লোহাগড়ার মামুন হত্যার আসামীদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর

0
256

নড়াইলকণ্ঠ ॥ নড়াইলের লোহাগড়ায় মামুন মোল্যা খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামী পক্ষের ১২টি পরিবারের অন্তত ৩০টি ঘর, মুল্যবান জিনিসপত্র ভাংচুর, নগদ অর্থ ও স্বর্ণ অলংকার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার গভীর রাতে উপজেলার সত্রহাজারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার গভীর রাতে মামুন মোল্যা হত্যা মামলার আসামী পার্শ্ববর্তী সত্রহাজারী গ্রামের ইউপি সদস্য কাজী আক্তার হোসেন, বারিক কাজী, এখলাস কাজী, সাদেক কাজী, আজিজ কাজী, গ্রাম পুলিশ মুক্ত কাজী, হাসান কাজী, হেদায়েত কাজী, জাকির কাজী, শওকত কাজী, বিল্লাহ কাজী ইকবাল কাজী বাড়িতে রাম দা, স্যান দা, রড লাঠিসোটা দিয়ে হামলা চালায় নিহত মামুনের গ্রামের দুই শতাধিক লোকজন। এসময় ৩০টি বাড়ি-ঘর ও ঘরের মধ্যে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ভাংচুর চালায় তারা। খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি-ঘর ভাংচুরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের হয়নি।
অপরদিকে মামুন হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলেও জানান ওসি।
উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় দেবী গ্রামের ইকবল (ইকবার) মোল্যার ছেলে মামুন মোল্যা (১৯) নিখোঁজ হন। নিখোঁজের তিনদিন পর গত ১৭ নভেম্বর সকালে মামুনদের বাড়ি থেকে ৩শ গজ দূরে একটি ধানক্ষেত থেকে ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে নিহত মামুনের মা সেলিনা বেগম সাংবাদিকদের জানান, দেবী সরকারী প্রাইমারী স্কুল মাঠের পাশে দোকানদার আশরাফ খোন্দকার আমাকে বলেছে গত ১৪ নভেম্বর বিকালে তোমার ছেলেকে সত্রহাজারীর মোমিনের ছেলে হেদায়েত কাজী ও সাদেকের ছেলে জিয়ার কাজী ডেকে নিয়ে গেছে দেখেছি। তারপর থেকে বহু খোজাখুজির গত ১৭ নভেম্বর আমার ছেলের ক্ষতবিক্ষত মরা লাশ ধান খেতে পাওয়া গেছে। তিনি আরো জানান, সত্রহাজারী গ্রামের ইকবাল কাজীর মেয়ে স্বর্ণার সাথে আমার ছেলের সাথে নাকি সম্পর্ক ছিল। স্বর্ণা লোহাগড়া সরকারী আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের আইএ পড়ে শুনেছি। এ বিষয় আমরা গত ২/৩ মাস হলো জেনেছি। এর মাঝে আমার বড় ছেলে বিদেশে থেকে এসে এসব খবর জেনে মামুনকে মালায়শিয়া নিয়ে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করতে দেয়। মামুনের পাসপোর্ট গত ১৫ নভেম্বর ডেলিবারির পাওয়ার দিন ছিল। কিন্তু আমার ছেলে ১৪ তারিখ থেকে আর খুজে পাই না। আমি দেশের মানুষের কাছে , রাস্ট্র প্রধানের কাছে আমার ছেলের হত্যার বিচার দাবি করি।
এদিকে নিহতের বড়ভাই মঞ্জুর মোল্যা (২৮) জানান, প্রেম ঘটিত সম্পর্কে আমি আমার ছোট ভাইয়ের নিকট সরাসরি জানতে চাইলে সে আমাকে জানায় আমি এখন বিয়ে করবো না, বিদেশে যাচ্ছি, সেখানে ৪/৫ বছর খেটে আসি, পরে দেশে ফিরে বিয়ে করবো। সে আরো জানান, স্বর্ণার বাবা মামুনকে একদিন হুমকিও দেয়।
শনিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দেবী গ্রামের মামুন মোল্যা (২০) হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, শোকর‌্যালি ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।
উল্লেখ্য, দেবী গ্রামের ইকবল (ইকবার) মোল্যার ছেলে মামুন মোল্যা (১৯) গত ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন। নিখোঁজের তিনদিন পর গত ১৭ নভেম্বর সকালে মামুনদের বাড়ি থেকে ৩শ গজ দূরে একটি ধানক্ষেত থেকে ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মামুনের মাথায়, ঘাড়ে কোপের চিহ্ন, দুই পায়ের রগ কাটা এবং কোমর থেকে নিচের অংশের মাংস কেটে ফেলা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here