এমপি লিটন হত‌্যা: জামায়াতকে দায়ী করছেন শেখ হাসিনা

186
গাইবান্ধায় দলীয় সংসদ সদস‌্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত‌্যাকাণ্ডের জন‌্য সরাসরি জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বুধবার গণভবনে দলের এক সভায় বক্তব‌্যে উত্তরাঞ্চলের জেলাটিতে জামায়াতের তৎপরতা ঠেকাতে লিটনের সক্রিয়তা তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “সে (লিটন) জামাতের বিরুদ্ধে সবসময় ছিল। এমনকি গোলাম আযম ওখানে মিটিং করতে চেয়েছিল, সেই মিটিং ও (লিটন) করতে দেয়নি, বাধা দিয়েছিল।

“সেই থেকে জামাতের একটা ক্ষোভ ওর উপর ছিল। ওকে বেশ কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আর অবশেষে তারা সেই হত্যাকাণ্ডটা ঘটাল।”

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নে শাহাবাজ গ্রামে গত ৩১ ডিসেম্বর বাড়িতে ঢুকে লিটনকে হত‌্যা করে যায় কয়েক দুর্বৃত্ত।

তিন দিনেও পুলিশ খুনি শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

আওয়ামী লীগ নেতারা শুরু থেকে জামায়াতকে দায়ী করে এলেও দলটি তা অস্বীকার করে বলছে, প্রকৃত খুনিদের আড়াল করতে তাদের উপর দোষ চাপানো হচ্ছে।

লিটনের বোনেরা সব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের আহ্বান জানালেও তার স্ত্রী গাইবান্ধা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি জামায়াতকেই দায়ী করেছেন।

গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভার প্রারম্ভিক বক্তব্যেই লিটন হত‌্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন শেখ হাসিনা।

গত এক যুগের মধ‌্যে এই প্রথম কোনো সংসদ সদস‌্য হত‌্যাকাণ্ডের শিকার হলেন। এর আগে ২০০৫ ও ২০০৪ সালে হত‌্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন আওয়ামী লীগেরই দুই সংসদ সদস‌্য শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও আহসানউল্লাহ মাস্টার।

শেখ হাসিনা জামায়াতের পাশাপাশি তাদের জোটসঙ্গী বিএনপিকেও ‘হত‌্যার রাজনীতির’ জন‌্য দায়ী করে বলেন, “মানুষ হত্যা করা বিএনপির চরিত্র।”

লিটন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, ‘যেভাবেই হোক তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়ার’ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

গুপ্তহত্যার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “আমি জানি না, ওদের (বিএনপি-জামায়াত) আরও কী পরিকল্পনা আছে। আন্দোলন করে সরকার উৎখাতে ব্যর্থ হয়ে এখন গুপ্তহত্যা।”