নড়াইল জেলা পরিষদ নির্বাচন : চলছে জমজমাট প্রচারণা

411

নড়াইলকণ্ঠ ॥ জমজমাট প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন নড়াইল জেলা পরিষদের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ সদস্য প্রার্থীরা। নড়াইলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ আইয়ুব আলী লড়ছেন আনারস প্রতীকে। অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আ’লীগের সদস্য সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাস চশমা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠ সরগরম করে রেখেছেন। এছাড়া ১৪ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য এবং ৫৮ জন সদস্য প্রার্থী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ৫৫৪ জন ভোটারের কাছে প্রার্থীরা ছুটছেন সকাল থেকে রাত অবধি। এদিকে, প্রার্থীদের পোস্টার, লিফলেট ছাপাতে ব্যস্ত সময় পার করছে নড়াইলের ছাপাখানাগুলো।
আ’লীগ প্রার্থী সৈয়দ আইয়ুব আলী বলেন, দলীয় নেতাকর্মীসহ ভোটাররা আমার সঙ্গে আছেন। বিজয়ী হলে নড়াইলকে সুন্দর ও ভালো জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব। ডিজিটাল বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিতে কাজ করে যাব।
অপর প্রার্থী মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাস বলেন, ভোটারদের ভালো সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচিত হলে নড়াইলের সার্বিক উন্নয়নে সবার মতামতের ভিত্তিতে অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে জনবান্ধব ডিজিটাল জেলা গড়ে তুলব।
এদিকে, সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য পদে সোহেলী পারভীন (নিরী) দোয়াত কলম প্রতীক ও মোসা: ছাবিনা বেগম ফুটবল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে ১নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকা। এখানে ভোটার আছেন ১১৯ জন।
সংরক্ষিত ২ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য পদে মোসা: রানী ফুটবল প্রতীক ও রমা রানী রায় দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। ২নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ১১৭ জন।
সংরক্ষিত ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য পদে নাজনীন সুলতানা হরিণ প্রতীক, মোছা: ফরিদা বেগম ফটবল প্রতীক এবং সালমা রহমান কবিতা দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। সালমা রহমান কবিতা বলেন, মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে সেবা দেয়ার জন্য জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। এর আগে সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণকে সেবা দিয়েছি। এ নির্বাচনে বিজয়ী হলে সবাইকে সাথে নিয়ে জেলার উন্নয়ন করতে চাই। ৩নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ১০৭ জন।
সংরক্ষিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য পদে মাহাবুবা হরিণ প্রতীক ও মোছা: সাজেদা বেগম ফুটবল প্রতীক এবং রওশন আরা বেগম দোয়াত কলম নিয়ে লড়ছেন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ১০৫ জন।
সংরক্ষিত ৫নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য প্রার্থী রয়েছেন ৪জন। এরমধ্যে জেসমিন হরিণ প্রতীক, বিউটি শাহজাহান ফুটবল প্রতীক ও মোছা: লাকী বেগম বই প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ১০৬ জন।
এছাড়া সাধারণ ১নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে রয়েছেন ২ জন। এরমধ্যে মো: বালাউদ্দিন মোল্যা তালা প্রতীক এবং মো: রায়হান ফারুকী অটোরিক্সা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ৪০জন।
২নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে রয়েছেন ৩ জন। এরমধ্যে খান শাহিন সাজ্জাদ তালা প্রতীক, শেখ হাদিউজ্জামান হাতি প্রতীক এবং সোহাগ খান টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ৪০জন।
৩নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে রয়েছেন ২ জন। এরমধ্যে কৃঞ্চ পদ ঘোষ তালা প্রতীক এবং মো: মাসুদ রানা হাতি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ৩৯ জন।
৪নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে রয়েছেন ২ জন। মো: মোফাজ্জেল হোসেন টিউবওয়েল প্রতীক এবং মো: সামিউল আলম তালা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ৩৯ জন।
৫নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে রয়েছেন ৪ জন। এরমধ্যে এস,এম শাহনেওয়াজ টিউবওয়েল প্রতীক, গোলাম সরোয়ার ভুঁইয়া বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক, মো: ইকবাল শেখ হাতি প্রতীক এবং মোল্যা মো: মাসুদুল হাসান (সাবু) তালা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ৩৯ জন।
৬নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে রয়েছেন ৫ জন। এরমধ্যে দেবাশিস কুন্ডু টিউবওয়েল প্রতীক, মো: ইমারুর গাজী অটোরিক্সা প্রতীক, মো: খায়রুজ্জামান মোল্যা ঘুড়ি প্রতীক, মো: সাইফুল ইসলাম হাতি প্রতীক এবং রাজ্জাক শেখ তালা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ৩৯ জন।
