বাঁশের বেড়ার ঘরে আলু সংরক্ষণ করার উদ্যোগ

259

 

টিনের চালা আর বাঁশের বেড়ার ঘরে আলু সংরক্ষণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কৃষি বিপণন অধিদফতর। প্রাথমিক পর্যায়ে নীলফামারী জেলার তিন উপজেলায় উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু করেছে বিভাগটি।

ইতোমধ্যে ঘর স্থাপন করে সুবিধাভোগী কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করেছে জেলা মার্কেটিং অফিস।

আলু সংরক্ষণে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়নের ছিট মটকপুর, কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের মুশরত পানিয়াল পুকুর এবং নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নে টিনের চালা, বাঁশের বেড়া মাচাং ঘর তৈরি করা হয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদফতর নীলফামারী কার্যালয় সূত্র জানায়, ছায়াযুক্ত স্থানে আড়াই শতাংশ জমির উপর ৩০-৩৫ টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন অহিমায়িত ঘর তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় ৬০ জন কৃষক ওই ঘরে আলু সংরক্ষণ করতে পারবেন। আসছে বছরের ফেব্রুয়ারি মার্চ মাস থেকে কৃষকরা অন্তত মাস আলু রাখতে পারবেন।

এছাড়াও আলু উৎপাদনে আধুনিক কলা কৌশল শেখানো এবং ঘরে আলু সংরক্ষণের ব্যাপারে নির্বাচিত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে।

হিমাগার ছাড়াই কম খরচে দেশীয় পদ্ধতিতে মাচাং ঘরে আলু সংরক্ষণ সফলতার মুখ দেখবে বলে আশা করছেন দফতরটির কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা বলছেন, আলুর ভালো মূল্য পাওয়া, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, অপচয় রোধ সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

মার্কেটিং অফিসের জেলা বাজার অনুসন্ধানকারী টি এম এরশাদ আলম খান জানান, ‘বসত বাড়িতে আলু সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ বিপণন কার্যক্রমশীর্ষক প্রকল্পের আওতায়অহিমায়িত মডেল ঘরে আলু রাখুন, অধিক মুনাফা নিশ্চিত করুণশুরু করা হয় দেশের ১১টি জেলার ৪০টি উপজেলায়। যার মধ্যে নীলফামারী জেলার ৩টি উপজেলা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গ্রামীণ পরিবেশে উঁচু খোলা এবং বসতবাড়ির ছায়াযুক্ত স্থানে স্থাপিত অহিমায়িত ঘরে কৃষকদের আলু সংরক্ষণ করা হবে। ঘর নির্মাণে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহীদের জমিতেই স্থাপন করা হয়েছে। জমিদাতাকে কৃষক বিপণন দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে।

এদিকে কর্মসূচির আওতায় সম্প্রতি নীলফামারী শহরের শহীদ মিনার চত্তরে আলুর রেসিপি প্রদর্শন করা হয়। আলুর চমচম, খুরমা, বুন্দিয়া, ফ্রাই, বরা, ডিমচপ, চিপস, আটা, সিঙ্গারা প্রভৃতি উপস্থাপন করা হয় জেলা বিপণন অধিদফতর জেলা মার্কেটিং অফিসের উদ্যোগে।