চেয়ারম্যান পদে আইয়ুব আলী মনোনয়ন পাওয়ায় হতাশ নড়াইল

709

নড়াইলকণ্ঠ ॥ সকল জল্পনা কল্পনা শেষে নড়াইল জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আইয়ুব আলী। সৈয়দ আইয়ুব আলীকে নড়াইল জেলার প্রায় শতভাগ মানুষ চেনেন না। নড়াইলের কোন রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামেও আইয়ুব আলীকে মাঠে ময়দানে দেখা যায়নি। সে মনোনয়ন পাওয়ায় সাধারণ নাগরিক ক্ষুবদ্ধ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং বলেছে অতিথি পাখি দিয়ে সব সময়ই নড়াইলের রাজনীতি পরিচালিত করার চেস্টা হয়। এতে করে রাজনীতির মুলস্রোতধারা থেকে শান্তিপ্রিয় জনগণ সরে পড়তে বাধ্য হয়, ভাল মানুষগুলো হারিয়ে অন্যজগত সৃষ্টি হয়। তাতে করে অব্যহতভাবে নড়াইলের উন্নয়ন মুখথুবড়ে পড়ে।

এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন যারা তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন :-
অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস। তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকালে স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছেন। জেলার বিভিন্ন হাটবাজার, রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করায় সাধারণ মানুষের মাঝে ও দলীয় হাইকমান্ডের কাছে ক্লিন ইমেজ রয়েছে।

নিজাম উদ্দিন খান নিলু। তিনি উদীয়মান এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীততে জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মধ্যদিয়ে দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি মনে করেন, বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথের সৈনিক হিসেবে কাজ করেছেন।

অ্যাডভোকেট সাইফ হাফিজুর রহমান খোকন জাতীয় পার্টির আমলে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে নড়াইল জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। দলের বিভিন্ন কর্মকান্ডে এবং জেলার উন্নয়ন সংগ্রাম ও নাগরিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

আলহাজ্ব সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। নড়াইল জেলার সকল আন্দোলন সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ভুমিকা নেন। এলাকার উন্নয়নে যথেষ্ট ভুমিকা রেখেছেন।

অ্যাডভোকেট মো: সোহরাব হোসেন বিশ্বাস বর্তমান জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, নড়াইল পৌরসভার ৪বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। আন্দোলন সংগ্রামে সব সময়ই তিনি রাজপথে থেকেছেন।

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জিন্নাহ । তিনি বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জিন্নাহ আওয়ামী লীগের বিগত কমিটি ও বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি সব সময় আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে লড়াই করেছেন। দলের নেতাকর্মীদের কাছেও যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

অধ্যক্ষ এস,এম আবু সাঈদ। ১৯৭১ সালে নড়াইল- কালিয়া-নড়াগাতী অঞ্চলের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও প্রধান উপদেষ্টা।১৯৮৫ সালে বিনা প্রতিদন্দিতায় কালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৬-১৯৮৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বচনে পর পর দুই বার নড়াইল-১ আসনের মাননীয় সাংসদ নির্বাচিত হন। এছাড়া প্রথম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকাকালীন জেলা পরিষদ ভবন গঠনসহ জর্জকোর্ট, পু্লশি সুপারের কার্যালয় ও ডাকবাংলো ভবন ইত্যাদি নির্মান হয়।কলাবাড়ীয়া ব্রীজ, গোবরাব্রীজ,স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির সহ অনেক উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড এই মহীয়সী ব্যাক্তির কল্যানে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠক হিসাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজীতে অনার্স মাস্টার্স পড়াকালীন সৈয়দ আমীর আলী হল শাখার ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হিসাবে দায়ীত্ব পালন করেন। শহীদ আব্দুস সালাম ডিগ্রী কলেজে অধ্যক্ষ হিসাবে চাকরী জীবন শুরু করেন।নড়াইল জেলার আওয়ামীলীগের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে নড়াইল জেলা কৃষকলীগের সভাপতি হন। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ খুলনা বিভাগীয় শাখার আহবায়ক।

অ্যাডভোকেট সিদ্দিক আহম্মেদ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি বিগত সময় বিএনপি-জামায়াত বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে অন্যান্য আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সব সময়েই রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। বিভিন্ন সময়ে হামলার শিকার হয়েছেন। দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে পরিচিত এবং স্পষ্টবাদী।

অ্যাডভোকেট মোঃ গোলাম নবী নড়াইল সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ আলী সাবেক জেলা আওয়মী লীগের সাধারণ সম্পাদক ।

এদিকে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় পার্টি (এরশাদ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (ইনু), জাসদ(আম্বিয়া), বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি ( সিপিবি)সহ অন্যান্য কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে জানাগেছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেননি।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার শাখা সূত্রে জানাগেছে, জেলা পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে সম্প্রতি সীমানা নির্ধারণের কাজ চুড়ান্ত করা হয়েছে। জেলার ৩টি পৌরসভা, ৩টি উপজেলা ও ৩৯টি ইউনিয়নকে ১৫টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে কালিয় উপজেলার পহরডাঙ্গা, বাঐসোনা ও কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন নিয়ে ১নং ওয়ার্ড, জয়নগর, খাশিয়াল ও মাউলি ইউনিয়ন নিয়ে ২নং ওয়ার্ড, কালিয়া পৌরসভা, সালামাবাদ, ও বড়নাল-ইলিয়াসাবাদ ইউনিয়ন নিয়ে ৩নং ওয়ার্ড, হামিদপুর, পেড়লী ও পাঁচগ্রাম ইউনিয়ন নিয়ে ৪নং ওয়ার্ড, পুরুলিয়া, চাঁচুড়ি ও বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন নিয়ে ৫নং ওয়ার্ড, নড়াইল সদর উপজেলার সিংগাশোলপুর, বিছালী ও কলোড়া ইউনিয়ন নিয়ে ৬নং ওয়ার্ড, তুলারামপুর, মুলিয়া ও শেখহাটি ইউনিয়ন নিয়ে ৭নং ওয়ার্ড, মাইজপাড়া, হবখালী ও চন্ডিবরপুর ইউনিয়ন নিয়ে ৮নং ওয়ার্ড, নড়াইল পৌরসভা ও শাহাবাদ ইউনিয়ন নিয়ে ৯নং ওয়ার্ড, বাঁশগ্রাম, ভদ্রবিলা ও আউড়িয়া ইউনিয়ন নিয়ে ১০নং ওয়ার্ড, লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ও নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন নিয়ে ১১ নং ওয়ার্ড, নলদী, শালনগর ও লাহুড়িয়া ইউনিয়ন নিয়ে ১২নং ওয়ার্ড, লোহাগড়া পৌরসভা, লক্ষ্মীপাশা ও জয়পুর ইউনিয়ন নিয়ে ১৩নং ওয়ার্ড, লোহাগড়া ও মল্লিকপুর ইউনিয়ন নিয়ে ১৪নং ওয়ার্ড এবং দিঘলিয়া, কোটাকোল ও ইতনা ইউনিয়ন নিয়ে ১৫ নং ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে।
১৫টি ওয়ার্ডের থেকে পর্যায়ক্রমে ৩টি করে ওয়ার্ড নিয়ে সংরক্ষিত ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য নির্বাচনে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫৫৭ জন। এর মধ্যে ৩টি পৌরসভায় ৩৯, ৩টি উপজেলা পরিষদের ৯ এবং ৩৯টি ইউনিয়নের ৫০৭ এবং দুই জাতীয় সংসদ সদস্য।