২০১৬ সালে ব্যাংকগুলোর অর্জিত মুনাফার পরিমাণ বাড়বে

117

দেশের বিনিয়োগে ভাটার টান থাকলেও বিদায়ী বছরে অধিকাংশ বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বেড়েছে। মুদ্রাবাজারে টাকার প্রবাহ প্রায় সারাবছরই বেশি ছিল। ফলে কলমানির (আন্তঃব্যাংকিং) সুদের হারে আয় হয়নি তেমন।

তাছাড়া ঋণ প্রবৃদ্ধিও প্রত্যাশার তুলনায় ছিল কম। তবে সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকায় ব্যাংকগুলো আগের বছরের চেয়ে বেশি মুনাফা করেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ছাড়াও ২০টি বেসরকারি ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা।

শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সারাবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব করে ব্যাংকগুলো। ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।।

পরিচালন মুনাফা ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা নয়। নিট মুনাফাই ব্যাংকের প্রকৃত আয়। পরিচালনগত মুনাফা থেকে ঋণের বিপরীতে সঞ্চিত (প্রভিশন) এবং কর (৪২ দশমিক ৫ শতাংশ) বাদ দিয়ে নিট মুনাফার পরিমাণ হয়।

এর ওপরও ব্যাংকবিশেষে সাধারণ রিজার্ভ খাতে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়। ফলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীকে অপেক্ষা করতে হবে নিট বা প্রকৃত মুনাফার হিসাব পাওয়া পর্যন্ত। আবার অনেক ক্ষেত্রেই নিট মুনাফা হলেও তার সম্পূর্ণ অর্থ লভ্যাংশ আকারে বিতরণ করা হবে না।

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া হিসাবে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরের মতো এবারও শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। ২০১৬ সালে ২ হাজার ৩ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে ব্যাংকটি। ২০১৫ সালে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছিল ১ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা।

পরিচালন মুনাফার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে আছে ন্যাশানাল ব্যাংক। তবে প্রথম স্থানে থাকা ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালন মুনাফার পার্থক্য অনেক বেশি। ২০১৬ সালে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দেখানো হয়েছে ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৮২৬ কোটি টাকা।

সদ্য সমাপ্ত বছরে পরিচালন মুনাফার দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের মুনাফা দেখানো হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা; ২০১৫ সালে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৭৮০ কোটি টাকা। ৮৬৩ কোটি টাকা মুনাফা নিয়ে এ তালিকার চতুর্থ স্থানে আছে সাউথইস্ট ব্যাংক; ২০১৫ সালে ব্যাংকটির মুনাফা হয়েছিল ৮৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া ৮৫০ কোটি টাকা মুনাফা নিয়ে তালিকার শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে ইউসিবিএল।

অন্য বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২০১৬ সালে দ্য সিটি ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৭৬০ কোটি টাকা; যা ২০১৫ সালে ৬৬৭ কোটি টাকা ছিল। ৭৫৪ কোটি টাকা মুনাফা করেছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক; ২০১৫ সালে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ৬২৮ কোটি টাকা।

২০১৬ সালে এক্সিম ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দেখানো হয়েছে ৬৯০ কোটি টাকা; ২০১৫ সালে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ৬৫০ কোটি টাকা। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ৬০৩ কোটি টাকা; যা ২০১৫ সালে ৫২৮ কোটি টাকা ছিল। প্রাইম ব্যাংকের মুনাফা দেখানো হয়েছে ৬২৫ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে ৩৯৩ কোটি টাকা মুনাফার পর ২০১৬ সালে ৫০৮ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক।

এছাড়া ট্রাস্ট ব্যাংক ৫০১ কোটি টাকা, ওয়ান ব্যাংক ৪৫০ কোটি টাকা; যমুনা ব্যাংক ৪৫০ কোটি টাকা; আইএফআইসি ব্যাংক ৪৩০ কোটি টাকা; স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ৩৭৫ কোটি টাকা; এমিটিবিএল ৩৬০ কোটি টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক ৩৫০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।

নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে পরিচালন মুনাফার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে ইউনিয়ন ব্যাংক; ২০১৬ সালে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১৮৫ কোটি টাকা। এছাড়া এনআরবিসি ১৭১ কোটি টাকা; সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল ব্যাংক ১৫৪ কোটি টাকা; ফার্মার্স ব্যাংক ১০০ কোটি টাকা; এনআরবি গ্লোবাল ৯৫ কোটি টাকা; মধুমতি ব্যাংক ৯০ কোটি টাকা এবং এনআরবি লিমিটেড ৯৩ কোটি টাকা পরিচালনা মুনাফা করেছে।

এদিকে দুই বছর পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক। ২০১৬ সালে ব্যাংকটির পরিচালনা মুনাফা হয়েছে ১৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। ২০১৪ সালে বেসিক ব্যাংকের পরিচালন লোকসান ছিল ১১০ কোটি টাকা। আর ২০১৫ সালে ব্যাংকটির লোকসান ছিল ২২৫ কোটি টাকা।