সব ব্যাকরণ মেনেই সাকা–মুজাহিদের বিচার হয়েছে

146

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘যারা সাকা-মুজাহিদের ফাঁসি নিয়ে কথা বলছেন, তাদের জানাতে চাই, সব ব্যাকরণ মেনেই এ বিচার সম্পন্ন হয়েছে।’
রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে দেশের বিরুদ্ধে দালালি করার অপরাধে গত শনিবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে দুজন দানবের ন্যাক্কারজনক মৃত্যু হয়েছে। আরো দানব আছে, তাদের হাত থেকেও দেশকে রক্ষা করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যখন ১৯৭১ সালে গণহত্যা চালানো হয়েছিল তখন কোনো ব্যাকরণ মানা হয়নি। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় কোনো ব্যাকরণ মানা হয়নি। ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার সময়ও কোনো ব্যাকরণ মানা হয়নি। কিন্তু সবধরনের ব্যাকরণ মেনেই যুদ্ধাপরাধী সাকা-মুজাহিদের বিচারের রায় দেয়া হয়েছে।’

জাতিসংঘ আমাদের দেশ উপহার দেয়নি উল্লেখ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বাঙালির হৃদয় যখন বলছে যুদ্ধ করবে তখন তারা যুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতা উপহার দিয়েছে।’
বিদেশিদের সমালোচনা করে ইনু বলেন, ‘আজকে যারা বাংলাদেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলছেন তাদের কাছে প্রশ্ন যখন পাকিস্তানীরা এদেশে গণহত্যা চালিয়েছিল তখন কী নিরাপত্তা ছিল? যখন শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল তখন কি দেশে নিরাপত্তা ছিল?’

তিনি আরো বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা হোঁচট খেলেই শিল্পীরা গেয়ে ওঠে ‘কারার ওই লৌহ কপাট, ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট।’ তখন রাজনীতিবিদরা আবার জেগে ওঠে যুদ্ধের ময়দানে চলে যান।
সংগঠনের সভাপতি ফকির আলমগীরের সভাপতিত্বে এসময় আরো বক্তব্য দেন-বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিকজোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস প্রমুখ।

এসময় ঋষিজশিল্পী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তিনজন গুণি ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। তাদের মধ্যে- শিক্ষা ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান, সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য সৈয়দ হাসান ইমাম এবং সঙ্গীতে অবদানের জন্য অধ্যাপিকা ফাহমিদা খাতুনকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পর্বে ঋষিজের পরিবেশনায় গণসঙ্গীত পরিবেশিত হয়।