বিএনপির শীর্ষ দুই পদে দুই আসামি -হাসিনা

148

নড়াইল কণ্ঠ : বিএনপির শীর্ষ দুই পদে পুনর্র্নিবাচিত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকার তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই দলটি জনগণকে কিছু দিতে পারবে না। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে সোমবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় একথা বলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

বিএনপির কাউন্সিলকে ‘নাটক’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, “কাকে নির্বাচিত করল? দুজনই আসামি, একজন এতিমের টাকা চুরি করার মামলার আসামি, আরেকজন তো ২১ অগাস্ট মামলার পলাতক আসামি, তার নাম ইন্টারপোলে ওয়ান্টেড তালিকায় আছে। “তাহলে এই দল আর কী দেবে ?”

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের দিকটি ইঙ্গিত করেও শেখ হাসিনা বলেন, “অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীর দল মানুষকে কী দেবে? তারা এদেশের রাজনীতিকে কলুষিত করছে।”

সোমবার বিকাল ৩টার আগে ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্যে দিয়ে এ জনসভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, মাহাবুব-উল আলম হানিফ, দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম জনসভায় বক্তব্য দেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাইদ খোকন, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার, এ কে এম রহমতুল্লাহ, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা আবু কাওসার, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পদক জাকির হোসাইনও সমাবেশে বক্তব্য দেন।

সমাবেশ উপলক্ষে সকাল থেকেই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন। সমাবেশ মঞ্চের মাইক থেকে সকাল থেকে বাজানো হয় বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, দেশাত্মবোধক গান।

সুদীর্ঘকালের আপসহীন আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।

সে দিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের জনসমুদ্রে তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম- আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম- স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

তার ওই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। আর দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র লড়াইয়ের পথ ধরে আসে স্বাধীনতা।