আগ্রাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যে স্কুলের শিক্ষার্থী মাত্র ২৪জন

162

নড়াইল কণ্ঠ ॥ মাত্র ২৪জন শিক্ষার্থী নিয়ে বছরের বছর পরিচালিত হয়ে আসছে নড়াইল সদর উপজেলার ৭২নং আগ্রাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষকের মধ্যে এসএম মঞ্জুরুল হক নামের nk_november_2016_054একজন শিক্ষক সাময়িকভাবে বরখাস্ত রয়েছেন। ২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রাক্ প্রাথমিকে আছে ১২জন, প্রথম শ্রেণিতে ৮জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪জন। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ২০০৯ সাল হতে কোন ছাত্র-ছাত্রীই নেই। ২০০৮ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে দুইজন এবং চতুর্থ শ্রেণিতে একজন ছাত্র ছিল। ২০০৯ সাল হতে এ পর্যন্ত পিএসসিতে অংশ নেয়নি কোন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৩২ সালে। আগ্রাহাটি গ্রামে বর্তমান বসবাস করে মাত্র ২৯টি পরিবার। গ্রামটিতে ভোটার রয়েছে ১১০জন ।
সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট নয়জন। তার মধ্যে শিশু শ্রেণির nk_november_2016_056ছিল তিনজন, প্রথম শ্রেণির তিনজন ও দ্বিতীয় শ্রেণির তিনজন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতির এ করুন দশা সম্পর্কে শিক্ষক শরীফ মোজাফ্ফর জানান, সত্তর দশকের গোড়ার দিকে এ গ্রামে তিনশত পরিবারের উর্ধ্বে হিন্দু পবিরার বসবাস করতো। তার ধারণা প্রায় দেড় থেকে দু’হাজার মানুষ বসবাস করতো এ গ্রামে। তারা পর্যায়ক্রমে ভারতে চলে যাওয়ার কারণে স্কুলের শিক্ষার্থী শূন্যের কোটায় চলে আসে। পরে শিক্ষক ও স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেস্টার ফলে বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৪জন। এছাড়া এলাকায় যেসব পরিবার বসবাস করে তারা গরীব, দিনমজুরি করে খায়। বর্তমান এ স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য কোন উপবৃত্তি নেই, নেই মিডফিড এর ব্যবস্থা। কোন সুযোগ-সুবিধা না থাকার কারণে এ গ্রামের ছেলে-মেয়েরা কোন রকমে শিশু শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি শেষেই সুবিধা পাওয়ার জন্য চলে যায় পার্শ্ববতী বিদ্যালয়ে।
এদিকে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান শেখ জানান, এ গ্রামে তিনশ’র উপরে হিন্দু পরিবার বসবাস করতো। এখানে কোন মুসলিম পরিবার বসবাস করতো না। আমরা পার্শ্ববতী কুমড়ি দিঘলিয়া হতে প্রায় ২৪বছর আগে এ গ্রামে এসে বাড়ি করেছি। আমরা যখন এসেছি তখন ৬/৭ ঘর হিন্দু পরিবার ছিল। তারা এখান থেকে স্বেচ্ছায় ভারতে চলে যায়। তিনি আরো জানান স্কুলে আসা যাওয়ার ভাল রাস্তা নেই। রাস্তা হয়ে গেলে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী আসবে এবং ধরে রাখা সম্ভব হবে।
বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া ও তানজিরা বলে, আমাদের ক্লাসে ছাত্র/ছাত্রী চারজন। আমরা দুইজন নিয়মিত ক্লাসে আসি। অন্যরা আসে না। এখানে খেলাধুলার সাথি-সঙ্গি কম। ভাল লাগে না। প্রথম শ্রেণির সুলতানা ও আদরী বলে, আমাদের ক্লাসে ১২জন পড়ে, তার মধ্যি আমরা দুইজনই আসি। বেশি বন্ধুরা থাকলি ভাল লাগতো। এখানে কোন বিনোদনের ব্যবস্থাও নাই। আমাদের স্কুলে অন্য স্কুলের মতো দুপুরে টিফিন খাতি দেয় না।
বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের বেতন ভাতাসহ অন্যান্য সবকিছু মিলিয়ে ২৪জন শিক্ষার্থীর জন্য বছরে সরকারি রাজস্ব ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১২ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি শিক্ষার্থীর পিছনে বছরে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৫২ হাজার ৮৭৫ টাকা। বিগত ১৫ বছরের এ স্কুলে ১ কোটি ৯০ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। সেই হিসেবে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন প্রাপ্তি হয়নি। এ টাকা দিয়ে নির্মাণ করা যেতো আরো ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন। তাই সচেতন মহল মনে করেন, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা এবং উপস্থিতি বাড়ানোসহ লেখাপড়ার মানোন্নয়নে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।