নড়াইল ও কালিয়া পৌরসভা নির্বাচন- হালচাল

222

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ঘোষণা হওয়ায় ভোটারদের নয় বরং দলের হাইকমান্ডের মন জয়ে মাঠে নেমেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দুই পৌরসভায় ২৭জন সম্ভাব্য প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছেন। এছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও জাপা প্রার্থী হতে পারে আরো ৬জন।

তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কয়েক প্রার্থী দলীয়ভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা দলীয় মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। নড়াইল পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি প্রার্থীর সংখ্যা ১জন। কালিয়া পৌরসভায় বিএনপির কোনো প্রার্থী মাঠে নেই।

নড়াইলে তিনটি পৌরসভায়র মধ্যে আসন্ন পৌর নির্বাচনে নড়াইল ও কালিয়া পৌরসভায়  নির্বাচন হবে। ইতিমধ্যে মেয়র পদে প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির একাধিক নেতা। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে যে যার মতো লবিং করে যাচ্ছেন। তবে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মাঠে নামার প্রবণতা এখনও দেখা যাচ্ছে না।

গত রোজার ও কোরবানির ঈদ ও সদ্যসমাপ্ত পূজাকে কেন্দ্র করে তফসিল ঘোষণার আগেই জনসমর্থন বাড়াতে দলের পদপ্রত্যাশী নেতারা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। তারা ফেসবুক ও ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছেন।

নড়াইল : প্রথম শ্রেণির নড়াইল পৌরসভায় সম্ভাব্য ১৪জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ১জন বিএনপি, ১জন জাপা এবং বাকি ৯জন আওয়ামী লীগের। এখানে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা হলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরখাস্তকৃত মেয়র জুলফিকার আলী মন্ডল, জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল পৌরসভার চার চার বার নির্বাচিত সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো: হাসানুজ্জামান, নড়াইল আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি ও নড়াইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর সিদ্দিকী, জাতীয় পার্টি (মজ্ঞু) নেতা সাংবাদিক সাথী তালুকদার, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেতা শিক্ষক আঞ্জুমান আরা, আওয়ামী লীগ নেতা কাজী ইসমাইল হোসেন লিটন, নড়াইল পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল মুনসুর বিল্লাহ, নড়াইল পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি সরদার আলমগীর হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম।

নড়াইল আওয়ামী লীগের অন্যতম ঘাঁটি বলে বিবেচিত হলেও এখানে দলটি দলীয় কোন্দলে জর্জরিত। সর্বশেষ ২০১১ সালে নড়াইল ও লোহাগড়া পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় বিএনপি এখানে বিজয় অর্জন করে। নড়াইল জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী মন্ডল নড়াইল পৌরসভায় ৮ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো নড়াইল পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস (৬ হাজার ৮৫২ভোট) এবং সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাব হোসেন পান ৪ হাজার ৫৩৯ ভোট। এ বছরের ১০ জানুয়ারী নড়াইলে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের মামলায় নড়াইল পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী মন্ডল গ্রেফতার হন। কয়েকটি নাশকতার মামলা ও হাজতে থাকার কারনে তিনি পৌর মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত হন।

নড়াইল পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী মন্ডল মেয়র হিসাবে সফল উল্লেখ করে বলেন, ৪ বছরে পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধাসহ বিভিন্ন সমস্যায় পাশে থেকেছি এবং উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। মেয়াদ পূর্ণ করতে পারলে অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে পারতাম। আশা করি এবার সে সুযোগ পেলে জনগনের আশা পূরণ করব। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস, শিক্ষক আঞ্জুমান আরা ও সরদার আলমগীর হোসেন পুরোদমে কাজ শুরু করেছেন। এরা সবাই বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদি।

কালিয়া : নড়াইলের কালিয়া পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হয়েছে। দলীয়ভাবে নির্বাচনের ঘোষণা আসায় এবার প্রার্থিরা ভোটারদের কাছে যেমন শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য যাচ্ছে তেমনি টিকিট পাবার আশায় দলের সিনিয়র নেতাদের কাছেও এখন থেকেই ধরণা দিচ্ছেন। কালিয়ায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর সংখা ১৩জন। লোহাগড়া কালিয়া পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ৮জন। এদের সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থিত। এরা হলেন নড়াইল-১ আসনের এমপি কবিরুল হক মুক্তির চাচাতো ভাই বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা এমদাদুল হক টুলু ও সাবেক পৌর মেয়র একরামুল হক টুকু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ পদ ঘোষ, বর্তমান মেয়রের বোনের মেয়ে পৌর কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেত্রী সোহেলী ইসলাম নিরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান ওহিদ, আওয়াম লীগ নেতা ফকির মুশফিকুর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতা লায়েক হোসেন। এসব প্রাথীদের কেউ ঘরে বসে নেই। সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার চেস্টা করছেন। এলাকার নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন মানুষের কাছে। কখনও কখনও এলাকার মানুষের সাহায্য সহযোগিতায় হাত বাড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। কালিয়া থানা বিএনপির কয়েক নেতা জানিয়েছেন, এখানে বিএনপির কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। এ ব্যাপারে কেউ খোজঁ খবরও রাখছেন না।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস জানান, নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে সে ব্যাপারে কেন্দ্রীয়ভাবে এখনও কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। শুনেছি পৌরসভায় একাধিক মেয়র প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী একক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। সেক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় কমিটি  সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ব্যবসায়িক কাজে এবং সাধারণ সম্পাদক কাদের সিকদার চোখে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয় নি।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম জানান, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি অংশ নেবে, তবে এই মূহুর্তে প্রার্থীর নাম বলতে পারছি না।

জেলা জাসদ এর সাধারণ সৈয়দ আরিফুল ইসলাম পান্থ জানান, জাসদ পৌর নির্বাচনে অংশ নেবে।তবে দু’একের মধ্যে প্রার্থী নাম বলা যাবে।

জাতীয় পার্টি (এরশাদ) জেলা সাধারণ সম্পাদক জানান, পৌর নির্বাচনে দুইটি পৌরসভায় অংশগ্রহণে দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে।২/১দিনের মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা দেয়া হবে।