নড়াইলে অতিথি পাখি নিধন ॥ নির্বাক আইন

151

নড়াইলকণ্ঠ ডেস্ক : শীত শুরু হতে না হতেই নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন বিল-খাল ও জলাশয়ে অতিথি পাখিদের আগমন শুরু হয়েছে। আর পাখি শিকারীরা নির্বিচারে অতিথি পাখি নিধনের মহোৎসব শুরু করেছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রকাশ্যে এসব পাখি বিক্রিও হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকরী কোনও উদ্যোগ না থাকায় পাখি শিকারের প্রবণতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে প্রতিবছরের মতো এবারও সুদূর সাইবেরিয়া থেকে জেলার বিভিন্ন বিল ও জলাশয়ে প্রচুর অতিথি পাখি এসেছে। এতে পেশাদার-শৌখিন শিকারিরাও বিভিন্ন কায়দায় দেশি-বিদেশি অতিথি পাখি নিধনে তৎপর হয়ে উঠেছেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার চাঁচুড়ীর বিল, পাটেশ্বরী বিল, ভক্তডাঙ্গার বিলসহ ছোট-বড় বিলগুলোতে এবং নবগঙ্গা ও মধুমতি নদীর চরে শিকারিরা জালের ফাঁদ, বিষটোপ, কেউ ঢ্যাপের সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে,বড়শী ও লাইসেন্সকৃত বন্দুক ইত্যাদি দিয়ে নির্বিচারে পাখি নিধন করছে। এসব পাখি রসনাবিলাসীদের তৃপ্তি মেটানোর জন্য এলাকার হাটবাজারগুলোতে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। পাখি নিধন করার পর স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে দিবালোকে এসব পাখি বিক্রি হচ্ছে। বিক্রির প্রধান প্রধান পয়েন্ট হচ্ছে চাঁচুড়ী বাজার,কালিয়া বাজার,পুরুলিয়ার মোড়,রঘুনাথপুর মোড়সহ এলাকার হাটবাজারগুলো। নদী ও বিল এলাকাগুলোতে আগত দেশি-বিদেশি পাখির মধ্যে কালকুচ, হাঁসাদিঘি, ডুঙ্কর, কাদাখোঁচা, চেগা, কাচিচোরা, মদনটাক, শামুকখুলা, পানকৌড়ি, বক, ইত্যাদি পাখির সমারোহ রয়েছে।
কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেউ কেউ শখের বসে আর কেউ বা সহজলভ্য দেখে পাখি কিনছেন। অবলীলায় অতিথি পাখি ধরে শিকার করে বিক্রির কথা স্বীকারও করেছেন অতিথি পাখি শিকারিরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক এক পাখি শিকারী বলেন,‘ শীতের মৌসুমে এখানে প্রচুর পাখি আসে, পাখির মাংস খেতে সুস্বাদু, গোপনে স্থানীয় এমপি থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসনের অনেক কর্তাব্যক্তিদেরও বাসায় এসব পাখি চলে যায়। তাই পাখি ধরা দন্ডনীয় অপরাধ হলেও তাদের অসুবিধা হচ্ছেনা।’ পাখি বিক্রেতারা আরো জানায়, বাজারে তাদের নির্দিষ্ট পাখির ক্রেতা রয়েছে। প্রতি জোড়া ডুঙ্কর ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এছাড়া কালকুচ প্রতি জোড়া ৩০০টাকা,হাঁসাদিঘি প্রতি জোড়া ৫০০ থেকে ৬০০টাকা,কাদাখোঁচা,চেগা ও ছোট আকৃতির বিভিন্ন পাখি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় জোড়া পাওয়া যায়। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু করে রাতে নদীর তীর ও বিল এলাকা থেকে বিশেষ জাল দিয়ে ডুঙ্কর, কাদাখোঁচা,চেগা ও ছোট আকৃতির বিভিন্ন পাখি শিকার করে। আর বড় জাতের পাখিগুলো বন্দুকসহ অন্যান্য প্রক্রিয়ায় শিকার করা হয়।
এ ব্যাপারে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল ইসলাম বলেন,‘এক শ্রেণীর অসাধু লোক গোপনে পাখি শিকার করে বিক্রি করছেন। পাখি নিধন দন্ডনীয় অপরাধ। যারা এ সব অতিথি পাখি নিধন করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’