যশোর হাসপাতালে সনাক’র উদ্যোগে মতবিনিময়

126

নড়াইলকণ্ঠ ডেস্ক ॥ যশোর, ২৩ নভেম্বর ২০১৬: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), যশোরের উদ্যোগে ২৩ নভেম্বর ২০১৬, বুধবার সকাল ৯টায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: শ্যামল কৃষ্ণ সাহা। সভা সঞ্চালনা করেন সনাক যশোরের সভাপতি এম. আর. খায়রুল উমাম। সভায় বক্তব্য দেন সনাক’র সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড: মো: মুস্তাফিজুর রহমান, হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা: একেএম কামরুল ইসলাম, ডা: রীনা ঘোষ, ডা: ইতি সাহা, ডা: হাসান আকন্দ, সিনিয়র স্টাফ নার্স নন্দ দুলাল হালদার, স্টুয়ার্ড মো: শাহজাহান, ওয়ার্ড মাস্টার ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার এ. এইচ. এম. আনিসুজ্জামান। সভায় হাসপাতালে সনাক যশোর কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম ও হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন সনাক’র স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির আহবায়ক মো: সাইফুজ্জামান মজু। এতে যে সকল সমস্যা উঠে আসে তা হলো- হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম প্রকট; অসময়ে হাসপাতালে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেঠিভদের আগমন; হাসপাতালের টয়লেটগুলোতে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে, টয়লেট প্রচন্ড দুর্গন্ধযুক্ত এবং বেশকিছু টয়লেটে দরজা নাই; ওয়ার্ডে ঔষধের তালিকা নিয়মিত আপডেট করা হয় না; প্যাথলজি টেস্টের তালিকা প্যাথলজি রুমের সামনে টাঙানো নেই; হাসপাতালে আগত রোগী ও রোগীর এ্যাটেন্ডেন্টদর প্রচন্ড ভিড়; বহি:বিভাগের ১১৪-১১৭নং রুমের সামনে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই; হাসপাতালে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা থাকলেও কোন কোন ডাক্তার বাইরে থেকে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন এবং নির্দিষ্ট হাসপাতাল/ক্লিনিকের নাম বলে দেন; ইসিজি করতে একজন রোগীর কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়েছেন কিন্তু কোন রশিদ দেন নাই; ওয়ার্ড বয়কে হুইল চেয়ার বা কোন সাহায্যের জন্য ডাকলে টাকা দিতে হয়। সমস্যা সমাধানে যে সকল সুপারিশ করা হয় তা হলো- হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম বন্ধে প্রতিনিয়ত ব্যবস্থা গ্রহণ; অসময়ে হাসপাতালে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেঠিভদের আগমন বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; হাসপাতাল আঙিনাসহ সর্বত্র নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, যে সকল টয়লেটে দরজা নাই সেগুলি জরুরী ভিত্তিতে মেরামত করা; ওয়ার্ডে ঔষধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা; প্যাথলজি টেস্টের তালিকা প্যাথলজি রুমের সামনে টাঙানো; হাসপাতালে আগত রোগী ও রোগীর এ্যাটেন্ডেনটদের ভিড় বন্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো; বহি:বিভাগের ১১৪-১১৭নং রুমের সামনে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা; যেসকল পরীক্ষা হাসপাতালে করার ব্যবস্থা রয়েছে সেগুলি যাতে এখান থেকেই রোগীরা করে সেজন্য পরামর্শ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ; কোন লেনদেন যাতে বিনা রশিদে না হয় সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা ও মনিটিরিং করা ও হাসপাতালে সেবার জন্য ওয়ার্ড বয়সহ কেউ যাতে টাকা নিতে না পারে তা মনিটরিং করা।
বিষয়গুলি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে সনাক’র অত্যন্ত প্রানবন্ত আলোচনা হয়। সমস্যা সমাধানে একে অপরের সহযোগী হিসেবে কাজ করার প্রত্যাশা করা হয়। উত্থাপিত সমস্যা সমাধোনে সাধ্যমত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ^াস দেন কর্তৃপক্ষ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ সনাক ও টিআইবি’র সহায়তা কামনা করেন। কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা ও সাধ্যের মধ্যে থেকে যতটুকু সম্ভব সমস্যাগুলি সমাধানের অঙ্গীকার করেন।