ফেসবুকে প্রতারণায় বিদেশিরা, সাবধান!

140

নড়াইল কণ্ঠ : ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে প্রতারণার ফাঁদ পাতছে বিদেশিরাও। এদেশে বসবাসকারী আফ্রিকানরা ইউরোপের নাগরিক পরিচয়ে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে আর্থিকভাবে স্বচ্ছলদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। র‌্যাবের ধারাবাহিক অভিযানে এমন একটি প্রতারক চক্র ধরা পড়েছে, যেখানে ১৪ জনের ১২ জনই বিদেশি।
র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা আর্ন্তজাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সদস্য। আফ্রিকার তিন দেশের ১২ জন অবৈধভাবে এ দেশে থেকে অনলাইনে প্রতারণা করছিলেন। তারা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ট্যাংগোসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্ব বা প্রেমের ফাঁদ পাতেন। এই চক্রের ফাঁদে পড়েছেন খুলনার এক চাকরিজীবী নারী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী চিকিৎসক এবং রাঙামাটির এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাসহ বেশ কয়েকজন।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা, খিলক্ষেত, ভাটারাসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৪ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- নাইজেরিয়ান নাগরিক আইব্যা (৩০), কেসি (৩০), অ্যাডউইন (৩৫), ইমনোয়ার (৩৩), কসমডস আলকুজমুজিন ওকিউলিজি (৫১), জোসোয়া (২৭), ইব্রাহিম (২৭), জাসোনামা (৪১) ও বিসেন্স (২৯), ক্যামেরুনের নাগরিক ওসমান (২৯), সানজো (৩৬), আনট প্রিজো (৪২) এবং কঙ্গোর একজন (২৯)। তাঁদের সহযোগী বাংলাদেশের নাগরিক মামুন মোকাররম (৩৮) ও সুলতান মাহমুদকে (২৬) উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একাধিক করে মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব, ওয়াইফাই (রাউটার), পাওয়ার ব্যাংক, পাসপোর্ট এবং ডলারসহ বাংলাদেশি টাকা উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব কর্মকর্তারা আরো জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি একই ধরনের আরেকটি প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় আফ্রিকার তিন দেশের ১২ নাগরিক ধরা পড়েছে।
র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান, আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারক চক্রটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় অর্থ হাতিয়ে নিতো। বিদেশিদের অধিকাংশই অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। নাইজেরিয়ান কেসি ও আইব্যা দীর্ঘদিন বাংলাদেশে থাকায় বাংলায় অনর্গল কথা বলতে পারেন। তারা উত্তরার সেক্টর-১৪, রোড-১৫ এর ৯ নম্বর বাড়িতে থাকেন।
তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ আরো জানান, অপরাধীরা খুলনায় বসবাসরত একজন নারী চাকরীজীবী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী চিকিৎসক, রাঙামাটির প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাসহ অনেক ভিকটিমের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে সক্ষ্যতা গড়ে তোলে। একজন ‘স্কট মারি’ ছদ্মনামে ব্রিটিশ নাগরিক পরিচয়ে খুলনার নারী এবং অন্যজন ‘ডেসমন্ড বি স্যামুয়েল’ নামে ব্রিটিশ নাগরিক পরিচয়ে ডাক্তারের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। এ সূত্রে তারা বিদেশ থেকে কিছু উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছেন বলে জানান এবং একে কেন্দ্র করেই ভিকটিমকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন। ‘স্কট মারি’ পরিচয়ে খুলনার নারীকে লন্ডন থেকে দামি উপহার পাঠানোর কথা বলা হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ওই নারীকে সাইফুল নামে একজন ফোন করে জানান, শাহজালাল বিমানবন্দরের ঢাকা কাস্টমস অফিস থেকে তিনি কথা বলছেন। লন্ডন থেকে তার নামে একটি পার্সেল এসেছে, পার্সেলটির পরিবহন এবং অন্যান্য চার্জ বাবদ ৬০ হাজার টাকা খরচ হবে। ওই টাকা পাঠালে পার্সেলটি তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে। খুলনার ভিকটিম সরল মনে তার কথা বিশ্বাস করে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পরই সাইফুলের মোবাইল ফোন বন্ধ পান।
এরপর তিনি ঢাকায় এসে র‌্যাবের কাছে অভিযোগ দেন। র‌্যাব প্রথমে বাংলাদেশি মামুন ও সুলতানকে গ্রেপ্তার করে। তারা প্রতারক চক্র সম্পর্কে তথ্য দেন। একই কায়দায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলের এক চিকিৎসকের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে ১১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তারা। র‌্যাব অভিযান চালিয়ে পুরো চক্রটিকে গ্রেপ্তার করেছে।
র‌্যাব কর্মকর্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশী সহযোগীদের মাধ্যমে চক্রটি টার্গেট খুঁজতে থাকে। পরবর্তীতে যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে টার্গেট নারী বা পুরুষের ফেসবুক আইডি বের করে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। এসব ক্ষেত্রে তাঁরা খুবই সুদর্শন আমেরিকান বা ইউরোপীয় পরিচয় দেন। বন্ধুত্ব গাঢ় হওয়ার পর তারা প্রেমের প্রস্তাব দেন। এরপর বিভিন্ন উপহার পাঠিয়ে সম্পর্কটাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে টাকা হাতিয়ে নেন।