যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার ওয়াটার ড্রোন জব্দ চীনের

126

দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ওশেনোগ্রাফিক জাহাজ থেকে ছাড়া একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন তুলে নিয়ে গেছে একটি চীনা যুদ্ধজাহাজ।
এ ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়ে ড্রোনটি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
ফিলিপাইন উপকূল থেকে ৫০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে সুবিক বে-তে বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক স্মরণকালের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওশেনোগ্রাফিক জাহাজ ইউএসএনএস বোডিচ ওই মানুষবিহীন পানির তলার যানটিকে (ইউইউভি) তুলে নেওয়ার আগেই চীনারা সেটি তুলে নেয়।
ইউইউভিটি আইন মেনেই দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক জরিপ চালাচ্ছিল বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সম্পত্তি তা ইংরেজিতে পরিষ্কারভাবে লেখা ছিল বলে জানান তিনি।
‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পত্তি নিয়ে যাওয়ায়’ এই ঘটনাটিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে পেন্টাগন।
পেন্টগনের মুখপাত্র জেফ ডেভিস বলেন, “এটি আমাদের। এটি যে আমাদের তা পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত আছে এবং আমরা এটি ফেরত চাই। এ ধরনের ঘটনা ফের ঘটুক, তাও চাইনা আমরা।”
এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনে ‘উল্লেখযোগ্য লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য সিনেটর বেন কার্ডিন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ড্রোনটি থেকে বোডিচ জাহাজটি মাত্র ৫০০ মিটার দূরে ছিল, তারা চীনাদের কার্যকলাপ তাকিয়ে দেখছিল।
ঘটনার পরপরই বোডিচ থেকে চীনা যুদ্ধ জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ করে ড্রোনটি ফেরত দেওয়ার দাবি করা হয়, কিন্তু যোগাযোগে সাড়া দিলেও ড্রোন ফেরত দেওয়ার দাবি গ্রাহ্য করেনি চীনারা, জানান পেন্টাগন মুখপাত্র ডেভিস।
পরে কূটনৈতিক পর্যায়ে এ ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ড্রোনটি ফেরত দেওয়ার দাবি জানায় যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু চীনা পক্ষ ঘটনার কথা স্বীকার করলেও ড্রোন ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ চীন সাগরের পানির লবণাক্ততা, তাপমাত্রা ও স্বচ্ছতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিল ড্রোনটি, এটি গোপন কোনো মিশন ছিল না। এ ধরনের তথ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাজে লাগে বলেও জানান তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আছে চীন। ‘এক চীন নীতি’ থেকে ট্রাম্পের প্রশাসন সরে আসবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে দুদেশের এই টালমাটাল সম্পর্কের সময়ই ঘটনাটি ঘটল।