পদত্যাগ করে নির্বাচন করতে হবে প্রার্থীর

118

দেশে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর এ নির্বাচনে মেয়র পদে থেকে নির্বাচন করা যাবে না বলে জানিয়েছে ইসি। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জন্য ইসির জারি করা এক বিশেষ পরিপত্র থেকে এ তথ্য জানা যায়।
সম্প্রতি ইসির জারি করা বিশেষ পরিপত্রে বলা হয়, ‘সিটি করপোরেশন একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ বিধায় সিটি করপোরেশনের মেয়র পদটি রিট পিটিশন ৯১২৪/২০০৮ এ মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক লাভজনক পদ সাব্যস্ত করা হয়েছে। কাজেই স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৯ এর উপধারা (২) (ঙ) অনযায়ী মেয়র পদে অধিষ্ঠিত কোনো ব্যক্তি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে উক্ত ব্যক্তি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক হলে তাকে উক্ত পদ হতে পদত্যাগ করে প্রার্থী হতে হবে। কাউন্সিলর পদধারীগণ লাভজনক পদে সার্বক্ষণিক অধিষ্ঠিত নন বিধায় তাদেরকে পদত্যাগ না করে নির্বাচনে প্রার্থী হতে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির উপ-সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান বলেন, এটা আইনেই বলা আছে যে সিটি করপোরেশনের পদে বহাল থেকে সিটি করপোরেশনের মেয়ররা নির্বাচন করতে পারবেন না। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে তাকে অবশ্য পদত্যাগ করতে হবে।
কত দিন আগে পদত্যাগ করতে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর জন্য কোনো সময়সীমা দেওয়া নেই। যেকোনো সময় পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
গত সোমবার ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এই সিটিতে মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৪ নভেম্বর, মনোয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ২৬ ও ২৭ নভেম্বর। মনোনয়পত্র প্রতাহারের শেষ দিন ৪ ডিসেম্বর ও প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ৫ ডিসেম্বর এবং ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২২ ডিসেম্বর।
ইসির সংশ্লিষ্ট শাখা জানায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে একজন মেয়রের সঙ্গে ২৭টি সাধারণ ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোট হবে। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৯২ জন। এর মধ‌্যে পুরুষ ২ লাখ ৪১ হাজার ৫১৪ এবং নারী ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৭৮।
বর্তমান কমিশন দায়িত্বে আসার পর ২০১৩ সালের ১৫ জুন একসঙ্গে রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও খুলনা এ চার সিটি এবং সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম এ তিন সিটিতে একইদিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।