নড়াইল জেলা পরিষদে সৈয়দ আইয়ুব আলী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নে পাওয়ায় জেলাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

205

নড়াইলকণ্ঠ ॥ ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতা হলে ও দলের নির্বাচনে নতুন মুখ হিসেবে জেলা পরিষদে মনোনয়ন পেয়েছেন লোহাগড়া উপজেলার সৈয়দ আয়ুব আলী।
কেন্দ্রীয় ভাবে এই মনোনয়ন ঘোষনার পরপরই পুরো জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা আর সমালোচনার ঝড়। বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক এড.সুবাস চন্দ্র বোস মনোনয়ন না পাওয়ায় একপক্ষ যেমন চুপসে গেছেন অপর পক্ষে চলছে আনন্দের বন্যা। এদিকে লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা এড.আয়ুব হোসেন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় দলের সর্বস্তরের নেতারা অত্যন্ত খুশী বলে জানা গেছে। লোহাগড়া পৌর আওয়ামীলীগ অফিসে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নানা সময়ে নেতা-কর্মীরা মিষ্টি খাওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন।
সাবেক ছাত্রনেতা ও শাহাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন পান্না বলেন, আওয়ামী লীগের অনেক দুর্নীতিবাজ নেতাদের চেয়ে সৈয়দ আয়ুব আলীকে জেলা পরিষদে মনোনয়ন দেয়া সঠিক হয়েছে। আমরা এতে খুশী।
লোহাগড়া পৌর আওয়ামীলীগ নেতা সাংবাদিক রূপক মূখার্জী বলেন,উপজেলা পর্যায় থেকে আগেও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন,তাছাড়া দলের অনেক বিপদাপন্ন অবস্থায় আয়ুব হোসেন দলের হাল ধরেছেন। এই মনোনয়ন তার সেই ত্যাগের মূল্যায়ন।
লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফয়জুর আমির লিটু বলেন, আওয়ামী লীগ নেত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা সঠিক ও কার্যকরী। এড. সৈয়দ আয়ুব আলী দলের একজন ত্যাগী নেতা, জেলা পরিষদে তারই মনোনয়ন পাওয়া উচিত। এছাড়া বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা সভাপতি গত ইউপি নির্বাচনে যেভাবে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন তাকে মনোনয়ন দিলে তৃনমূলে অসন্তোষ আরো বাড়তো।
নড়াইল সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শরীফ হুমায়ুন কবীর জানান, দলের জেলার নেতারা দল ভাংতে ব্যস্ত রয়েছেন । এর চেয়ে নতুন একজন জেলা পরিষদ চেয়ারমান হলে দল এবং জেলার উন্নয়নে ভালো ভুমিকা রাখতে পারবে। দলের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময় উপেযোগী হয়েছে।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নিজামউদ্দিন খান নিলু মনোনয়ন প্রসঙ্গে বলেন, আমার পক্ষে জেলার অধিকাংশ চেয়ারম্যান মেম্বররা ছিলেন। আমিই ছিলাম মুল দাবীদার। তারপরও দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমি তাকে সমর্থন করি। দলের সিদ্ধান্ত হলো যারা বড় পদে আছে তারা আগামী নির্বাচনে মাঠ তৈরী করবে। আমরা বর্তমান জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচন করে আগামীতে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভাবছি।
নড়াইল-০১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কবীরুল হক মুক্তি মনোনয়ন প্রসঙ্গে বলেন, এটা নড়াইলের রাজনৈতিক দূবৃত্তায়নের ফসল। নিশ্চয়ই আমাদের দলে নেতৃত্বের সংকট তৈরী হয়েছে। অথবা আমাদের জেলায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরীক্ষা চলছে।
এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাবেন বলে নিশ্চিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস চন্দ্র বোস। শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি নিশ্চিত থাকলে ও পরে তা পাল্টে যায়। এ ঘটনায় হতাশ হয়ে শনিবার সকালেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। এ ব্য্যাপারে তার সাথে যোগাযোগ করলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।