চিরসবুজ থাকতে যা করণীয়

157

কে না চায় তাকে সবাই সুন্দর বলুক কিংবা নিজেকে সুন্দর দেখাক? এই সৌন্দর্য যাতে দীর্ঘদিন ধরে রাখা যায় এবং চিরসবুজ থাকা যায় সে জন্যে চলুন জেনে নিই তার কিছু সহজ উপায়- প্রকৃতির নিয়মই হল পরিবর্তন এবং বিকাশ। প্রতিদিনই আমাদের বয়স একটু একটু করে বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বয়স পচিঁশের পর থেকে ত্বকে প্রভাব পড়তে শুরু করে৷ তবে এটি কোনো দুঃসংবাদ নয়৷ ত্বক, শরীর, মন অর্থাৎ আমরা পুরো মানুষটিই ধীরে ধীরে বদলাই।
সুন্দর দেখাতে বা সুন্দর ত্বক পেতে শুধু অ্যান্টি-এজিং ক্রিমের ব্যবহারই যথেষ্ট নয়। তারুণ্য দীর্ঘদিন ধরে রাখতে অনেক কিছুর প্রয়োজন পড়ে। স্বাস্থ্যকর খাবার, ব্যায়াম, সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রা, পজিটিভ চিন্তা, প্রফুল্ল মন এই সবের পাশাপাশি রূপচর্চা তো করবেনই।
ভিটেন-হ্যার্ডেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্বক বিশেষজ্ঞ উলরিকে হাইনরিশের মতে বয়স বাড়া মানেই পরিত্যাগ করা নয়। বয়সের সাথে পরিবর্তন ব্যাপারটি স্বাভাবিক, তবে এতে সৌন্দর্যহানি ঘটবে এমন নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক পাতলা ও শুস্ক হয়ে পড়ে। তাই ভিটামিন এ, সি এবং ই আছে এমন প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে।
চর্ম বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল, যতটা সম্ভব নিজেকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে দূরে রাখতে হবে৷ এতে ত্বক সহজে বুড়িয়ে যায় এবং ত্বকের ক্যানসারও হতে পারে৷ তাছাড়া পরিবেশ দূষণও আজকাল ত্বকে বিশেষ প্রভাব ফেলে৷ তাই দূষণ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন। বাহিরে গেলে ফিরে এসে ভালো করে হাত-মুখ ধোয়া বা গোসল করা উচিত।
বর্তমানে সৌন্দর্য চর্চায় রস, শেকড়, গাছগাছালির পাতা ইত্যাদির ট্রেন্ড ফিরে এসেছে অর্থাৎ ভেষজ তৈরি ক্রিম, পাউডার, তেলসহ নানা কিছু। সৌন্দর্য পিপাসুরা আজকাল সেদিকেই ঝুঁকছেন৷
আমাদের শরীরে ভিটামিন, প্রোটিন, শর্করা, মিনারেল এসব উপাদান প্রয়োজন। সুস্থ এবং সুন্দর থাকার অন্যতম শর্ত হল সঠিক খাওয়া-দাওয়া। সব কিছুই খাওয়া উচিত, তবে পরিমাণমত৷ খাদ্যতালিকায় প্রচুর শাক-সবজি, ফল-মূল রাখা প্রয়োজন৷ মুখ আয়নার মত, শরীরের ভেতরটা ভালো থাকলে এর প্রভাব চেহারাতে পরবেই৷
সৌন্দর্য ধরে রাখতে গ্রিন-টির জুড়ি নেই৷ নিয়মিত গ্রিন-টি পান করলে দেহে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে৷ এতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে৷ একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন গ্রিন-টি পান করেন তাঁদের ত্বক অনেক টানটান।
তারুণ্যের চাবিকাঠিই হল সুন্দর মুখ ও টানটান ত্বক। শুধু ত্বক নয় শরীরটাও হতে হবে টানটান আর এর জন্য নিয়মিত কিছুক্ষণ শরীরচর্চা করা চাই।
বয়স যতই হোক না কেন নিজেকে তরুণ ভাবা এবং সব বিষয়ে আপডেট থাকা একটা বড় ব্যাপার। আরও প্রয়োজন পজিটিভ চিন্তা করা। অপ্রয়োজনীয় স্ট্রেস এড়িয়ে যথেষ্ট ঘুমান, ভালো বই পড়ুন, গান শুনুন এবং দিনে একবার অন্তত প্রাণ খুলে হাসুন৷
শারীরিক এবং মানসিকভাবে ফিট থাকতে বছরে একবার ‘মেডিকেল চেকআপ’ করিয়ে নেওয়া জরুরি।