নড়াইলে কে হচ্ছেন চেয়ারম্যান , ভোট কাল

778

নড়াইলকণ্ঠ ॥ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথম জনপ্রতিনিধিদের ভোটে (মৌলিক গণতন্ত্র) জেলা
পরিষদ নির্বাচন। আরমাত্র একটি রাত পোহালেই বুধবার ২৮ ডিসেম্বর। সকাল ৯টায় শুরু হবে ভোট গ্রহণ। শেষ হবে দুপুর ২টায়। এদিকে গত (২৬ ডিসেম্বর) মধ্য রাতে নির্বাচনী প্রচারনা শেষ হয়েছে। তারপরও থেমে নেই প্রার্থীরা। প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন যে যেমনভাবে পারেন।
এদিকে চশমা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী এ্যাডভোকেট মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাস রির্টানিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগে বলেছেন, লোহাগড়ায় ৫টি কেন্দ্রের ভোট আনারস প্রতীকের প্রার্থী জোরজবরদস্তি করে প্রকাশ্যে ভোট নেয়ার আশঙ্ক করছেন এবং সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। অপরদিকে আনারস প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ আইয়ূব আলীর পক্ষে পক্ষপাত করার অভিযোগ এনেও মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাস প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর অভিযোগও করেছেন।
সচেতন নাগরিক ভাবনা
বাংলাদেশে এই প্রথম ইলেক্ট্রোল ভোট হতে যাচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবে জেলা পরিষদ। সাধারণ নাগরিকদের চেয়ে দেখা আর আলোচনা সমালোচনা করা ছাড়া এনির্বাচনে তেমন কোন ভুমিকা নেই বললেই চলে। তারপরও আমরা নাগরিক। রাষ্ট্রের সবচেয়ে উচ্চ পদের অধিকারী এই দেশের নাগরিক। নাগরিকই পদ সৃষ্টি করে এবং পদ বিলুপ্ত করেন। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার প্রতিটি চা, বাসস্ট্যান্ড, হাটে-বাজারে, অফিস-আদালতে, অটোরিক্সা-ভ্যানসহ সর্বত্র একই আলোচনা কে হচ্ছেন নড়াইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান? সোহরাব বিশ্বাস না আইয়ূব আলী? এদিকে নড়াইলের সচেতন নাগরিক সমাজের ভাবনা- ভোটের হিসাব দাড়াতে পারে মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাসের পক্ষে ৮০ ভাগ এবং সৈয়দ আইয়ূব আলী’র পক্ষে ২০ভাগ। যদি নাকি ভোট ঠিকঠাক হয় অর্থাৎ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন ভোটারদের ভোটারধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারে তা’হলে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থির নিশ্চিত ভরাডুবিও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত দুইদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সচেতন নাগরিকদের সাথে আলাপচারিতায় উরোল্লেখিত মতামত পাওয়া যায়।
১৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে :
কালিয়া- বাঐসোন-কামশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পহরডাঙ্গা, বাঐসোনা, কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪০ ভোট, খাশিয়ালী সম্মীলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জয়নগর, খাশিয়ালী, মাওলী ইউণিয়নের ৪০ ভোট, পূর্ব কালিয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কালিয়া পৌরসভা, সালামাবাদ, বড়নাল-ইলিয়াচাবাদ ইউনিয়নে৩৯ ভোট, ফাজেল আহম্মেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামদপুর, পেড়লী, পাঁচগ্রাম ইউনিয়নের ৩৯ ভোট, এফ ধাড়িয়াঘাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুরুলিয়া, চাঁচুড়ি, বাবরা-হাচলা ইউণিয়নের ৩৯ ভোট।
নড়াইল সদর – গোবরা প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সিংগাশোলপুর, বিছালী. কলোড়া ইউনিয়নের ৩৯ ভোট, তুলারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তুলারামপুর, মুলিয়া, শেখহাটি ইউনিয়নের ৪০ ভোট, হবখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মাইজপাড়া, হবখালী, চন্ডিবরপুর ইউণিয়নের ৩৯ ভোট, ডুমুরতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নড়াইল পৌরসভা, শাহাবাদ এ ২৮ ভোট, ভবানীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাঁশগ্রাম, ভদ্রবিলা, আউড়িয়ায় ৩৯ ভোট।
লোহাগড়া- আর, কে, কে জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় রায়গ্রাম কেন্দ্রে কাশিপুর, কাশিপুর, নোয়াগ্রাম এ ২৭ ভোট, মাকড়াইল কে, কে এস ইনস্টিটিশন কেন্দ্রে নলদী, শালনগর, লাহুড়িয়ায় ৪১ ভোট, লক্ষ্মীপাশা আর্দশ মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে লোহাগড়া পৌরসভা, লক্ষ্মীপাশা, জয়পুর এর ৪১ ভোট, ৯৫ নং টি, চর কালনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে লোহাগড়া, মল্লিকপুরের ২৬ ভোট এবং কে, ডি, আর, কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দিঘলিয়া, কোটাকোল ও ইতনা ইউনিয়নের ৩৯ ভোট।
উল্লেখ্য, নড়াইলে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন দু’জন প্রার্থী। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট সৈয়দ আইয়ুব আলী লড়ছেন আনারস প্রতীকে, অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আ’লীগের সদস্য, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাস চশমা প্রতীক পেয়ে লড়ছেন। এছাড়া ১৪ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য এবং ৫৮জন সদস্য প্রার্থী ভোটযুদ্ধে মাঠে লড়ছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান এর ব্যক্তিগত ব্যয় ৫০ হাজার এবং এর বাইরে নির্বাচনী ব্যয়সীমা ৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া কাউন্সিলর দের জন্য ব্যক্তিগত ব্যয় ১০ হাজার ও নির্বাচনী ব্যয় একলক্ষ টাকা। এর বাইরে ব্যয় হলে তা আচরনবিধি ভঙ্গ হবে।
নির্বাচনে টাকার খেলা এবং আচরনবিধি লঙ্ঘন প্রসঙ্গে রিটার্নীং কর্মকর্তা এবং নড়াইল জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল মাহমুদ শরীফ বলেন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন কিম্বা টাকা প্রদান করা আচরনবিধি লংঘন। এ ধরনের লিখিত অভিযোগ পেলে কমিশন তদন্ত করে অবশ্যই তাৎক্ষনিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।