লোহাগড়ার পাল সম্প্রদায় আগুন আতঙ্কে

196

নড়াইলকণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়ার কুন্দশী পালপাড়ায় দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে শতাধিক পরিবার। নাশকতার আশঙ্কায় রয়েছে পাল সম্প্রদায়ের নারী পুরুষরা।
গত বুধবার (২৩ নভেম্বর) ভোররাতে লোহাগড়া পৌর এলাকার কুন্দশী পালপাড়ার তিনটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোররাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কুন্দশী পালপাড়ার নিরোধ পালের গোয়ালঘর, পালসজ্জা কাজের ঘর ও দুটি গরু, পরিতোষ পালের খড়ের পালা এবং প্রফুল্ল পালের খড়ের পালায় আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় বাড়ির লোকজন চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতা করে এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর পর বুধবার সকালে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে ছুটে যান নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ, পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম, লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম রেজাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘সাধারণ শান্তি প্রিয় মানুষের শান্তি বিনষ্টকারীদের প্রতি কোনও ধরনের অনুকম্পা দেখানো হবে না। তাদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। নাশকতা করে কেউ রেহাই পাবে না। এসব সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’ ওই এলাকার সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল নিয়মিত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘অগ্নিসংযোগের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আশা করি দ্রুত আমরা তাদের গ্রেফতার করতে পারবো।’
কুন্দশী পালপাড়ার অধিবাসী গৌরী রানী পাল জানান, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এবং মে মাসে পাল সম্প্রদায়ের বাড়িতে আরও দুটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। গত ২৩ মে রাতে দুর্বৃত্তরা কুন্দশী গ্রামের পাল পাড়ার শিবু পাল বিষ্ণু পালের বাড়ির খড়ের পালায় এবং ৩ নভেম্বর রাতে জয়ন্ত পালের বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। পালপাড়ার অধিবাসী আশা রানী পাল (৮৫) বলেন, ‘ভয়ে রাতে ঘুম আসে না। ঘরে আগুন দেওয়ার পর থেকে পাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’
গ্রামের বাসিন্দা তপনপাল ও মহানন্দ পাল বলেন, ‘আমাদের রক্ষা করতে নিয়মিত পুলিশ পাহারা দরকার।’
স্থানীয় ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর শাহাদাৎ হোসেন শিকদার জানান, ‘মানুষের জান-মালের নিরাপত্তায় গ্রামের লোকদের নিয়ে ভিলেজ ডিফেন্স পার্টি গঠন করে গ্রাম পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’