পোল্যান্ড সীমান্তে তিন হাজার মার্কিন সেনার অবস্থান

145

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হ্যাকিং নিয়ে ওয়াশিংটন-মস্কো সম্পর্কের চলমান উত্তেজনার মধ্যে পোল্যান্ড সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে তিন হাজার মার্কিন সেনা। রাশিয়াকে ঘিরে ন্যাটোর উদ্বেগ দূর করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।

পাল্টা অবস্থান হিসেবে রাশিয়াও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে মস্কো সীমান্তের কাছে বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপকে রাশিয়ার স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের পর প্রথমবারের মতো বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা সদস্য সাজোঁয়া যান ও সমরাস্ট্র নিয়ে পোল্যান্ড সীমান্তে অবস্থান নেয়। ইউক্রেন- রাশিয়া উত্তেজনা নিয়ে উদ্বিগ্ন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো’র মিত্রদের আশ্বস্ত করতে এই পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রের এমন ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছে ন্যাটো ও পোল্যান্ড।

পোল্যান্ড সেনা প্রধান বলেন, ‘পোল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সম্পর্ক যে কতোটা মজবুত তার প্রমাণ এই সামরিক মহড়া। বিভিন্ন কঠিন মুহূর্ত আমরা এক হয়ে কাজ করেছি। সামনের দিনগুলোতেও তাই হবে।’

ন্যাটো প্রধান বলেন, ‘রাশিয়া যে হারে তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে ন্যাটো তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করে যাবে।’

ইউরোপভুক্ত রাষ্ট্র না হয়েও যুক্তরাষ্ট্রের এমন সামরিক উপস্থিতির কড়া সমালোচনা করেছে মস্কো। পাল্টা অবস্থান হিসেবে মস্কো সীমান্তের কাছে বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-ফোর হানড্রেড ও বিমান বাহিনীর সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন ভূমিকা মস্কোর নিরাপত্তার জন্য হুমকি উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইউরোপের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্র এমন ষড়যন্ত্র করছে। এ অবস্থায় দ্রুত পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রুশ পররাষ্ট্র দফতর।

এখানে ন্যাটো ইস্যু লোক দেখানো মাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের এই শক্তি প্রদর্শনের একটাই কারণ, আর তা হলো গোয়েন্দা বিভাগের ওই হ্যাকিং সংক্রান্ত প্রতিবেদন। এমন ভিত্তিহীন অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রের এমন ভূমিকা উত্তেজনা ছড়ানো ছাড়া কোন কল্যাণ বয়ে আনবে না।

তবে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের পর এই সামরিক শক্তি প্রদর্শন অব্যাহত থাকবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বছরের শুরু থেকেই কয়েক দফায় সাজোঁয়া যানগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে জার্মানিতে পৌঁছায়। পরে তা পূর্ব ইউরোপের পোলান্ড সীমান্তের দিকে পাঠানো হয়।

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর মস্কোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পূর্ব ইউরোপে সামরিক শক্তি বাড়ায় ন্যাটো। তারই অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে এসব সমরাস্ত্র জার্মানিতে পৌঁছায়।