১৫৫ বল ডট, ১১৪ বলেই ২৬৪ রান বাংলাদেশের !

121

প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের দেয়া ৩৪১ রানের টার্গেটে বাংলাদেশকে জিততে হলে গড়তে হত দুটি রেকর্ড। প্রথমত এর আগে বাংলাদেশ এত বড় সংগ্রহ তাড়া করে জয় পায়নি। দ্বিতীয় নিউজিল্যান্ডের ওভালে কোন দলই ৩০০ এর উপরে রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই।

স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড যখন বাংলাদেশের সামনে ৩৪২ রানের পাহাড় সমান টার্গেট দাঁড় করায় তখনই যেন মানসিকভাবে হেরে বসে টাইগাররা। ৩৪২ রানের টার্গেট তাড়া করে রেকর্ড গড়ার জন্য যে স্পৃহা বা বিস্ফোরক ব্যাটিং দরকার ছিল তার কোনোটাই দেখা গেল না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে।

শেষদিকে মুশফিকুর রহিম মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ম্যাচ প্রায় নিজেদের করে এনেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যও বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল না। ৪২ রান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন মুশফিক।

মোসাদ্দেককে আর সঙ্গ দেয়ার কেউ না থাকায় ৪৪ দশমিক বলে ২৬৪ রানে থামতে হয় বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের ইনিংসে ১৫৪টি বলই ছিল ডট। সেই হিসাবে ১৯ দশমিক ওভারেই বাংলাদেশ তুলেছে ২৬৪ রান।

এদিন সিঙ্গেল নেয়াটা যেন ভুলে গিয়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

সবাই বিগ শট খেলতে গিয়ে আউট হন। সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান দুজনেই আগের বলে ছয় মেরেও পরের বলে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন।

মারকুটে ওপেনার তামিম ইকবাল ৫৯ বল খেলে করেন ৩৮ রান। তার ইনিংসে ছিল ৩৯টি ডট বল। মুশফিকুর রহিম ৪৮ বলের মধ্যে ২৪ বল এবং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৪৪ বলের মধ্যে ২৪ বলে রান পাননি।

এছাড়া সাকিবের ৫৪ বলের ইনিংসে ছিল ২৩টি ডট বল। ইমরুল কায়েসের ২১ বলের ইনিংসে ছিল ১৭টি ডট বল। ১৫৪ ডট বলের অর্ধেক অর্থাৎ ৭৭ বলে যদি এক রান করেও সংগ্রহ করতো টাইগাররা তাহলে ৭৭ রানে হারতে হতো না সফরকারীদের।

ম্যাচের পোস্ট মর্টেম যদি করা হয় তাহলে ব্যাটসম্যানদেরকাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। কারণ বাংলাদেশের ২৬৯ বলের ইনিংসে ১৫৪ বলই ছিল ডট! ৪৪. ওভারে বাংলাদেশের রান ২৬৪। অর্থাৎ ২৫. ওভার ডট খেলেছে তামিম, সাকিব, মুশফিক সৈকতরা। বাংলাদেশ অতিরিক্ত খাত থেকে পেয়েছে ২৬ রান। হিসাবে ব্যাটসম্যানদের ব্যাট থেকে এসেছে ২৩৮ রান, মাত্র ১১৫ বলে। ২৩ চার ছক্কায় বাংলাদেশের ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে রান এসেছে ১৩৪। বাকি ১০৪ রান এসেছে এক রান, দুই রান তিন রানে।