জেলা পরিষদের তফসিল রবিবার

169

নড়াইলকণ্ঠ ডেস্ক : দেশে প্রথমবারের মতো ৬১ জেলায় চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে জনপ্রতিনিধিদের ভোটে নির্বাচন হবে ২৮ ডিসেম্বর। এ নির্বাচনের তফসিল আগামী রোববার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনের প্রথম ভোটের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ঠিক করে দিয়েছে সরকার। আমরা প্রয়োজনীয় বাকি প্রস্তুতি শেষ করেছি।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, সম্ভাব্য সময়সূচিতে প্রার্থীদের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন, যাচাই-বাছাই ২ ও ৩ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ডিসেম্বর এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১০ ডিসেম্বর।
আইন অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের ভোটেই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হবেন। প্রতিটি জেলায় একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ ও পাঁচজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকবেন।
এ নির্বাচনে ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশের যে কোনো ভোটার প্রার্থী হতে পারবেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধি ছাড়া কেউ ভোট দিতে পারবেন না।
সংসদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন হলেও জেলা পরিষদ আইনে প্রত্যক্ষ ভোটের বিধান নেই। পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন পরোক্ষ ভোটে। জেলায় অন্তর্ভুক্ত সিটি করপোরেশন (যদি থাকে), উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।
এ হিসেবে স্থানীয় সরকারের চার ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬৭ হাজার নির্বাচিত প্রতিনিধি এ নির্বাচনে ভোট দেবেন।
এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি ভোটার ইউনিয়ন পরিষদে। দেশে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা সাড়ে চার ৪ হাজার। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে গড়ে ১৩ জন করে প্রায় ৬০ হাজারের মত নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছেন। ৪৮৮টি উপজেলা পরিষদে প্রায় দেড় হাজার; ৩২০টি পৌরসভায় সাড়ে ৫ হাজার এবং ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রায় সাড়ে ৫০০ নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছেন।
গত নভেম্বরে দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকারের সব স্তরে ভোটের জন্য বিল উপস্থাপন করা হলেও জেলা পরিষদের বিলটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তাই সিটি, পৌর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও জেলা পরিষদে তা হচ্ছে না।
সূত্র জানায়, পার্বত্য তিন জেলা বাদে বাকি ৬১ জেলায় এ ভোট হবে। এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ারও সুযোগ রয়েছে।
এর আগে ১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলায় একবারই সরাসরি নির্বাচন হয়েছিল। আর কোনো জেলা পরিষদ নির্বাচন হয়নি।
১৯৮৮ সালে এইচ এম এরশাদের সরকার প্রণীত স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে সরকার কর্তৃক নিয়োগ দেওয়ার বিধান ছিল; পরে আইনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচিত জেলা পরিষদ গঠনের জন্য নতুন আইন করে।
পাঁচ বছর মেয়াদী জেলা পরিষদগুলোতে বর্তমানে অনির্বাচিত প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ৬১ জেলায় আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার।
চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া জেলা পরিষদ সংশোধন অধ্যাদেশের আওতায় স্থানীয় সরকারের এ প্রতিষ্ঠানে নির্দলীয় নির্বাচন হচ্ছে। পরে জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০১৬’অনুযায়ী, এবার থেকে স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হবেন।