খুলনায় জলবায়ু পদযাত্রা , আন্তর্জাতিক জলবায়ু আদালত গঠনের দাবি

105

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : উন্নত বিশ^কে আইনগতভাবে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমনে বাধ্য করার জন্য স্বাধীন আন্তর্জাতিক জলবায়ু আদালত গঠনের দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনসমূহ। শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) খুলনা পিকচার প্যালেস মোড়ে সামনে জলবায়ু পদযাত্রা শেষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এ দাবি তোলেন। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে ন্যায্য ও আইনগতভাবে কার্যকর চুক্তির দাবিতে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট, নোয়াখালী রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এনআরডিএস), পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান), প্রান্তজন ও গ্লোবাল কল টু অ্যাকশন এগেইনস্ট পোভার্টি (জিক্যাপ)-এর যৌথ উদ্যোগে উপকূলীয় অঞ্চলব্যাপী এ পদযাত্রার আয়োজন করে।

ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পরিবর্তন-খুলনার নির্বাহী পরিচালক নাজমুল আযম ডেভিড, বাংলাদেশ মানবাধিকার ইউনিটির সভাপতি শেখ আব্দুল হালিম, জন উদ্যোগের সদস্য সচিব মহেন্দ্রনাথ সেন, ছায়াবৃক্ষের মাহবুব আলম বাদশা, ক্লিন-এর আকবর হোসেন ঋদ্ধ, সূবর্ণা ইসলাম দিশা, রাজিবুল ইসলাম, মাঈনুল ইসলাম সাকিব প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলো ১৯৯৭ সালে প্রণীত কিয়োটো প্রোটোকল না মানার কারণে বাতাসে কার্বনের ঘনত্ব ৪০০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) ছাড়িয়ে গেছে। ক্রমেই বেড়ে যাওয়া উষ্ণতার কারণে বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশগুলো চরম সঙ্কটের মুখে পড়ছে। ঘনঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, ২০৫০ সাল নাগাদ শুধুমাত্র উপকূলীয় অঞ্চল থেকে ২ কোটিরও বেশি মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। এ অবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্বন নির্গমন কমিয়ে আনতে হবে যাতে ২১০০ সাল নাগাদ বিশে^র গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ শিল্পযুগপূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রির চেয়ে বাড়তে না পারে। কিন্তু প্রস্তাবিত খসড়া চুক্তিতে দূষণ কমানোর কোনো মাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয় নি। এছাড়া দূষণকারী দেশগুলো যে পরিমাণ নির্গমন কমানোর সংকল্প প্রকাশ করেছেন, তাও বাধ্যতামূলক নয়। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, ২১০০ সাল নাগাদ তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ৪.৭ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাবে। এ আশঙ্কা সত্য হলে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন গড়ে ২০ শতাংশ কমে যেতে পারে যা চরম খাদ্যসঙ্কট সৃষ্টি করবে।

অপরদিকে, গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড ও অভিযোজন তহবিলসহ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলো পর্যাপ্ত অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন এ নিয়ে গড়িমসি করছে এবং স্বল্পশর্তের অর্থায়নের নামে সুদযুক্ত ঋণ ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো থেকে বিনিয়োগের কথা বলছে। এ ধরনের ঋণের মাধ্যমে গরিব দেশগুলো নতুন নতুন দেনায় জর্জরিত হলেও ধনী দেশগুলোর ঋণবাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো জলবায়ু দুর্যোগের জন্য দায়ী না হয়েও শুধুমাত্র টিকে থাকার জন্য এসব ঋণ নিতে বাধ্য হবে। বক্তারা জলবায়ু-সংক্রান্ত সকল প্রকার ঋণ বাতিলের দাবি জানান।

বক্তারা প্যারিস সম্মেলনে আইনি বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন সার্বজনীন চুক্তি প্রণয়ন, আন্তজার্তিক জলবায়ু আদালত গঠন,  ‘জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের উন্নত দেশগুলোতে সম্মানজনক অভিবাসনের অধিকার প্রদান, জলবায়ু চুক্তিতে অংশীদারিত্ব, ন্যায্যতা ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা, জিসিএফ, অভিযোজন তহবিলসহ অন্যান্য তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা খাতে সকল ধরনের ঋণের সুযোগ বন্ধ করা, জলবায়ু তহবিলের ব্যবহারে স্থানীয় জনসংগঠনের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি, ইতোমধ্যে সংঘটিত ক্ষয়-ক্ষতি পূরণের জন্য অতিরিক্ত ‘ক্ষতিপূরণ’ প্রদান এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়-সাধনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কণ্ঠ জোরদার করাসহ নয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।