নড়াইল সদর হাসপাতালের ইউজার ফি’র ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে

107

স্টাফ রিপোর্টর : নড়াইল সদর হাসপাতালের ইউজার ফি’র ৭০ লাখ টাকা আতœসাতের অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে এর আগেও এই হাসপাতাল থেকে একই পদে থাকা ব্যক্তি ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার উর্দ্ধে অর্থ আত্মসাত করার অভিযোগে দুদকে মামলা হয়। হাসপাতালের হিসাব রক্ষকের এ অর্থ জমা দেওয়ার কথা। হিসাবরক্ষক ব্যাংকে অর্থ জমা দেওয়ার কিছু চালান দেখাচ্ছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছেন এসব চালান ভুয়া ও জাল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাহান আরা খানম লাকী ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই নড়াইল সদর হাসপাতালে হিসাবরক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। হাসপাতালের রোগি ভর্তি ফি, অপারেশান থিয়েটার, বহিঃ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা ফি, এক্সরে, প্যাথলজি, আলট্রাসনো ও ব্লাড ব্যাংক, কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহ ফি, অ্যাম্বুলেন্স, ইসিজি, কেবিন ও পেইন বেড ফিসহ বিভিন্ন খাত থেকে যে আয় হয় তা প্রতি মাসে একবার কওে নড়াইলের সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখায় জমা দিতে হয় এবং তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। কিন্তু বর্তমান হিসাবরক্ষক হাসপাতালে যোগদানের পর কোনো অর্থ জমা দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

একইভাবে এর আগেও নড়াইল সদর হাসপাতালের সাবেক এক হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে ৭ বছরের ইউজার ফি-এর ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার উর্দ্ধে অর্থ আতœসাতের অভিযোগ ওঠে যা এখন বিচারাধীন রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর হাসপাতালের সাবেক হিসাবরক্ষক মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত একইভাবে হাসপাতালের ইউজার ফি ব্যাংকে জমা না দিয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার উর্দ্ধে অর্থ আতœসাতের অভিযোগ ওঠে। মামলাটি এখন দুদক যশোর কার্যালয়ে বিচারাধীন। মামলা নং-৪/২০২০।

অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান হিসাবরক্ষক সদর হাসপাতালে যোগদানের পর ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের ৪৫ লাখ টাকা এবং ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের ৯ মাসের ২৫ লাখ টাকা ব্যংকে জমা দেননি। তবে তিনি সোনালী ব্যাংকে এসব অর্থ জমা দেওয়ার চালান দেখাচ্ছেন, যা ভুয়া বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম লাকি জানান, কিছু টাকা জমা দিতে বাকি আছে তা এক সপ্তাহের মধ্যে দিয়ে দেব। তবে কত টাকা বাকি রয়েছে তা বলতে পারেননি। এর বেশী আর কিছু বলতে চাননি তিনি।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুর শুকুর বলেন, ইউজার ফি সঠিকভাবে ব্যাংকে জমা পড়ছে কিনা তা যাচাই করার জন্য হিসাব রক্ষকের কাছ থেকে ব্যাংকের সই ও সিল স্বাক্ষরিত চালান নিয়ে গত মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সোনালী ব্যাংকে গিয়ে দেখি গত ২১ মাসে ৭০ লাখ টাকার এক টাকাও জমা পড়েনি। সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার জানিয়েছেন চালানগুলোর সই ও সিল তাদের না। এ ঘটনার পর হিসাব রক্ষককে বিষয়টি জানিয়েছি এবং ৩ দিনের মধ্যে সমুদয় অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য বলেছি এবং তার বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার জন্য তাকে চিঠি দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত হিসাব রক্ষককে পরবর্তীতে ইউজার ফি জমা দেওয়ার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নড়াইল সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ম্যানেজার মোঃ আবু সেলিম বলেন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহোদয় যেসব চালান নিয়ে ব্যাংকে এসেছিলেন তার কোনোটিই ব্যাংকে জমা পড়েনি।