দিয়ে চলতে গিয়ে অনেকেই পা পিছলে খালের মধ্যে পড়ে যান।ওই মরা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি যুগ যুগ ধরে উত্থাপিত হয়ে আসছে। জনপ্রতিনিধিরা বারবার সেতুটি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সেতুিট নির্মাণ হচ্ছে না।’ সরশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী শিউলি, ছলেমান, টিপুসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানায়,‘অধিকাংশ সময় স্কুলে যাতায়াতের পথে সাঁকো পার হতে খালের পানিতে পড়ে বই-খাতা ও জামা-কাপড় নষ্ট হওয়ায় ক্লাস না করেই বাড়ি ফিরে যেতে হয়। অথচ স্কুলে যাওয়ার একমাত্র পথ ওই সাঁকো।, নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সুফিয়া খাতুন বলেন,‘বই-পুস্তকপূর্ণ ব্যাগ কাঁধে নিয়ে সরু বাঁশের ওপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াতে বুক ধুরি ধুরি করে ওঠে। সরশপুর গ্রামের নজরুল, রুবেলসহ একাধিক বাসিন্দা বলেন,‘অনেকবার সংশ্লিষ্টদের কাছে সেতু নির্মাণের জন্য দাবি জানিয়েও কোন ফল হয়নি। চরবিলা গ্রামের ব্যবসায়ী শমসের আলী বলেন, মালামাল নিয়ে যাওয়া যায় না। নসিমন ভাড়া করে অনেক দূরের পথ ঘুরে যেতে হয়। শাহাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন পান্না যুগান্তরকে বলেন,‘শাহবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়,সরশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ৭/৮ টি গ্রামের বাসিন্দারা ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে। বিধায় ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরী।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সুদৃষ্টি কামনা করেছে এলাকাবাসি।’