নড়াইল মুক্ত দিবস পালিত

106

নড়াইলকণ্ঠ : ১০ ডিসেম্বর আজ নড়াইল মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে নড়াইলকে হানাদার মুক্ত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে nk_december_2016_267নড়াইল মুক্ত দিবসটি পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৬টায় জাতীয় ও মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তোলণের মধ্যদিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, বধ্যভূমি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড চত্বরে গণকবরে জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামী লীগ, চিত্রা থিয়েটারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স থেকে একটি বিজয় মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একইস্থানে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মো. সিদ্দিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংদের কমান্ডার এস এম গোলাম কবীর, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট ফজলুর রহমান জিন্নাহ, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এস এ বাকি, সদর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন খানসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া চিত্রা থিয়েটারের উদ্যোগে নড়াইল মুক্ত দিবসের সেই চিত্র অভিনয়ের মাধ্যতে তুলে ধরা হয়।
এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।নড়াইল মুক্ত দিবস আজ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার যে ডাক দিয়েছিলেন। তাতে সাড়া দিয়েছিলেন নড়াইলের মুক্তিপাগল জনতা। নড়াইলের এসডিও’র বাসভবনকে স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের হাই কমান্ডের সদর দফতর করা হয়। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে তৎকালীন নড়াইলের এসডিও কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, এমএনএ খন্দকার আব্দুল হাফিজ, আওয়ামী লীগ নেতা এখলাছ উদ্দিন লোহাগড়া হাইস্কুলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও নড়াইলের সংগঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের এক বিশাল বাহিনী যশোর অভিমুখে পাঠান। ৬ এপ্রিল সকালে হানাদার বাহিনী জেট বিমান নড়াইল শহরের ওপর ব্যাপক গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করে। ১৩ এপ্রিল হানাদার বাহিনীর একটি দল নড়াইল শহরের ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায়।
নড়াইল সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ হুমায়ুন কবীর জানান, স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে নড়াইলের জামায়াত নেতা মওলানা সোলায়মানের নেতৃত্বে “শান্তি বাহিনী গঠিত হয়”। যাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় কয়েক হাজার মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করা হয়।
তিনি জানান, ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকেই নবগঙ্গা নদীর উত্তর ও পূর্বাঞ্চল হানাদার মুক্ত হয়। লোহাগড়া থানার হানাদার বাহিনীর ঘাটিকে ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশ অমান্য করায় ৭ ডিসেম্বর লোহাগড়া থানা আক্রমন করা হয়। যুদ্ধের পর ৮ ডিসেম্বর লোহাগড়া মুক্ত হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীর নড়াইলের ঘাটির দিকে অগ্রসর হন। ৮ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের দক্ষিনে মাছিমদিয়া গ্রামে পুলিশ-রাজাকারদের উপর হামলা চালায়। যুদ্ধে তরুন মুক্তিযোদ্ধা জয়পুরের মিজানুর রহমান শহীদ হন। নড়াইল মুক্ত দিবস আজমিজানুর রহমানের মৃতদেহ দিয়ে হানাদার বাহিনীর দোসররা শহর প্রদক্ষিণ করে। ৯ ডিসেম্বর রাতে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের দক্ষিণ পাশে মুক্তিযোদ্ধা সঙ্গে হানাদারের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা বাগডাঙ্গা গ্রামের মতিয়ার রহমান শহীদ হন। পরে মুক্তিযোদ্ধারা শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাংলোতে অবস্থানরত পাক মিলিটারি ও তাদের সহযোগিদের আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেয়। নিদের্শ না মানায় মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর হামলায় চালান। এখানে কয়েকজন পাক মিলিটারি নিহত হয় এবং অন্যদের আটক করা হয়। রাতে প্রবল শীতকে উপেক্ষা করে মুক্তিযোদ্ধারা শহরে বিজয় উল্লাস করেন। “জয় বাংলা” শ্লোগানে প্রকম্পিত হয় নড়াইল শহর। ১০ ডিসেম্বর সকাল ১১ টায় নড়াইলকে মুক্ত ঘোষণা করা হয়।
স্বাধীনতা যুদ্ধে নড়াইলের ৫ জন বীরযোদ্ধা খেতাব প্রাপ্ত হন। তারা হলেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ, বীর উত্তম মুজিবুর রহমান, বীর বিক্রম আফজাল হোসেন, বীর প্রতীক খোরশেদ আলম ও বীর প্রতীক মতিয়ার রহমান।