৭নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে রয়েছেন ৬ জন। এরমধ্যে অঙ্গদ কুমার বিশ্বাস টিউবওয়েল প্রতীক, তরফদার রজিবুল ইসলাম বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক, মো: টিপু সুলতান অটোরিক্সা প্রতীক, মো: মহব্বত হোসেন তালা প্রতীক, মো: শরিফুল ইসলাম হাতি প্রতীক এবং শেখর কুমার অধিকারী ঘুড়ি নিয়ে লড়ছেন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ৪০জন।
৮নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে রয়েছেন ৬ জন। এরমধ্যে মো: বালাউদ্দিন মোল্যা এমএম মাহাবুব মুর্শেদ ঘুড়ি প্রতীক, মো: এনামুল হাসান টিউবওয়েল প্রতীক, মো: বরকত হোসেন অটোরিক্স প্রতীক, মো: মনিরুজ্জামান বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক, মো: মারুফ মোল্যা তালা প্রতীক এবং সৈয়দ তারিকুল ইসলাম হাতি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ৩৯ জন।
১০নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে রয়েছেন ৫ জন। এরমধ্যে আল ইমাম সিকদার আলীম হাতি প্রতীক, খোকন কুমার সাহা তালা প্রতীক, মো: ওবায়দুর রহমান অটোরিক্সা প্রতীক, মো: মাসুদ সিকদার ঘুড়ি প্রতীক এবং মো: মাহাবুবুর রহমান টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। সদস্য প্রার্থী খোকন কুমার সাহা জানান, সদরের আউড়িয়া, ভদ্রবিলা ও বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন নিয়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ড। এই তিনটি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩৯। পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তার অবস্থান ভালো বলে জানিয়েছেন তিনি।
১১নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে রয়েছেন ৩ জন। এরমধ্যে মো: বাবুল মিয়া ক্রিকেট ব্যাট প্রতীক, মো: মুজিবুর রহমান টিউবওয়ের প্রতীক এবং শেখ মো: সুলতান মাহমুদ তালা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ২৭ জন।
১২নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে রয়েছেন ৫ জন। এরমধ্যে খন্দকার রেজোয়ান আলী বৈদ্যুতিক প্রতীক, মো: আজিজুর রহমান হাতি প্রতীক, মো: কিয়ামত মোল্যা ঘুড়ি প্রতীক, মো: রিয়াজুর ইসলাম খান টিউবওয়ের প্রতীক এবং শেখ রিয়াজ মাহমুদ তালা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ৩৯ জন।
১৩নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে রয়েছেন ৬ জন। এরমধ্যে কাজী মঞ্জুরুল হক ঘুড়ি প্রতীক, প্রবীর কুমার কুন্ডু টিউবওয়েল প্রতীক, ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক, মো: আ: জলিল তালা প্রতীক, মো: জাকারিয়া হাতি প্রতীক এবং শেখ ছদর উদ্দীন শামীম উটপাখি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ৪১ জন।
১৪নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে রয়েছেন ৪ জন। এরমধ্যে মিন্টু মোল্যা হাতি প্রতীক, মো: জামাল হোসেন তালা প্রতীক, শেখ সাজ্জাদ হোসেন অটোরিক্সা প্রতীক এবং সৈয়দ সামসুল আলম উটপাখি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ২৬ জন।
১৫নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে রয়েছেন ৪ জন। এরমধ্যে এসবিএম সাইফুর রহমান হাতি প্রতীক, কাজী বসির আহমেদ টিউবওয়েল প্রতীক, গাজী রাজীব মোহাম্মদ তালা প্রতীক এবং মুন্সি শরিফুল ইসলাম ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার আছেন ৩৯ জন।
এদিকে জয়পুর ইউনিয়নের ভোটার তাসলিমা ও পারভীন বেগম জানান, যারা দুর্দিনে পাশে থাকবে, তাদেরকে ভোট দিবেন তারা।
লক্ষীপাশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী বনি আমিন বলেন, যে প্রার্থী নড়াইলকে মডেল জেলা হিসেবে পরিণত করতে চান, তাকে আমরা ভোট দেব।
লোহাগড়া পৌরসভার কাউন্সিলর আনিসুর রহমান বলেন, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও উন্নয়ন বঞ্চিত আমরা। এক্ষেত্রে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেব।
সাধারণ মানুষ জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনে তাদের ভোট দেয়ার সুযোগ না থাকলেও সৎ, যোগ্য ও কর্মপরায়ণ প্রার্থীর বিজয় দেখতে চান তারা।
দিপালী প্রেসের স্বত্ত্বাধিকারী মিলন ঘোষ জানান, পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ডিজিটাল ব্যানার ছাপার কাজ ভালোই চলছে। অন্যান্য সময়ের চেয়ে ব্যস্ততা যেমন বেড়েছে, তেমনি আর্থিক সচ্ছলতাও এসেছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেখ আনোয়ার হোসেন জানান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিপ্লব বিশ্বাস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ১৪জন সদস্য পদে নির্বাচনসহ চেয়ারম্যান এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ২৮ ডিসেম্বর ১৫টি ভোট কেন্দ্রের মাধ্যমে সকাল ৯টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ হবে।
এখানে ভোটার সংখ্যা ৫৫৪। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪২৫ এবং নারী ভোটার ১২৯। ওয়ার্ড সংখ্যা ১৫টি।
জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং কর্মকর্তা মো: হেলাল মাহমুদ শরীফ বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে জেলা পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা করতে পারব বলে আশা করছি।