শেষ হলো সুলতান মেলা : পদক পেলেন চিত্রশিল্পী হাশেম খান

203

নড়াইলকণ্ঠ ॥ শনিবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নড়াইলের সুলতান মঞ্চে বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খানকে সুলতান স্বর্ণ পদক-২০১৬ প্রদানের মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপি সুলতান মেলা শেষ হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার এমপি গুণী শিল্পী হাশেম খানের হাতে সুলতান পদক ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন। গুণী শিল্পী হাশেম খান তার প্রতিক্রিয়ার বলেন, ‘সুলতান পদক পেয়ে আমি আন্দদিত, গৌরান্বিত। এমন আদর্শবান মানুষের নামের পদক আমাকে অনুপ্রেরণা যোগাবে। আমাদের তরুণ সমাজ তার (সুলতান) আদর্শে এগিয়ে যাবে।’

NK_January_2017_0095-300x182মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিশেষ অতিথি সুলতানপদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী হাশেম খান, সাবেক সচিব ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. মিহির কান্তি মজুমদার, নড়াইল জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: সিদ্দিকুর রহমান, এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু, সিভিল সার্জন মোঃ ছাদুল্লাহ, নড়াইল সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজের উপাধ্যক্ষ বরুণ কুমার বিশ্বাস, পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

বক্তৃতাকালে প্রধান অতিথি বলেন, চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান এ দেশের শ্রমজীবি মেহনতি মানুষের চিত্র তুলির আঁচড়ে তুলে ধরেছেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিত্রপ্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তুলেছেন। শিল্পী ভালবাসতেন সবুজ শ্যামল নড়াইলকে। তাই তিনি সব জায়গা ছেড়ে জন্মভূমি নড়াইলেই জীবন অতিবাহিত করেছেন। শিল্পী সুলতানের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করতে হবে। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের সরকার। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শিল্পীর স্বপ্ন বাস্তবে রূপদান করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।
১৫ জানুয়ারী থেকে সুলতান মেলা শুরু হয়। তবে ১৬ জানুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ফজলে রাব্বী মিয়া।

এছাড়া স্থানীয় ৩১টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীদের অংশগ্রহণে গান, নাচ, নাটক ও আবৃত্তির পাশাপাশি কণ্ঠশিল্পী চন্দনা মজুমদার, কিরণ চন্দ্র রায় ও ইন্দ্রোমোহন রাজবংশী গান পরিবেশন করেন। এছাড়া কবিগান করেন রওশন আলী ও কৃষ্ণকান্ত সরকার এবং জারিগান রওশন আলী ও দিদারুল ইসলাম। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার মানুষ উপভোগ করেন। স্টলগুলোতে বিভিন্ন পণ্যের বেচাকেনা জমে উঠে।

এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি জেলা প্রশাসক মো: হেলাল মাহমুদ শরীফ বলেন, সুলতানের কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনা ছাড়াও নড়াইলের গুণীজন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ, নৃত্যশিল্পী উদয় শংকর, সেতারবাদক রবি শংকর, ঔপন্যাসিক ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্ত, কবিয়াল বিজয় সরকার, জারিসম্রাট মোসলেম উদ্দিন এবং সুরকার কমল দাশগুপ্তের জীবনালেখ্য সম্পর্কে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী হাশেম খানের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : সুলতান পদক প্রাপ্ত শিল্পী হাশেম খান (৭৪) ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ৩ বৈশাখ চাদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার সেকদি গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৬৯ সাল থেকে ২০০৭ পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন। বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের অলংকরণের প্রধান শিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯২ সালে তিনি একুশে পদক এবং ২০১১ সালে স্বাধীনতা পদক অর্জন করেন। দেশ-বিদেশে বেশ কয়েকটি চিত্র প্রদর্শনী হয়েছে এই শিল্পীর।

এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে মেলা শেষ হলেও মেলার স্টল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে আরো দু’দিন। আগামী ২২ ও ২৩ জানুয়ারী পর্যন্ত চলাকালে মেলায় কোন সেমিনার ও গ্রামীণ খেলাধুলা থাকবে না। তবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দোকানপাট যথারীতি থাকবে।