নড়াইলে আর্ন্তজাতিক নারী দিবস পালিত

116

নড়াইল কণ্ঠ : ‘‘ অধিকার, মর্যাদায় নারী পুরুষ সমানে সমান’’ এ প্রতিপাদকে সামনে রেখে নড়াইলে পালিত হয়েছে আর্ন্তজাতিক নারী দিবস। এ উপলক্ষে নড়াইল জেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জাতীয় মহিলা সংস্থার আয়োজনে মঙ্গলবার (৮মার্চ) সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা মহিলা সংস্থার কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

র‌্যালি শেষে জেলা মহিলা সংস্থার হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় নড়াইল জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, প্রধান অতিথি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, জেলা আওয়ামী লীগের সNK_March_2016_058ভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের সধর্মীণী মিনতী রানী বোস, বিশেষ অতিথি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ নাছিমা খাতুন, জাতীয় মহিলা সংস্থা নড়াইলের চেয়ারম্যান সৈয়দা জাহানারা ওয়াহিদ, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রাবেয়া ইউসুফ, এডাব নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি ও সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান- সুপ্র’র জেলা সম্পাদক এবং নড়াইল কণ্ঠ এর সম্পাদক কাজী হা
ফিজুর রহমান, ব্র্যাক জেলা প্রতিনিধি বিভঞ্জন বিশ্বাস, ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রতিনিধি আবেদা সুলতানা, অ্যাডভোকেট রমা রানী রায়, নারী নেত্রী আঞ্জু মানা আরা, আফেরোজা খাতুন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট রওশন আরা লিলি এবং স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ আনিছুর রহমান।

NK_March_2016_059বক্তাদের মধ্য থেকে নড়াইল কণ্ঠ এর সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান সুপ্র ও এডাবের পক্ষ থেকে সরকারের নিকট বাস্তবায়নযোগ্য কিছু দাবি তুলে ধরেন। দাবি গুলি হলো – ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে নারী নির্যাতন বন্ধে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ; ক্রসকাটিং হিসাবে নয়, নারীর জন্য প্রতি মন্ত্রণালয়ে পৃথক বরাদ্দ; তৃণমূল অংশগ্রহণের মাধ্যমে নারীর প্রকৃত অবস্থান বিশ্লেষণপূবর্ক চাহিদা ভিত্তিক জেন্ডার বাজেট প্রণয়ন; দরিদ্র নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী কর্মসুচি গ্রহণ ও বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ; ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অবশ্যই নারীবান্ধব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন; উন্নয়নের সম-অংশীদার হিসেবে নারীকে তার শ্রমের মর্যাদা ও কৃষিতে নারী শ্রমিকের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য সুনিদ্দিষ্ট আইন প্রণয়ন ও বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ; নীতি প্রনয়ন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্তরগুলোতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ; প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে নারীর সম-অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়নের বিষয় অন্তর্ভূক্তকরণ; ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান করা।

উল্লেখ্য, সেলাই কারখানার হাজার হাজার নারী শ্রমিক শত বেড়াজাল উপেক্ষা করে ন্যায্য দাবি আদায়ের তাগিদে নেমে এসেছিলেন রাস্তায়-যাদের দাবি NK_March_2016_060ছিল ন্যায্য মজুরী, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, মাতৃকালীন ছুটি, আট ঘন্টা শ্রম নিশ্চিত করা; এই ছিল ৮ মার্চ এর সূচনা। এই দিনটিতে বিশ্বের প্রায় সকল দেশে নানা কর্মসূচি পালন করা হয় নারীর ন্যায্য অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন স্বরুপ। এই কর্মসূচি শুধু নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণের প্রয়াসই নয় বরং ভবিষ্যতের বৈষম্যহীন সমাজ তথা জাতি গঠনের প্রেরণা। শতবর্ষ পরে আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নারীর ক্ষমতায়ন ও অবস্থানের উন্নতির সাথে সাথে বৈষম্যের দিকটিও হতাশাজনকভাবে ফুটে ওঠে। এই চলমান বাস্তবতায় এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বৈশ্বিক শ্লোগান (থীম) নির্ধারিত হয়েছে ‘চষধহবঃ ৫০-৫০ নু ২০৩০: ঝঃবঢ় ওঃ টঢ় ভড়ৎ এবহফবৎ ঊয়ঁধষরঃু’ যার অর্থ দাড়ায় ‘অর্ধেক পুরুষ, অর্ধেক নারী; ২০৩০’র মধ্যে জেন্ডার সমতা গড়ি’।

অনুষ্ঠানে এডাব, সুশাসের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র, স্বাবলম্বী, আশার আলো ফাউন্ডেশন, সিকদার ফাউন্ডেশন রোভা, ব্র্যাক, বাঁচতে শেখা, ডেমোক্রেসি ওয়াচ, ওয়ার্ল্ড ভিশন, ঢাকা আহসানিয়া মিশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।