রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মুখ খুললেন – সু চি।

137

অবশেষে অশান্তি নিয়ে মুখ খুললেন শান্তিতে নোবেল জয়ী মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা প্রধান সু চি। বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার প্রেক্ষাপটে দাবি করলেন, রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে তাঁর সরকার। পরিস্থিতি না কি শান্ত হয়ে আসছে।

তার দাবি, রাখাইনে শুধু মুসলমানরাই উদ্বেগ আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে না। সেখানকার রাখাইন জাতিগোষ্ঠীও উদ্বেগউৎকণ্ঠায় আছে।

সেনাবাহিনী যখন রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যেই সু চি এমন দাবি করলেন।

বর্তমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে  প্রথম মুখ খুললেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা প্রধান সু চি। সমস্যাটা নিয়ন্ত্রণের অনুপযোগী কি না জানতে চাইলে সু চি বলেন, ‘না। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি।তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি সারাক্ষণ নেতিবাচক কথা না বলে শান্তি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দুসম্প্রদায়ের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়তে সহযোগিতা করে, তাহলে সেটিকে তিনি অভিনন্দন জানাবেন। তিনি বলেন, রাখাইনে দুসম্প্রদায়ের (রোহিঙ্গা মুসলিম বৌদ্ধ) মধ্যে সম্পর্ক আরো ভালো করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের সমস্যাটি ঠিকমতো উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা খুব সংবেদনশীল বিষয়। শুধু যে মুসলিমরাই উদ্বিগ্ন চিন্তিত, তা নয়। রাখাইন সম্প্রদায়ও একই রকম চিন্তিত, রাজ্যের জনসংখ্যায় তাদের উপস্থিতি শতাংশের হিসাবে ক্রমশ কমে আসছে। আর দুসম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক ভালো নেই সত্য আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। আমরা  সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে চাই। কিন্তু সবাই যদি পরিস্থিতির নেতিবাচক দিকটির প্রতি মনোযোগ দিতে থাকে, সেটা কাজে দেবে না। পুলিশ চৌকিতে  অক্টোবর হামলা হয়েছিলএটাও তো সত্যি।

সমস্যার জন্য তো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দায়ী নয়, প্রশ্ন ছিলো সু চির কাছে  উত্তরে বলেন, ‘আমি তা জানি। আমি বলছি না যে কোনো জটিলতা নেই, তবে জটিলতাকে লোকজন যদি স্বীকৃতি দেয়, তাহলে সহায়ক হয়। আর এসব জটিলতা অতিরঞ্জিত না করে সেগুলো নিরসনে মনোযোগ দিচ্ছি আমরা।

অক্টোবরে মিয়ানমারের সেনাচৌকিতে হামলায় জন নিহত হন। এরপর দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা রাজ্যে অভিযান শুরু করে। এতে তাদের গুলিতে ৬৯ রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়। এর পর থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

ছাড়া বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্যাতন, লুট, গণধর্ষণ এবং তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠলে মিয়ানমার সেনাবাহিনী তা অস্বীকার করেছে।